জনপ্রত্যাশা পূরণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পূর্ণ রাজনৈতিক পক্ষপাতমুক্ত থেকে দেশপ্রেম, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে, শাসক হিসেবে নয়।
রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর শাহবাগে বিসিএস প্রশাসন একাডেমি মিলনায়তনে ‘জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত চার দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘দক্ষ, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন: সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন কর্মকৌশল’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে বিসিএস প্রশাসন একাডেমি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সিপিটি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিভিল সার্ভিস রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। অতীতের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক রাজনীতিকরণের ধারা থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের আস্থা অর্জনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। সেই প্রত্যাশা পূরণে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে দায়িত্বশীলতা ও সেবামুখী মানসিকতা গড়ে তোলা জরুরি। শুধু আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার জন্য কর্মশালা বা কর্মসূচি গ্রহণ না করে সেগুলোর বাস্তব সুফল যেন সাধারণ মানুষ পায়, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজেদের জনগণের শাসক নয়, বরং সেবক হিসেবে বিবেচনা করে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নিয়ম ও আইনের বাইরে কোনো কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি সতর্ক করেন।
সঠিক নীতি প্রণয়নের জন্য নির্ভুল তথ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন পরিসংখ্যান বিকৃত করা হয়েছে। আদমশুমারি, কৃষি উৎপাদন ও মাথাপিছু আয়সহ বিভিন্ন সূচকে ভুল তথ্য উপস্থাপনের কারণে নীতিনির্ধারণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-কে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে কৃষি ও রেমিট্যান্স খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে কেন্দ্র করে কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার প্রসারের ওপর জোর দেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে পুনরায় সক্রিয় করার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
নীতিনির্ধারণ ও প্রশাসনের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও নীতির আলোকে প্রশাসনের দায়িত্ব হলো কর্মসূচি ও প্রকল্প প্রণয়ন, বাস্তবায়ন এবং যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করা। নির্বাচিত সরকারের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার ও ৩১ দফা অঙ্গীকার বিধি অনুযায়ী বাস্তবায়ন করাই সরকারি কর্মকর্তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
এস.আর/উবা

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬
জনপ্রত্যাশা পূরণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পূর্ণ রাজনৈতিক পক্ষপাতমুক্ত থেকে দেশপ্রেম, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে, শাসক হিসেবে নয়।
রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর শাহবাগে বিসিএস প্রশাসন একাডেমি মিলনায়তনে ‘জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত চার দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘দক্ষ, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন: সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন কর্মকৌশল’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে বিসিএস প্রশাসন একাডেমি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সিপিটি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিভিল সার্ভিস রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। অতীতের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক রাজনীতিকরণের ধারা থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের আস্থা অর্জনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। সেই প্রত্যাশা পূরণে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে দায়িত্বশীলতা ও সেবামুখী মানসিকতা গড়ে তোলা জরুরি। শুধু আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার জন্য কর্মশালা বা কর্মসূচি গ্রহণ না করে সেগুলোর বাস্তব সুফল যেন সাধারণ মানুষ পায়, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজেদের জনগণের শাসক নয়, বরং সেবক হিসেবে বিবেচনা করে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নিয়ম ও আইনের বাইরে কোনো কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি সতর্ক করেন।
সঠিক নীতি প্রণয়নের জন্য নির্ভুল তথ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন পরিসংখ্যান বিকৃত করা হয়েছে। আদমশুমারি, কৃষি উৎপাদন ও মাথাপিছু আয়সহ বিভিন্ন সূচকে ভুল তথ্য উপস্থাপনের কারণে নীতিনির্ধারণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-কে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে কৃষি ও রেমিট্যান্স খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে কেন্দ্র করে কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার প্রসারের ওপর জোর দেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে পুনরায় সক্রিয় করার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
নীতিনির্ধারণ ও প্রশাসনের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও নীতির আলোকে প্রশাসনের দায়িত্ব হলো কর্মসূচি ও প্রকল্প প্রণয়ন, বাস্তবায়ন এবং যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করা। নির্বাচিত সরকারের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার ও ৩১ দফা অঙ্গীকার বিধি অনুযায়ী বাস্তবায়ন করাই সরকারি কর্মকর্তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
এস.আর/উবা

আপনার মতামত লিখুন