ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

নারায়ণগঞ্জে বিকাশ ব্যবসায়ী মোতালেব হত্যা: মূলহোতাসহ গ্রেফতার ৩, লুটের ৮৬ হাজার টাকা উদ্ধার


নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে বিকাশ ব্যবসায়ী মোতালেব হত্যা: মূলহোতাসহ গ্রেফতার ৩, লুটের ৮৬ হাজার টাকা উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার জামতলায় চাঞ্চল্যকর বিকাশ ব্যবসায়ী মো. মোতালেব হোসেন (৬১) হত্যাকাণ্ডের রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় মূলহোতা জাকিরসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সাথে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশা, নিহতের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ক্যাশ আউট করা ৮৬ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন এবং একটি টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানার সেলসারদী এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি জাকিরকে (৫০) গ্রেফতার করা হয়। এর আগে একই দিন সকালে ফতুল্লার মাসদাইর জামতলা হাজী ব্রাদার্স রোডের এমপি গলি সংলগ্ন সড়ক থেকে মোতালেব হোসেনের লেপ-তোশকে মোড়ানো মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।

নিহত মোতালেব হোসেন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার শিবপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লার মাসদাইর গোরস্থান এলাকার জাজিরা টাওয়ারের ষষ্ঠ তলায় বসবাস করতেন এবং মাসদাইর বাজারে একটি লাইব্রেরি ও বিকাশ এজেন্টের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। এই ঘটনায় গ্রেফতার অন্য দুই আসামি হলেন—ওমর ফারুক (২২) ও সোহেল (৪৯)।

পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পরপরই সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রধান আসামি জাকির নিহত মোতালেব হোসেনের কাঁধে হাত রেখে কৌশলে তাকে নিজের বাসার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। এই সূত্রের ওপর ভিত্তি করে মাসদাইর রোকেয়া স্কুল সংলগ্ন জাকিরের বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ এবং সেখান থেকে নিহতের ব্যবহৃত টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে ওমর ফারুক ও সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়। সর্বশেষ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন্দর থানার সেলসারদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি জাকিরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন এসআই কাজী শামীম ও এসআই রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন পুলিশের একটি চৌকস দল।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে প্রধান আসামি জাকির হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে দায় স্বীকার করেছেন। জাকির জানান:

  • ঘটনার দিন সকাল ৮টা থেকেই তিনি রাস্তায় ওত পেতে অপেক্ষা করছিলেন।

  • সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মোতালেব হোসেনকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে যান।

  • সেখানে মোতালেব হোসেনের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮৬ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করে নেওয়া হয়।

  • টাকা লুটের পর তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং ভোরের দিকে মরদেহ লেপ-তোশকে পেঁচিয়ে অটোরিকশাযোগে সড়কের পাশে ফেলে দেওয়া হয়।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের মেয়ে সুমনা আক্তার মিম বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "মূলত বিকাশ অ্যাকাউন্টের টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় আমরা মূলহোতাসহ তিনজনকে দ্রুততম সময়ে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশা, লুণ্ঠিত টাকা ও আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


নারায়ণগঞ্জে বিকাশ ব্যবসায়ী মোতালেব হত্যা: মূলহোতাসহ গ্রেফতার ৩, লুটের ৮৬ হাজার টাকা উদ্ধার

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার জামতলায় চাঞ্চল্যকর বিকাশ ব্যবসায়ী মো. মোতালেব হোসেন (৬১) হত্যাকাণ্ডের রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় মূলহোতা জাকিরসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সাথে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশা, নিহতের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ক্যাশ আউট করা ৮৬ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন এবং একটি টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানার সেলসারদী এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি জাকিরকে (৫০) গ্রেফতার করা হয়। এর আগে একই দিন সকালে ফতুল্লার মাসদাইর জামতলা হাজী ব্রাদার্স রোডের এমপি গলি সংলগ্ন সড়ক থেকে মোতালেব হোসেনের লেপ-তোশকে মোড়ানো মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।

নিহত মোতালেব হোসেন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার শিবপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লার মাসদাইর গোরস্থান এলাকার জাজিরা টাওয়ারের ষষ্ঠ তলায় বসবাস করতেন এবং মাসদাইর বাজারে একটি লাইব্রেরি ও বিকাশ এজেন্টের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। এই ঘটনায় গ্রেফতার অন্য দুই আসামি হলেন—ওমর ফারুক (২২) ও সোহেল (৪৯)।

পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পরপরই সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রধান আসামি জাকির নিহত মোতালেব হোসেনের কাঁধে হাত রেখে কৌশলে তাকে নিজের বাসার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। এই সূত্রের ওপর ভিত্তি করে মাসদাইর রোকেয়া স্কুল সংলগ্ন জাকিরের বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ এবং সেখান থেকে নিহতের ব্যবহৃত টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে ওমর ফারুক ও সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়। সর্বশেষ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন্দর থানার সেলসারদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি জাকিরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন এসআই কাজী শামীম ও এসআই রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন পুলিশের একটি চৌকস দল।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে প্রধান আসামি জাকির হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে দায় স্বীকার করেছেন। জাকির জানান:

  • ঘটনার দিন সকাল ৮টা থেকেই তিনি রাস্তায় ওত পেতে অপেক্ষা করছিলেন।

  • সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মোতালেব হোসেনকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে যান।

  • সেখানে মোতালেব হোসেনের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮৬ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করে নেওয়া হয়।

  • টাকা লুটের পর তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং ভোরের দিকে মরদেহ লেপ-তোশকে পেঁচিয়ে অটোরিকশাযোগে সড়কের পাশে ফেলে দেওয়া হয়।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের মেয়ে সুমনা আক্তার মিম বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "মূলত বিকাশ অ্যাকাউন্টের টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় আমরা মূলহোতাসহ তিনজনকে দ্রুততম সময়ে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশা, লুণ্ঠিত টাকা ও আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ