নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদক উদ্ধার অভিযানে গিয়ে থানা পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) এবং পুলিশের দুই কথিত ‘সোর্স’ গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সচেতন মহলে সমালোচনার ঝড় তুলেছে। এই ঘটনা আবারও একটি পুরোনো ও মারাত্মক প্রশ্নকে সামনে এনেছে—আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য অপরাধ দমনে যাদের ব্যবহার করছেন, তারা আসলে সোর্স নাকি নিজেরাই অপরাধের মূল হোতা?
সরেজমিনে ফতুল্লা এবং নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয় জনগণের সাথে কথা বলে এক ভয়াবহ চিত্র ও তীব্র ক্ষোভের কথা জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ফতুল্লাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরাই মূলত মাদক বিক্রির মূল এজেন্ট বা ডিলার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফতুল্লা এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, পুলিশের সাথে সোর্স হিসেবে ঘুরে বেড়ানোই এদের একমাত্র ঢাল। এই পরিচয়ের আড়ালে তারা দিব্যি মাদক বিক্রির এক বিশাল সিন্ডিকেট বা ‘হাট’ সাজিয়ে বসেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ:
মাদক বিক্রির লাইসেন্স: সোর্স পরিচয় দিয়ে এরা নির্বিঘ্নে এলাকায় মাদক ব্যবসা চালায়। কেউ প্রতিবাদ করলে উল্টো পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়।
দাগী আসামিই যখন সোর্স: সরেজমিনে তদন্তে দেখা গেছে, পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করা অনেকের বিরুদ্ধেই মাদক, অস্ত্র বা হত্যা মামলার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। কেউ কেউ জেল খেটে জামিনে এসেই রাতারাতি পুলিশের ‘ডান হাত’ বনে গেছে।
অভিযানের নামে চাঁদাবাজি: সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এই সোর্সরা নিরীহ মানুষকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। অনেক সময় পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে বা কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে তারা এই অপকর্ম করে।
স্থানীয় এক প্রবীণ নাগরিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অপরাধীদের দিয়ে কীভাবে অপরাধী ধরা সম্ভব? যে নিজে মাদক ব্যবসায়ী, সে অন্য মাদক ব্যবসায়ীকে ধরবে কীভাবে? সে তো তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে সরিয়ে নিজের ব্যবসা একচ্ছত্র করার জন্যই পুলিশকে ব্যবহার করে।”
ফতুল্লার এই ঘটনা এবং সোর্সদের এমন বেপরোয়া আচরণের পেছনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু কর্মকর্তার হাত রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গুটি কয়েক অসাধু কর্মকর্তার অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার মানসিকতার কারণে আজ পুরো পুলিশ বাহিনী এবং রাষ্ট্রীয় আইন সংস্থাগুলো সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
এর ফলে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটছে। সাধারণ মানুষ পুলিশের ওপর থেকে আস্থা হারাচ্ছে, যা একটি সুস্থ সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিপদে পড়ে পুলিশের কাছে যাওয়ার চেয়ে মানুষ এখন পুলিশ ও তাদের সোর্সদের এড়িয়ে চলাকেই নিরাপদ মনে করছে।
ফতুল্লার ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করছেন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এই বিষয়ে প্রশাসনের মনোভাব এবং গৃহীত পদক্ষেপগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সোর্স নির্ভরতা কমানোর তাগিদ: ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, ঢালাওভাবে অপরাধীদের সোর্স হিসেবে ব্যবহার করার দিন শেষ। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি এবং সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহায়তায় এখন অপরাধী সনাক্ত করা অনেক সহজ। তাই সোর্সদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
২. বিতর্কিত সোর্সদের তালিকা তৈরি: জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ফতুল্লার ঘটনার পর বিতর্কিত এবং অপরাধের রেকর্ড থাকা সোর্সদের একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। কোনো সোর্সের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা বা চাঁদাবাজির প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে সাধারণ অপরাধীর মতোই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩. অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সোর্সদের মদদ দেওয়া বা মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে যোগসাজশের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে বিভাগীয় তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ক্লোজড (প্রত্যাহার), সাসপেন্ড (সাময়িক বরখাস্ত) বা চাকরিচ্যুতির মতো কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সোর্স কালচারের এই অন্ধকার দিক থেকে বেরিয়ে আসতে এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিশেষজ্ঞরা কিছু জরুরি সমাধানের কথা বলছেন:
সোর্সদের কঠোর নজরদারি: পুলিশ কাকে সোর্স হিসেবে ব্যবহার করছে, তার ব্যাকগ্রাউন্ড বা অতীত ইতিহাস কঠোরভাবে যাচাই করতে হবে। কোনো দাগী আসামি বা মাদক ব্যবসায়ীকে সোর্স বানানো যাবে না।
ডিজিটাল ও প্রযুক্তিগত তদন্ত: সোর্সদের দেওয়া তথ্যের ওপর অন্ধভাবে ভরসা না করে প্রযুক্তির সাহায্য (যেমন- সিসিটিভি ফুটেজ, কল রেকর্ড, ট্র্যাকিং) নিয়ে অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার: অপরাধ দমনে বিতর্কিত সোর্সদের বাদ দিয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, ও যুবসমাজকে নিয়ে ‘কমিউনিটি পুলিশিং’ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে হবে।
জনগণের সাথে সরাসরি যোগাযোগ: পুলিশকে সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি যোগাযোগের পথ সুগম করতে হবে, যাতে মানুষ কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা সোর্সের সাহায্য ছাড়াই সরাসরি অপরাধের তথ্য পুলিশকে দিতে পারে।
ফতুল্লার গণধোলাইয়ের ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। কিছু অসাধু সোর্সের জন্য পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে দেওয়া যায় না। পুলিশ প্রশাসন যত দ্রুত এই ‘অপরাধী সোর্স’ সিন্ডিকেট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবে, জনগণের মাঝে রাষ্ট্রীয় আইনের প্রতি আস্থা তত দ্রুত ফিরে আসবে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদক উদ্ধার অভিযানে গিয়ে থানা পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) এবং পুলিশের দুই কথিত ‘সোর্স’ গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সচেতন মহলে সমালোচনার ঝড় তুলেছে। এই ঘটনা আবারও একটি পুরোনো ও মারাত্মক প্রশ্নকে সামনে এনেছে—আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য অপরাধ দমনে যাদের ব্যবহার করছেন, তারা আসলে সোর্স নাকি নিজেরাই অপরাধের মূল হোতা?
সরেজমিনে ফতুল্লা এবং নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয় জনগণের সাথে কথা বলে এক ভয়াবহ চিত্র ও তীব্র ক্ষোভের কথা জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ফতুল্লাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরাই মূলত মাদক বিক্রির মূল এজেন্ট বা ডিলার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফতুল্লা এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, পুলিশের সাথে সোর্স হিসেবে ঘুরে বেড়ানোই এদের একমাত্র ঢাল। এই পরিচয়ের আড়ালে তারা দিব্যি মাদক বিক্রির এক বিশাল সিন্ডিকেট বা ‘হাট’ সাজিয়ে বসেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ:
মাদক বিক্রির লাইসেন্স: সোর্স পরিচয় দিয়ে এরা নির্বিঘ্নে এলাকায় মাদক ব্যবসা চালায়। কেউ প্রতিবাদ করলে উল্টো পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়।
দাগী আসামিই যখন সোর্স: সরেজমিনে তদন্তে দেখা গেছে, পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করা অনেকের বিরুদ্ধেই মাদক, অস্ত্র বা হত্যা মামলার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। কেউ কেউ জেল খেটে জামিনে এসেই রাতারাতি পুলিশের ‘ডান হাত’ বনে গেছে।
অভিযানের নামে চাঁদাবাজি: সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এই সোর্সরা নিরীহ মানুষকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। অনেক সময় পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে বা কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে তারা এই অপকর্ম করে।
স্থানীয় এক প্রবীণ নাগরিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অপরাধীদের দিয়ে কীভাবে অপরাধী ধরা সম্ভব? যে নিজে মাদক ব্যবসায়ী, সে অন্য মাদক ব্যবসায়ীকে ধরবে কীভাবে? সে তো তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে সরিয়ে নিজের ব্যবসা একচ্ছত্র করার জন্যই পুলিশকে ব্যবহার করে।”
ফতুল্লার এই ঘটনা এবং সোর্সদের এমন বেপরোয়া আচরণের পেছনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু কর্মকর্তার হাত রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গুটি কয়েক অসাধু কর্মকর্তার অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার মানসিকতার কারণে আজ পুরো পুলিশ বাহিনী এবং রাষ্ট্রীয় আইন সংস্থাগুলো সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
এর ফলে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটছে। সাধারণ মানুষ পুলিশের ওপর থেকে আস্থা হারাচ্ছে, যা একটি সুস্থ সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিপদে পড়ে পুলিশের কাছে যাওয়ার চেয়ে মানুষ এখন পুলিশ ও তাদের সোর্সদের এড়িয়ে চলাকেই নিরাপদ মনে করছে।
ফতুল্লার ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করছেন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এই বিষয়ে প্রশাসনের মনোভাব এবং গৃহীত পদক্ষেপগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সোর্স নির্ভরতা কমানোর তাগিদ: ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, ঢালাওভাবে অপরাধীদের সোর্স হিসেবে ব্যবহার করার দিন শেষ। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি এবং সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহায়তায় এখন অপরাধী সনাক্ত করা অনেক সহজ। তাই সোর্সদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
২. বিতর্কিত সোর্সদের তালিকা তৈরি: জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ফতুল্লার ঘটনার পর বিতর্কিত এবং অপরাধের রেকর্ড থাকা সোর্সদের একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। কোনো সোর্সের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা বা চাঁদাবাজির প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে সাধারণ অপরাধীর মতোই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩. অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সোর্সদের মদদ দেওয়া বা মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে যোগসাজশের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে বিভাগীয় তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ক্লোজড (প্রত্যাহার), সাসপেন্ড (সাময়িক বরখাস্ত) বা চাকরিচ্যুতির মতো কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সোর্স কালচারের এই অন্ধকার দিক থেকে বেরিয়ে আসতে এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিশেষজ্ঞরা কিছু জরুরি সমাধানের কথা বলছেন:
সোর্সদের কঠোর নজরদারি: পুলিশ কাকে সোর্স হিসেবে ব্যবহার করছে, তার ব্যাকগ্রাউন্ড বা অতীত ইতিহাস কঠোরভাবে যাচাই করতে হবে। কোনো দাগী আসামি বা মাদক ব্যবসায়ীকে সোর্স বানানো যাবে না।
ডিজিটাল ও প্রযুক্তিগত তদন্ত: সোর্সদের দেওয়া তথ্যের ওপর অন্ধভাবে ভরসা না করে প্রযুক্তির সাহায্য (যেমন- সিসিটিভি ফুটেজ, কল রেকর্ড, ট্র্যাকিং) নিয়ে অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার: অপরাধ দমনে বিতর্কিত সোর্সদের বাদ দিয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, ও যুবসমাজকে নিয়ে ‘কমিউনিটি পুলিশিং’ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে হবে।
জনগণের সাথে সরাসরি যোগাযোগ: পুলিশকে সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি যোগাযোগের পথ সুগম করতে হবে, যাতে মানুষ কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা সোর্সের সাহায্য ছাড়াই সরাসরি অপরাধের তথ্য পুলিশকে দিতে পারে।
ফতুল্লার গণধোলাইয়ের ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। কিছু অসাধু সোর্সের জন্য পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে দেওয়া যায় না। পুলিশ প্রশাসন যত দ্রুত এই ‘অপরাধী সোর্স’ সিন্ডিকেট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবে, জনগণের মাঝে রাষ্ট্রীয় আইনের প্রতি আস্থা তত দ্রুত ফিরে আসবে।

আপনার মতামত লিখুন