ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মাদক উদ্ধারের নামে লুটপাট: ফতুল্লায় চুরির মামলায় এসআই কারাগারে, পুলিশের কার্যক্রমে স্থবিরতা



মাদক উদ্ধারের নামে লুটপাট: ফতুল্লায় চুরির মামলায় এসআই কারাগারে, পুলিশের কার্যক্রমে স্থবিরতা

আইনশৃঙ্খলা রক্ষার আড়ালে খোদ পুলিশের বিরুদ্ধেই মাদক অভিযানের নামে সাধারণ মানুষের সর্বস্ব লুটে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার কর্তৃক মাদক উদ্ধারের নামে সোনার চেইন চুরির ঘটনা এবং পরবর্তীতে তার গ্রেপ্তারের পর জেলা পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে।

অভিযান চালাতে গিয়ে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার এমন চুরির মামলায় জড়িয়ে পড়ার ঘটনা নৈতিক স্খলনকে যেমন সামনে এনেছে, তেমনি ফতুল্লা মডেল থানার অন্যান্য অফিসারদের মাঝেও এটি এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও চাপা ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। চুরির দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া এসআই খায়রুল বাশার বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী আছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফতুল্লা এলাকায় মাদক উদ্ধারের এক তথাকথিত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযানে যান এসআই খায়রুল বাশার। কিন্তু মাদক উদ্ধারের নামে সেখানে তল্লাশির আড়ালে স্বর্ণের চেইন চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবার দমে না গিয়ে আইনের আশ্রয় নিলে বিষয়টি জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নজরে আসে। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর এসআই খায়রুলের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয় এবং তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। বিজ্ঞ বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

একজন সহকর্মীর এমন অপকর্ম ও গ্রেপ্তারের পর ফতুল্লা মডেল থানার ভেতরে পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র চাপা ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই ক্ষোভ অপরাধের বিরুদ্ধে নয়, বরং সহকর্মীর এমন প্রকাশ্য গ্রেপ্তারে নিজেদের 'সুরক্ষা দেয়াল' ভেঙে যাওয়ার কারণে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, এই ঘটনার পর থেকে থানার অফিসাররা এক ধরণের অদ্ভুত আতঙ্কে ভুগছেন। মাদক, অস্ত্র কিংবা পরোয়ানাভুক্ত আসামি ধরার ক্ষেত্রে তারা এখন এক ধরণের অনীহা বা ঢিলেমি দেখাচ্ছেন।

অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে: "পুলিশ মূলত নিজেদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে এখন ব্যাকফুটে চলে গেছে। অভিযান চালাতে গিয়ে ফেঁসে যাওয়ার ভয়—এটি মূলত অপরাধ লুকাতে না পারারই এক ধরণের আতঙ্ক।

শিল্পাঞ্চল ফতুল্লায় পুলিশের এমন অপকর্ম এবং তার জেরে মাঠ পর্যায়ের পুলিশি কার্যক্রমে স্থবিরতার কারণে এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পুলিশ যখন নিজেই চুরির মামলায় জড়িয়ে পড়ে, তখন অপরাধীদের মনে পুলিশের আর কোনো ভয় থাকে না।

পুলিশের এই নৈতিক পরাজয় এবং গা-বাঁচিয়ে চলার নীতির সুযোগ নিয়ে এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাং এবং ছিনতাইকারীরা নতুন করে বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পুলিশের এই চুরির ঘটনা ও পরবর্তী থমথমে পরিস্থিতিতে সাধারণ ফতুল্লাবাসী চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এলাকাবাসীর স্পষ্ট দাবি—অপরাধী পুলিশ হোক বা সাধারণ নাগরিক, আইন সবার জন্য সমান হতে হবে। পুলিশের অপরাধের কারণে সাধারণ মানুষ কেন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে?

সচেতন মহল মনে করছেন, ফতুল্লা মডেল থানার সামগ্রিক কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বাড়িয়ে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাই এখন জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য জেলা পুলিশের হাই কমান্ডকে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


মাদক উদ্ধারের নামে লুটপাট: ফতুল্লায় চুরির মামলায় এসআই কারাগারে, পুলিশের কার্যক্রমে স্থবিরতা

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

আইনশৃঙ্খলা রক্ষার আড়ালে খোদ পুলিশের বিরুদ্ধেই মাদক অভিযানের নামে সাধারণ মানুষের সর্বস্ব লুটে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার কর্তৃক মাদক উদ্ধারের নামে সোনার চেইন চুরির ঘটনা এবং পরবর্তীতে তার গ্রেপ্তারের পর জেলা পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে।

অভিযান চালাতে গিয়ে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার এমন চুরির মামলায় জড়িয়ে পড়ার ঘটনা নৈতিক স্খলনকে যেমন সামনে এনেছে, তেমনি ফতুল্লা মডেল থানার অন্যান্য অফিসারদের মাঝেও এটি এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও চাপা ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। চুরির দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া এসআই খায়রুল বাশার বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী আছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফতুল্লা এলাকায় মাদক উদ্ধারের এক তথাকথিত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযানে যান এসআই খায়রুল বাশার। কিন্তু মাদক উদ্ধারের নামে সেখানে তল্লাশির আড়ালে স্বর্ণের চেইন চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবার দমে না গিয়ে আইনের আশ্রয় নিলে বিষয়টি জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নজরে আসে। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর এসআই খায়রুলের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয় এবং তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। বিজ্ঞ বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

একজন সহকর্মীর এমন অপকর্ম ও গ্রেপ্তারের পর ফতুল্লা মডেল থানার ভেতরে পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র চাপা ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই ক্ষোভ অপরাধের বিরুদ্ধে নয়, বরং সহকর্মীর এমন প্রকাশ্য গ্রেপ্তারে নিজেদের 'সুরক্ষা দেয়াল' ভেঙে যাওয়ার কারণে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, এই ঘটনার পর থেকে থানার অফিসাররা এক ধরণের অদ্ভুত আতঙ্কে ভুগছেন। মাদক, অস্ত্র কিংবা পরোয়ানাভুক্ত আসামি ধরার ক্ষেত্রে তারা এখন এক ধরণের অনীহা বা ঢিলেমি দেখাচ্ছেন।

অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে: "পুলিশ মূলত নিজেদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে এখন ব্যাকফুটে চলে গেছে। অভিযান চালাতে গিয়ে ফেঁসে যাওয়ার ভয়—এটি মূলত অপরাধ লুকাতে না পারারই এক ধরণের আতঙ্ক।

শিল্পাঞ্চল ফতুল্লায় পুলিশের এমন অপকর্ম এবং তার জেরে মাঠ পর্যায়ের পুলিশি কার্যক্রমে স্থবিরতার কারণে এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পুলিশ যখন নিজেই চুরির মামলায় জড়িয়ে পড়ে, তখন অপরাধীদের মনে পুলিশের আর কোনো ভয় থাকে না।

পুলিশের এই নৈতিক পরাজয় এবং গা-বাঁচিয়ে চলার নীতির সুযোগ নিয়ে এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাং এবং ছিনতাইকারীরা নতুন করে বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পুলিশের এই চুরির ঘটনা ও পরবর্তী থমথমে পরিস্থিতিতে সাধারণ ফতুল্লাবাসী চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এলাকাবাসীর স্পষ্ট দাবি—অপরাধী পুলিশ হোক বা সাধারণ নাগরিক, আইন সবার জন্য সমান হতে হবে। পুলিশের অপরাধের কারণে সাধারণ মানুষ কেন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে?

সচেতন মহল মনে করছেন, ফতুল্লা মডেল থানার সামগ্রিক কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বাড়িয়ে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাই এখন জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য জেলা পুলিশের হাই কমান্ডকে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ