ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

হাতে বই, মনে সবুজের অঙ্গীকার—কিশোরগঞ্জে জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী সংবর্ধনা



হাতে বই, মনে সবুজের অঙ্গীকার—কিশোরগঞ্জে জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী সংবর্ধনা

জাতীয় পর্যায়ে কিশোরগঞ্জের মুখ উজ্জ্বল করা কৃতী শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী উপায়ে সম্মাননা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রচলিত ক্রেস্ট বা স্মারকের পাশাপাশি বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে জ্ঞানের প্রতীক বই এবং পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা বহনকারী নিম গাছের চারা। “বই হাতে, সবুজের অঙ্গীকার মনে”—এই মানবিক ও সচেতনতামূলক ভাবনাকে সামনে রেখে আয়োজিত এ উদ্যোগ উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা–২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্ব অর্জনকারী কিশোরগঞ্জ জেলার শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

চিত্রাঙ্কন, উপস্থিত বক্তৃতা এবং পল্লীগীতি—এই তিনটি সৃজনশীল বিভাগে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিন।

সম্মাননা হিসেবে তিনি শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন গুণী লেখকের বই এবং একটি করে ঔষধি গুণসম্পন্ন নিম গাছের চারা তুলে দেন। এ সময় তিনি বলেন, “একটি বই শুধু কয়েকটি কাগজের পৃষ্ঠা নয়, এটি একটি শিশুর চিন্তা, কল্পনা ও জ্ঞানচর্চার বিশাল দুয়ার উন্মোচন করে। অন্যদিকে একটি গাছের চারা শিশুর মনে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং একটি সবুজ বাংলাদেশের প্রতি দায়বদ্ধতার বীজ রোপণ করে। আমরা চাই আমাদের সন্তানরা শুধু লেখাপড়ায় নয়, মনন, মূল্যবোধ ও মানবিকতায়ও সেরা হয়ে উঠুক।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার। তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়। জাতীয় পর্যায়ে কিশোরগঞ্জের শিক্ষার্থীদের এ সাফল্য জেলার শিক্ষা অঙ্গনের জন্য গর্বের এবং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিজয়ী শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্ব অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে বই ও নিমগাছের চারা উপহার পেয়ে শিক্ষার্থীরা আনন্দ প্রকাশ করে। অভিভাবকরাও এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও শিক্ষণীয় উল্লেখ করে বলেন, এমন সম্মাননা শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলবে এবং একই সঙ্গে পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করবে।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষা ও পরিবেশ—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে একসূত্রে গেঁথে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। একটি বই যেমন জ্ঞান ও সৃজনশীলতার আলো ছড়িয়ে দেয়, তেমনি একটি গাছ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

জেলা প্রশাসনের মতে, জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্ব অর্জনকারী এসব শিক্ষার্থীর সাফল্য কিশোরগঞ্জের জন্য গর্বের। তাদের এই অর্জন জেলার অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করবে এবং শিক্ষা, মানবিকতা ও পরিবেশ সচেতনতার সমন্বয়ে একটি সমৃদ্ধ, আলোকিত ও সবুজ বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


হাতে বই, মনে সবুজের অঙ্গীকার—কিশোরগঞ্জে জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী সংবর্ধনা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

জাতীয় পর্যায়ে কিশোরগঞ্জের মুখ উজ্জ্বল করা কৃতী শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী উপায়ে সম্মাননা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রচলিত ক্রেস্ট বা স্মারকের পাশাপাশি বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে জ্ঞানের প্রতীক বই এবং পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা বহনকারী নিম গাছের চারা। “বই হাতে, সবুজের অঙ্গীকার মনে”—এই মানবিক ও সচেতনতামূলক ভাবনাকে সামনে রেখে আয়োজিত এ উদ্যোগ উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা–২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্ব অর্জনকারী কিশোরগঞ্জ জেলার শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

চিত্রাঙ্কন, উপস্থিত বক্তৃতা এবং পল্লীগীতি—এই তিনটি সৃজনশীল বিভাগে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিন।

সম্মাননা হিসেবে তিনি শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন গুণী লেখকের বই এবং একটি করে ঔষধি গুণসম্পন্ন নিম গাছের চারা তুলে দেন। এ সময় তিনি বলেন, “একটি বই শুধু কয়েকটি কাগজের পৃষ্ঠা নয়, এটি একটি শিশুর চিন্তা, কল্পনা ও জ্ঞানচর্চার বিশাল দুয়ার উন্মোচন করে। অন্যদিকে একটি গাছের চারা শিশুর মনে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং একটি সবুজ বাংলাদেশের প্রতি দায়বদ্ধতার বীজ রোপণ করে। আমরা চাই আমাদের সন্তানরা শুধু লেখাপড়ায় নয়, মনন, মূল্যবোধ ও মানবিকতায়ও সেরা হয়ে উঠুক।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার। তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়। জাতীয় পর্যায়ে কিশোরগঞ্জের শিক্ষার্থীদের এ সাফল্য জেলার শিক্ষা অঙ্গনের জন্য গর্বের এবং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিজয়ী শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্ব অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে বই ও নিমগাছের চারা উপহার পেয়ে শিক্ষার্থীরা আনন্দ প্রকাশ করে। অভিভাবকরাও এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও শিক্ষণীয় উল্লেখ করে বলেন, এমন সম্মাননা শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলবে এবং একই সঙ্গে পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করবে।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষা ও পরিবেশ—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে একসূত্রে গেঁথে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। একটি বই যেমন জ্ঞান ও সৃজনশীলতার আলো ছড়িয়ে দেয়, তেমনি একটি গাছ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

জেলা প্রশাসনের মতে, জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্ব অর্জনকারী এসব শিক্ষার্থীর সাফল্য কিশোরগঞ্জের জন্য গর্বের। তাদের এই অর্জন জেলার অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করবে এবং শিক্ষা, মানবিকতা ও পরিবেশ সচেতনতার সমন্বয়ে একটি সমৃদ্ধ, আলোকিত ও সবুজ বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ