রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) রাকসু নেতাদের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং পরবর্তী হামলার ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সন্ত্রাসীবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) চিকিৎসা শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেফতার দুই শিক্ষার্থী হলেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাস এবং সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. গাজিউর রহমান। তিনি জানান, শাহ মখদুম থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্তে তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত রোববার সংস্কৃত বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীর অভিযোগকে কেন্দ্র করে। ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী মহসিন আলম প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাকে হুমকি দিয়েছেন। অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানের উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে আনাস, মাহমুদুল হাসানসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং একপর্যায়ে প্রক্টরের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরদিন সোমবার বিষয়টি নিয়ে আবারও বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে আনাসের মোবাইল ফোনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে তার ছবি পাওয়া যায় বলে দাবি করেন রাকসু নেতারা। এরপর প্রক্টর দপ্তরে তাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে।
পরে বিকেলে আনাস, মাহমুদুলসহ কয়েকজন রাকসু ভবনে গিয়ে হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে রাকসুর তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক নাজমুস সাকিব আহত হন। ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে আশ্রয় নিলে সেখানে ঢুকেও তাদের মারধরের অভিযোগ ওঠে।
আনাস দাবি করেন, রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তাকে প্রথমে প্রক্টর দপ্তরে এবং পরে গ্রন্থাগারের ভেতরে মারধর করেন। তিনি আরও বলেন, অতীতে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে তোলা ছবিকে কেন্দ্র করে তাকে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও তিনি কখনো ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান দাবি করেন, হামলার ঘটনায় শিবিরের কোনো কর্মী জড়িত ছিলেন না। তাদের ভাষ্য, রাকসু নেতাদের ওপর হামলার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন।
রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, রাকসু ভবনে তাদের ওপর হামলার পর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও নড়েচড়ে বসেছে। উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং তদন্তের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এস.আর

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) রাকসু নেতাদের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং পরবর্তী হামলার ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সন্ত্রাসীবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) চিকিৎসা শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেফতার দুই শিক্ষার্থী হলেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাস এবং সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. গাজিউর রহমান। তিনি জানান, শাহ মখদুম থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্তে তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত রোববার সংস্কৃত বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীর অভিযোগকে কেন্দ্র করে। ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী মহসিন আলম প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাকে হুমকি দিয়েছেন। অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানের উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে আনাস, মাহমুদুল হাসানসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং একপর্যায়ে প্রক্টরের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরদিন সোমবার বিষয়টি নিয়ে আবারও বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে আনাসের মোবাইল ফোনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে তার ছবি পাওয়া যায় বলে দাবি করেন রাকসু নেতারা। এরপর প্রক্টর দপ্তরে তাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে।
পরে বিকেলে আনাস, মাহমুদুলসহ কয়েকজন রাকসু ভবনে গিয়ে হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে রাকসুর তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক নাজমুস সাকিব আহত হন। ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে আশ্রয় নিলে সেখানে ঢুকেও তাদের মারধরের অভিযোগ ওঠে।
আনাস দাবি করেন, রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তাকে প্রথমে প্রক্টর দপ্তরে এবং পরে গ্রন্থাগারের ভেতরে মারধর করেন। তিনি আরও বলেন, অতীতে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে তোলা ছবিকে কেন্দ্র করে তাকে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও তিনি কখনো ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান দাবি করেন, হামলার ঘটনায় শিবিরের কোনো কর্মী জড়িত ছিলেন না। তাদের ভাষ্য, রাকসু নেতাদের ওপর হামলার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন।
রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, রাকসু ভবনে তাদের ওপর হামলার পর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও নড়েচড়ে বসেছে। উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং তদন্তের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এস.আর

আপনার মতামত লিখুন