ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

নিখোঁজের ৬ দিন পর মিলল বিচ্ছিন্ন মাথা ও মাটিচাপা দেহ


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬

নিখোঁজের ৬ দিন পর মিলল বিচ্ছিন্ন মাথা ও মাটিচাপা দেহ
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় নিখোঁজের ছয় দিন পর সোহেল মিয়া (২৬) নামে এক যুবকের বিচ্ছিন্ন মাথা ও মাটিচাপা দেওয়া দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৩ জুলাই) রাতে সদর উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের অম্বিকাগঞ্জ কলেজসংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত সোহেল মিয়া ওই এলাকার নূরুল ইসলাম নূরুদ্দিনের ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। জীবিকার তাগিদে তিনি গাছ কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৬ জুলাই রাত ৮টার দিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই সোহেল নিখোঁজ ছিলেন। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে বুধবার সকালে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে অম্বিকাগঞ্জ কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণের কাজ চলাকালে দুর্গন্ধ পেয়ে শিক্ষক ও কর্মচারীরা খোঁজ নিতে গিয়ে একটি বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাথাটি উদ্ধার করা হয়। এরপর আশপাশে খনন চালিয়ে রাত পৌনে ৯টার দিকে কয়েক ফুট গভীর থেকে মাথাবিহীন দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের পরনের কাপড় দেখে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি সোহেলের বলে শনাক্ত করেন।

নিহতের শ্বশুর আলাল উদ্দিনের দাবি, সোহেল ও তার ভগ্নিপতি সেলিম মিয়া একসঙ্গে গাছ কাটার কাজ করতেন। পারিশ্রমিক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, পাওনা টাকা নিয়ে সোহেলকে একাধিকবার মারধরও করা হয়েছিল। পরে তিনি ঢাকায় গিয়ে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। সম্প্রতি বাড়িতে ফিরে এলে ১৬ জুলাই রাতে কাজ দেওয়ার কথা বলে সেলিম তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকেই সোহেলের কোনো খোঁজ মেলেনি। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সেলিম এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন বলে পরিবারের অভিযোগ।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, উদ্ধার করা মাথা ও দেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পিবিআইয়ের আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরাও পরনের কাপড় দেখে মরদেহটি সোহেলের বলে শনাক্ত করেছেন। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



এস.আর 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


নিখোঁজের ৬ দিন পর মিলল বিচ্ছিন্ন মাথা ও মাটিচাপা দেহ

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় নিখোঁজের ছয় দিন পর সোহেল মিয়া (২৬) নামে এক যুবকের বিচ্ছিন্ন মাথা ও মাটিচাপা দেওয়া দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৩ জুলাই) রাতে সদর উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের অম্বিকাগঞ্জ কলেজসংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত সোহেল মিয়া ওই এলাকার নূরুল ইসলাম নূরুদ্দিনের ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। জীবিকার তাগিদে তিনি গাছ কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৬ জুলাই রাত ৮টার দিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই সোহেল নিখোঁজ ছিলেন। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে বুধবার সকালে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে অম্বিকাগঞ্জ কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণের কাজ চলাকালে দুর্গন্ধ পেয়ে শিক্ষক ও কর্মচারীরা খোঁজ নিতে গিয়ে একটি বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাথাটি উদ্ধার করা হয়। এরপর আশপাশে খনন চালিয়ে রাত পৌনে ৯টার দিকে কয়েক ফুট গভীর থেকে মাথাবিহীন দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের পরনের কাপড় দেখে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি সোহেলের বলে শনাক্ত করেন।

নিহতের শ্বশুর আলাল উদ্দিনের দাবি, সোহেল ও তার ভগ্নিপতি সেলিম মিয়া একসঙ্গে গাছ কাটার কাজ করতেন। পারিশ্রমিক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, পাওনা টাকা নিয়ে সোহেলকে একাধিকবার মারধরও করা হয়েছিল। পরে তিনি ঢাকায় গিয়ে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। সম্প্রতি বাড়িতে ফিরে এলে ১৬ জুলাই রাতে কাজ দেওয়ার কথা বলে সেলিম তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকেই সোহেলের কোনো খোঁজ মেলেনি। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সেলিম এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন বলে পরিবারের অভিযোগ।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, উদ্ধার করা মাথা ও দেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পিবিআইয়ের আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরাও পরনের কাপড় দেখে মরদেহটি সোহেলের বলে শনাক্ত করেছেন। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



এস.আর 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ