উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে কয়েকদিন ধরেই চলছে তীব্র তাপদাহ। প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না অনেকেই। তবে এই দাবদাহের মধ্যেও গ্রামবাংলার চিরচেনা এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য নজর কাড়ছে সবার। একদিকে মহেন্দ্রচালিত ট্রাক্টর দিয়ে চলছে জমি চাষের কাজ, অন্যদিকে সেই চাষের পেছনেই মাছ ধরার ছোট্ট উৎসবে মেতেছেন গ্রামের নারী-পুরুষ ও শিশুরা।
রবিবার (৫ জুলাই) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে কৃষিজমিতে এমন দৃশ্য দেখা যায়। জমিতে মহেন্দ্র দিয়ে হালচাষ করার সময় মাটির নিচে ও জমে থাকা পানিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ ওপরে উঠে আসে। আর সেই সুযোগ কাজে লাগাতে জাল, খালুই, ডালা ও ছোট ছোট পাত্র নিয়ে জমিতে নেমে পড়েন স্থানীয়রা।
কেউ হাত দিয়ে, কেউ ছোট জাল দিয়ে, আবার কেউ খালুই নিয়ে মাছ ধরতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ। শিশুদের কোলাহল, বড়দের হাসি-আনন্দ আর মাছ ধরার প্রতিযোগিতা যেন গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকেই নতুন করে ফিরিয়ে আনে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে জমিতে পানি জমলে দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ আশ্রয় নেয়। পরে জমি চাষের সময় সেসব মাছ ওপরে উঠে আসে। এমন দৃশ্য দেখলেই আশপাশের মানুষ ছুটে আসেন মাছ ধরতে। এটি শুধু মাছ সংগ্রহের বিষয় নয়, বরং গ্রামের মানুষের কাছে একটি আনন্দঘন মুহূর্ত এবং এক ধরনের সামাজিক মিলনমেলাও বটে।
মাছ ধরতে আসা আতিকুল বলেন, “এখন অনেক জায়গায় আগের মতো দেশীয় মাছ পাওয়া যায় না। তাই জমিতে হালচাষের সময় মাছ উঠলে সবাই মিলে ধরতে নেমে পড়ি। প্রচণ্ড গরম থাকলেও এই আনন্দ মিস করতে চাই না।”
স্থানীয়দের মতে, আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার কারণে গ্রামবাংলার অনেক পুরোনো ঐতিহ্য হারিয়ে গেলেও হালচাষের পেছনে মাছ ধরার এই দৃশ্য এখনও গ্রামীণ জীবনের একটি আনন্দময় অধ্যায় হয়ে আছে।
তীব্র তাপদাহে যখন মানুষ হাঁসফাঁস করছে, তখন ঠাকুরগাঁওয়ের এই ব্যতিক্রমী চিত্র যেন প্রকৃতি, কৃষি ও মানুষের নিবিড় সম্পর্কেরই এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। মহেন্দ্রের পিছু পিছু মাছ ধরার এই উৎসব গ্রামবাংলার সরল জীবনযাপন ও ঐতিহ্যের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ধরা দিয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬
উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে কয়েকদিন ধরেই চলছে তীব্র তাপদাহ। প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না অনেকেই। তবে এই দাবদাহের মধ্যেও গ্রামবাংলার চিরচেনা এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য নজর কাড়ছে সবার। একদিকে মহেন্দ্রচালিত ট্রাক্টর দিয়ে চলছে জমি চাষের কাজ, অন্যদিকে সেই চাষের পেছনেই মাছ ধরার ছোট্ট উৎসবে মেতেছেন গ্রামের নারী-পুরুষ ও শিশুরা।
রবিবার (৫ জুলাই) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে কৃষিজমিতে এমন দৃশ্য দেখা যায়। জমিতে মহেন্দ্র দিয়ে হালচাষ করার সময় মাটির নিচে ও জমে থাকা পানিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ ওপরে উঠে আসে। আর সেই সুযোগ কাজে লাগাতে জাল, খালুই, ডালা ও ছোট ছোট পাত্র নিয়ে জমিতে নেমে পড়েন স্থানীয়রা।
কেউ হাত দিয়ে, কেউ ছোট জাল দিয়ে, আবার কেউ খালুই নিয়ে মাছ ধরতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ। শিশুদের কোলাহল, বড়দের হাসি-আনন্দ আর মাছ ধরার প্রতিযোগিতা যেন গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকেই নতুন করে ফিরিয়ে আনে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে জমিতে পানি জমলে দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ আশ্রয় নেয়। পরে জমি চাষের সময় সেসব মাছ ওপরে উঠে আসে। এমন দৃশ্য দেখলেই আশপাশের মানুষ ছুটে আসেন মাছ ধরতে। এটি শুধু মাছ সংগ্রহের বিষয় নয়, বরং গ্রামের মানুষের কাছে একটি আনন্দঘন মুহূর্ত এবং এক ধরনের সামাজিক মিলনমেলাও বটে।
মাছ ধরতে আসা আতিকুল বলেন, “এখন অনেক জায়গায় আগের মতো দেশীয় মাছ পাওয়া যায় না। তাই জমিতে হালচাষের সময় মাছ উঠলে সবাই মিলে ধরতে নেমে পড়ি। প্রচণ্ড গরম থাকলেও এই আনন্দ মিস করতে চাই না।”
স্থানীয়দের মতে, আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার কারণে গ্রামবাংলার অনেক পুরোনো ঐতিহ্য হারিয়ে গেলেও হালচাষের পেছনে মাছ ধরার এই দৃশ্য এখনও গ্রামীণ জীবনের একটি আনন্দময় অধ্যায় হয়ে আছে।
তীব্র তাপদাহে যখন মানুষ হাঁসফাঁস করছে, তখন ঠাকুরগাঁওয়ের এই ব্যতিক্রমী চিত্র যেন প্রকৃতি, কৃষি ও মানুষের নিবিড় সম্পর্কেরই এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। মহেন্দ্রের পিছু পিছু মাছ ধরার এই উৎসব গ্রামবাংলার সরল জীবনযাপন ও ঐতিহ্যের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ধরা দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন