নওগাঁয় ভুয়া দলিল তৈরি করে জমির প্রকৃত মালিককে উচ্ছেদ এবং জমি জবরদখলের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চার সহোদর ভাইয়ের জামিন বাতিল করেছেন আদালত। একই সঙ্গে আগামী ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে নতুন করে জামিনের আবেদন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে চার আসামির মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপর তিনজন বর্তমানে পলাতক।
আদালতের নথি সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৮-এ বিচারাধীন সিআর মামলা নং-৭৬৬/২০২৫ (নওগাঁ)-এর চার আসামিই আপন সহোদর ভাই। তাদের বিরুদ্ধে পরস্পরের যোগসাজশে ভুয়া দলিল তৈরি ও ব্যবহার করে জমির মালিকানা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি এবং সেই দলিলের ভিত্তিতে প্রকৃত মালিককে উচ্ছেদ করে জমি দখলের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অন্যতম আসামি মতিউর রহমান সোনার (পিতা: মোকসেদ সোনার), গ্রামের বাড়ি নওগাঁ সদর উপজেলার চক্রামচন্দ্র। আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ২৫ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। মামলার অপর তিন আসামি, যারা মতিউর রহমানের আপন সহোদর, এখনও পলাতক রয়েছেন।
নথি অনুযায়ী, গত ২৬ এপ্রিল নিম্ন আদালত চার আসামিকে জামিন দেন। পরে ওই আদেশের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ রিভিশন আবেদন করলে আদালত তা শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। বাদীপক্ষের দাবি ছিল, আসামিরা ভূমি দখলের সঙ্গে জড়িত এবং জামিনে মুক্ত থাকলে একই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা রয়েছে। তাই তাদের জামিন বাতিলের আবেদন জানানো হয়।
মামলার নথি পর্যালোচনায় আদালত দেখতে পান, আসামিদের বিরুদ্ধে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৪(ক), ৪(২) ও ১৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে ভুয়া দলিল তৈরি ও ব্যবহার করে অন্যের জমি দখল এবং প্রকৃত মালিককে উচ্ছেদের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া নওগাঁ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধিত একটি দলিলের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, দলিলটি জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে এবং সেটিকে ভিত্তি করেই জমির প্রকৃত মালিককে উচ্ছেদ করে জমি দখল করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, ভুয়া দলিল তৈরি করে অন্যের জমির মালিকানা দাবি করা এবং প্রকৃত মালিককে উচ্ছেদ করে জমি দখল করা গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা না নিলে সামাজিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভূমি ও সম্পত্তির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
সব দিক বিবেচনায় আদালত নিম্ন আদালতের দেওয়া জামিন আদেশকে আইনসংগত ও ন্যায়সংগত নয় বলে অভিমত দেন। ফলে রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে চার আসামির জামিন বাতিল করা হয় এবং আগামী ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হওয়া মতিউর রহমান সোনারকে আদালতে পাঠানো হলেও মামলার বাকি তিন আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।
মামলাটি এখন বিচারাধীন। ফলে ভুয়া দলিল প্রস্তুত, প্রকৃত মালিককে উচ্ছেদ এবং জমি জবরদখলের অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে নির্ধারিত হবে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬
নওগাঁয় ভুয়া দলিল তৈরি করে জমির প্রকৃত মালিককে উচ্ছেদ এবং জমি জবরদখলের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চার সহোদর ভাইয়ের জামিন বাতিল করেছেন আদালত। একই সঙ্গে আগামী ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে নতুন করে জামিনের আবেদন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে চার আসামির মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপর তিনজন বর্তমানে পলাতক।
আদালতের নথি সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৮-এ বিচারাধীন সিআর মামলা নং-৭৬৬/২০২৫ (নওগাঁ)-এর চার আসামিই আপন সহোদর ভাই। তাদের বিরুদ্ধে পরস্পরের যোগসাজশে ভুয়া দলিল তৈরি ও ব্যবহার করে জমির মালিকানা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি এবং সেই দলিলের ভিত্তিতে প্রকৃত মালিককে উচ্ছেদ করে জমি দখলের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অন্যতম আসামি মতিউর রহমান সোনার (পিতা: মোকসেদ সোনার), গ্রামের বাড়ি নওগাঁ সদর উপজেলার চক্রামচন্দ্র। আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ২৫ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। মামলার অপর তিন আসামি, যারা মতিউর রহমানের আপন সহোদর, এখনও পলাতক রয়েছেন।
নথি অনুযায়ী, গত ২৬ এপ্রিল নিম্ন আদালত চার আসামিকে জামিন দেন। পরে ওই আদেশের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ রিভিশন আবেদন করলে আদালত তা শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। বাদীপক্ষের দাবি ছিল, আসামিরা ভূমি দখলের সঙ্গে জড়িত এবং জামিনে মুক্ত থাকলে একই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা রয়েছে। তাই তাদের জামিন বাতিলের আবেদন জানানো হয়।
মামলার নথি পর্যালোচনায় আদালত দেখতে পান, আসামিদের বিরুদ্ধে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৪(ক), ৪(২) ও ১৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে ভুয়া দলিল তৈরি ও ব্যবহার করে অন্যের জমি দখল এবং প্রকৃত মালিককে উচ্ছেদের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া নওগাঁ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধিত একটি দলিলের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, দলিলটি জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে এবং সেটিকে ভিত্তি করেই জমির প্রকৃত মালিককে উচ্ছেদ করে জমি দখল করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, ভুয়া দলিল তৈরি করে অন্যের জমির মালিকানা দাবি করা এবং প্রকৃত মালিককে উচ্ছেদ করে জমি দখল করা গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা না নিলে সামাজিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভূমি ও সম্পত্তির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
সব দিক বিবেচনায় আদালত নিম্ন আদালতের দেওয়া জামিন আদেশকে আইনসংগত ও ন্যায়সংগত নয় বলে অভিমত দেন। ফলে রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে চার আসামির জামিন বাতিল করা হয় এবং আগামী ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হওয়া মতিউর রহমান সোনারকে আদালতে পাঠানো হলেও মামলার বাকি তিন আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।
মামলাটি এখন বিচারাধীন। ফলে ভুয়া দলিল প্রস্তুত, প্রকৃত মালিককে উচ্ছেদ এবং জমি জবরদখলের অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে নির্ধারিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন