ফরিদপুরের ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে পাঁচ গ্রামের মানুষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমন শেখ (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রাতভর অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে টহল জোরদার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভাঙ্গা কুমার নদের সেতু এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমন শেখ ভাঙ্গা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখ ও সামেলা বেগমের ছেলে।
সুমনের মৃত্যুর প্রতিবাদ ও হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে বুধবার বেলা ১১টার দিকে স্থানীয়রা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
নিহতের মা সামেলা বেগম বলেন, "সজীব মাতুব্বর, আইয়ুব মাতুব্বরসহ যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, তাদের ফাঁসি চাই।"
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চার থেকে পাঁচ মাস আগে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের ইসমাইল মুন্সির ভাগিনা এবাদুলসহ কয়েকজন যুবককে পৌরসভার সামনে মারধর করেন হাসামদিয়া গ্রামের ফয়সাল সর্দার ও তার সহযোগীরা। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসা হয়।
তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাসামদিয়া ব্রিজ এলাকায় ঘুরতে গেলে এবাদুলকে আবারও মারধরের অভিযোগ ওঠে। খবর ছড়িয়ে পড়লে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এক্সপ্রেসওয়ের কুমার নদের সেতুর ওপর জড়ো হন। অপরদিকে সজীব মাতুব্বরের নেতৃত্বে হাসামদিয়া গ্রামের লোকজনও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে অবস্থান নেন।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে তা দ্রুত আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে পাঁচ গ্রামের মানুষ জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। সংঘর্ষে সুমন শেখ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
ভাঙ্গা থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রাতভর অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বুধবার সকাল থেকেই গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে টহল জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সুমন হত্যার বিচার দাবিতে স্থানীয়রা কিছু সময়ের জন্য ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ তুলে দেওয়া হয়েছে।"

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬
ফরিদপুরের ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে পাঁচ গ্রামের মানুষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমন শেখ (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রাতভর অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে টহল জোরদার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভাঙ্গা কুমার নদের সেতু এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমন শেখ ভাঙ্গা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখ ও সামেলা বেগমের ছেলে।
সুমনের মৃত্যুর প্রতিবাদ ও হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে বুধবার বেলা ১১টার দিকে স্থানীয়রা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
নিহতের মা সামেলা বেগম বলেন, "সজীব মাতুব্বর, আইয়ুব মাতুব্বরসহ যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, তাদের ফাঁসি চাই।"
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চার থেকে পাঁচ মাস আগে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের ইসমাইল মুন্সির ভাগিনা এবাদুলসহ কয়েকজন যুবককে পৌরসভার সামনে মারধর করেন হাসামদিয়া গ্রামের ফয়সাল সর্দার ও তার সহযোগীরা। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসা হয়।
তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাসামদিয়া ব্রিজ এলাকায় ঘুরতে গেলে এবাদুলকে আবারও মারধরের অভিযোগ ওঠে। খবর ছড়িয়ে পড়লে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এক্সপ্রেসওয়ের কুমার নদের সেতুর ওপর জড়ো হন। অপরদিকে সজীব মাতুব্বরের নেতৃত্বে হাসামদিয়া গ্রামের লোকজনও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে অবস্থান নেন।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে তা দ্রুত আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে পাঁচ গ্রামের মানুষ জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। সংঘর্ষে সুমন শেখ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
ভাঙ্গা থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রাতভর অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বুধবার সকাল থেকেই গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে টহল জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সুমন হত্যার বিচার দাবিতে স্থানীয়রা কিছু সময়ের জন্য ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ তুলে দেওয়া হয়েছে।"

আপনার মতামত লিখুন