ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ঘোড়াঘাটে বিতর্কিত চার্জশিট ও ওসির অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন



ঘোড়াঘাটে বিতর্কিত চার্জশিট ও ওসির অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন
ঘোড়াঘাটে বিতর্কিত চার্জশিট ও ওসির অপসারণের দাবিতে পৌর ছাত্রদল ও ভুক্তভোগী পরিবারের মানববন্ধন

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামার চার্জশিটকে কেন্দ্র করে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। চার্জশিটে মূল আসামিদের আড়াল করা হয়েছে এবং ঘুষের বিনিময়ে তদন্তে অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে ওসি, তদন্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সার্কেল এএসপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১১টায় ঘোড়াঘাট থানার সামনে পুরাতন বাজার এলাকায় ঘোড়াঘাট পৌর ছাত্রদল ও ভুক্তভোগী পরিবারের ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

বক্তারা দাবি করেন, গত বছরের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা (মামলা নং-০৭, জি.আর. নং-১২৯/২৪)-এর তদন্তে প্রকৃত অভিযুক্তদের বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং ঘোড়াঘাট-হাকিমপুর সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যোগসাজশ করে অর্থের বিনিময়ে বিতর্কিত চার্জশিট দাখিল করেছেন।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঘোড়াঘাট পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র মো. আবদুস সাত্তার মিলন অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের রক্ষা করতে মামলার তদন্তকে প্রভাবিত করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, থানাকে কেন্দ্র করে ঘুষ-বাণিজ্য, মাদক কারবারে প্রশ্রয় এবং বিভিন্ন অনিয়ম চলছে, যার কারণে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

তিনি বলেন, তাদের অভিযোগ পুরো পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে নয়; বরং নির্দিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে, যারা অর্থের বিনিময়ে বিতর্কিত চার্জশিট দাখিল করেছেন। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

একই সঙ্গে মামলার চার্জশিট পুনর্বিবেচনা করে বাদ পড়া অভিযুক্তদের অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

অভিযোগের বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, মামলাটি মনিটরিং সেলে যাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত সম্পন্ন করে ৫২ জনকে আসামি করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অবৈধ লেনদেন বা অনিয়মের সুযোগ ছিল না।

অন্যদিকে ঘোড়াঘাট-হাকিমপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আ. ন. ম. নিয়ামত উল্লাহ বলেন, তাদের বিরুদ্ধে যে কেউ অভিযোগ আনতে পারেন। কোনো সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন।

উল্লেখ্য, মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো আন্দোলনকারীদের বক্তব্য। অন্যদিকে ওসি ও সার্কেল এএসপি অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তদন্ত বা বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।



এস.আর 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ঘোড়াঘাটে বিতর্কিত চার্জশিট ও ওসির অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামার চার্জশিটকে কেন্দ্র করে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। চার্জশিটে মূল আসামিদের আড়াল করা হয়েছে এবং ঘুষের বিনিময়ে তদন্তে অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে ওসি, তদন্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সার্কেল এএসপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১১টায় ঘোড়াঘাট থানার সামনে পুরাতন বাজার এলাকায় ঘোড়াঘাট পৌর ছাত্রদল ও ভুক্তভোগী পরিবারের ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

বক্তারা দাবি করেন, গত বছরের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা (মামলা নং-০৭, জি.আর. নং-১২৯/২৪)-এর তদন্তে প্রকৃত অভিযুক্তদের বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং ঘোড়াঘাট-হাকিমপুর সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যোগসাজশ করে অর্থের বিনিময়ে বিতর্কিত চার্জশিট দাখিল করেছেন।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঘোড়াঘাট পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র মো. আবদুস সাত্তার মিলন অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের রক্ষা করতে মামলার তদন্তকে প্রভাবিত করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, থানাকে কেন্দ্র করে ঘুষ-বাণিজ্য, মাদক কারবারে প্রশ্রয় এবং বিভিন্ন অনিয়ম চলছে, যার কারণে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

তিনি বলেন, তাদের অভিযোগ পুরো পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে নয়; বরং নির্দিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে, যারা অর্থের বিনিময়ে বিতর্কিত চার্জশিট দাখিল করেছেন। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

একই সঙ্গে মামলার চার্জশিট পুনর্বিবেচনা করে বাদ পড়া অভিযুক্তদের অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

অভিযোগের বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, মামলাটি মনিটরিং সেলে যাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত সম্পন্ন করে ৫২ জনকে আসামি করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অবৈধ লেনদেন বা অনিয়মের সুযোগ ছিল না।

অন্যদিকে ঘোড়াঘাট-হাকিমপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আ. ন. ম. নিয়ামত উল্লাহ বলেন, তাদের বিরুদ্ধে যে কেউ অভিযোগ আনতে পারেন। কোনো সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন।

উল্লেখ্য, মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো আন্দোলনকারীদের বক্তব্য। অন্যদিকে ওসি ও সার্কেল এএসপি অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তদন্ত বা বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।



এস.আর 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ