রোয়াংছড়ি,সংবাদদাতাঃ চিংনুমং মারমা।
প্রকৃতির অমোঘ ও নির্মম রুদ্ররূপের মুখে দাঁড়িয়ে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার কৃষি অর্থনীতিতে নেমে এসেছে এক অপূরণীয় বিপর্যয়। গত আট দিনের অবিরাম ও পর্বতপ্রমাণ বর্ষণ এবং তৎসংলগ্ন উজান থেকে নেমে আসা প্রলয়ংকরী পাহাড়ি ঢলের তোড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে শত শত প্রান্তিক কৃষকের রক্তজল করা পরিশ্রমে গড়া জীবিকার সম্বল। বানের পানির অতল গর্ভে বিলীন হয়েছে মাইলের পর মাইল ফসলি জমি, সবজিক্ষেত, মৎস্য খামার ও কৃষকের লালিত স্বপ্ন।
বন্যার পানি যতখানি না জনপদকে নিমজ্জিত করেছে, তার চেয়েও বহু গুণ বেশি নিমজ্জিত করেছে এই অঞ্চলের কৃষিজীবী মানুষের ভাগ্যকে। উপজেলার বাজারপাড়া, ওয়াগইপাড়া, বটলীপাড়া, লাপাইগইপাড়া, গ্রোক্ষ্যংপাড়া, কাইন্তারমুখপাড়া, অংগ্যপাড়া, রেতছড়ামুখ ও তালুকদারপাড়াসহ বিভিন্ন দুর্গম ও সমতল এলাকার প্রান্তিক জনপদে এখন শুধু হাহাকার আর নিঃস্বতার প্রতিধ্বনি। কয়েক দিনের ব্যবধানে বছরের সঞ্চয় এবং একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে কৃষকেরা এখন সম্পূর্ণ দিশেহারা ও চরম অস্তিত্ব সংকটে পতিত হয়েছেন।
রোয়াংছড়ির এক ভাগ্যাহত কৃষকের অশ্রুসজল কণ্ঠের আর্তনাদে ফুটে উঠেছে সামগ্রিক এই ক্ষয়ক্ষতির এক মর্মস্পর্শী চিত্র। রুদ্ধশ্বাসে এবং অবরুদ্ধ আবেগে চোখের জল মুছতে মুছতে তিনি বলেন, ‘আমার স্বপ্ন, পরিশ্রম করে গড়া সব শেষ। বানের পানিতে সব মূলধন ভেসে গেছে। এখন বাঁচার আর কোনো পথ দেখি না।’ এই একটি বাক্য যেন কেবল কোনো একক ব্যক্তির বিলাপ নয়, বরং চার ইউনিয়নের শতাধিক সর্বস্বান্ত কৃষকের বুকফাঁটা আর্তনাদেরই সামষ্টিক বহিঃপ্রকাশ।
ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিতে গিয়ে স্থানীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে, আকস্মিক এই জলপ্লাবনের কারণে মাঠের পর মাঠ পরিপক্ব ফসল ও সবজি পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পুঁজিসর্বস্ব মৎস্য চাষীদের পুকুর ভেসে গিয়ে কোটি টাকার মাছ উন্মুক্ত জলাশয়ে অপসৃত হয়েছে। কৃষি খামারগুলোর অবর্ণনীয় ক্ষতিসাধন হওয়ায় আগামী দিনগুলোতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক দীর্ঘমেয়াদী স্থবিরতা ও খাদ্য সংকটের আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে।
প্রকৃতির এই আকস্মিক ও নির্দয় কষাঘাতে বিপর্যস্ত রোয়াংছড়ির কৃষি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং নিঃস্ব চাষীদের পুনর্বাসনের লক্ষে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং পুনর্বাসন প্যাকেজ ঘোষণা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, এই অঞ্চলের কৃষকেরা আর কখনোই স্বাবলম্বী হওয়ার মূল স্রোতে ফিরে আসতে পারবেন না বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬
রোয়াংছড়ি,সংবাদদাতাঃ চিংনুমং মারমা।
প্রকৃতির অমোঘ ও নির্মম রুদ্ররূপের মুখে দাঁড়িয়ে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার কৃষি অর্থনীতিতে নেমে এসেছে এক অপূরণীয় বিপর্যয়। গত আট দিনের অবিরাম ও পর্বতপ্রমাণ বর্ষণ এবং তৎসংলগ্ন উজান থেকে নেমে আসা প্রলয়ংকরী পাহাড়ি ঢলের তোড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে শত শত প্রান্তিক কৃষকের রক্তজল করা পরিশ্রমে গড়া জীবিকার সম্বল। বানের পানির অতল গর্ভে বিলীন হয়েছে মাইলের পর মাইল ফসলি জমি, সবজিক্ষেত, মৎস্য খামার ও কৃষকের লালিত স্বপ্ন।
বন্যার পানি যতখানি না জনপদকে নিমজ্জিত করেছে, তার চেয়েও বহু গুণ বেশি নিমজ্জিত করেছে এই অঞ্চলের কৃষিজীবী মানুষের ভাগ্যকে। উপজেলার বাজারপাড়া, ওয়াগইপাড়া, বটলীপাড়া, লাপাইগইপাড়া, গ্রোক্ষ্যংপাড়া, কাইন্তারমুখপাড়া, অংগ্যপাড়া, রেতছড়ামুখ ও তালুকদারপাড়াসহ বিভিন্ন দুর্গম ও সমতল এলাকার প্রান্তিক জনপদে এখন শুধু হাহাকার আর নিঃস্বতার প্রতিধ্বনি। কয়েক দিনের ব্যবধানে বছরের সঞ্চয় এবং একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে কৃষকেরা এখন সম্পূর্ণ দিশেহারা ও চরম অস্তিত্ব সংকটে পতিত হয়েছেন।
রোয়াংছড়ির এক ভাগ্যাহত কৃষকের অশ্রুসজল কণ্ঠের আর্তনাদে ফুটে উঠেছে সামগ্রিক এই ক্ষয়ক্ষতির এক মর্মস্পর্শী চিত্র। রুদ্ধশ্বাসে এবং অবরুদ্ধ আবেগে চোখের জল মুছতে মুছতে তিনি বলেন, ‘আমার স্বপ্ন, পরিশ্রম করে গড়া সব শেষ। বানের পানিতে সব মূলধন ভেসে গেছে। এখন বাঁচার আর কোনো পথ দেখি না।’ এই একটি বাক্য যেন কেবল কোনো একক ব্যক্তির বিলাপ নয়, বরং চার ইউনিয়নের শতাধিক সর্বস্বান্ত কৃষকের বুকফাঁটা আর্তনাদেরই সামষ্টিক বহিঃপ্রকাশ।
ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিতে গিয়ে স্থানীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে, আকস্মিক এই জলপ্লাবনের কারণে মাঠের পর মাঠ পরিপক্ব ফসল ও সবজি পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পুঁজিসর্বস্ব মৎস্য চাষীদের পুকুর ভেসে গিয়ে কোটি টাকার মাছ উন্মুক্ত জলাশয়ে অপসৃত হয়েছে। কৃষি খামারগুলোর অবর্ণনীয় ক্ষতিসাধন হওয়ায় আগামী দিনগুলোতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক দীর্ঘমেয়াদী স্থবিরতা ও খাদ্য সংকটের আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে।
প্রকৃতির এই আকস্মিক ও নির্দয় কষাঘাতে বিপর্যস্ত রোয়াংছড়ির কৃষি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং নিঃস্ব চাষীদের পুনর্বাসনের লক্ষে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং পুনর্বাসন প্যাকেজ ঘোষণা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, এই অঞ্চলের কৃষকেরা আর কখনোই স্বাবলম্বী হওয়ার মূল স্রোতে ফিরে আসতে পারবেন না বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

আপনার মতামত লিখুন