ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

কুড়িগ্রামে ১৪০ বছরের সেতুর পাটাতন ভেঙে বন্ধ ভারী যান চলাচল


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬

কুড়িগ্রামে ১৪০ বছরের সেতুর পাটাতন ভেঙে বন্ধ ভারী যান চলাচল
ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ঐতিহাসিক সোনাহাট সেতুর স্টিলের পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় সাময়িকভাবে সব ধরনের ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিসহ পণ্য পরিবহন কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ১৪০ বছর পুরোনো এই সেতুটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) সকালে একটি বালুবাহী ড্রাম ট্রাক সেতু পার হওয়ার সময় হঠাৎ স্টিলের পাটাতন ভেঙে যায়। এতে ট্রাকটি সেতুর ওপর আটকে পড়ে এবং উভয় প্রান্তে পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুদিন ধরেই সেতুর বিভিন্ন স্থানে স্টিলের পাটাতন ক্ষতিগ্রস্ত এবং লোহার প্লেট খুলে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন শত শত যানবাহন ঝুঁকি নিয়েই এই সেতু ব্যবহার করছে।

ঐতিহাসিক এই সেতুটি ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৮৭ সালে লালমনিরহাট থেকে ভারতের গৌহাটি পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে দুধকুমার নদের ওপর নির্মিত হয়। প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট দীর্ঘ সেতুটি মুক্তিযুদ্ধের সময় আংশিকভাবে ধ্বংস হয়। পরে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে এটি সংস্কার করে সড়ক যোগাযোগের উপযোগী করা হয়। বর্তমানে সেতুটি ভূরুঙ্গামারীর দক্ষিণাঞ্চলের তিনটি ইউনিয়ন এবং কচাকাটা ও মাদারগঞ্জ এলাকার মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগমাধ্যম।

নির্মাণের সময় সেতুটির আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছিল ১০০ বছর। সেই মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় চার দশক আগে। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, সেতুটি অচল হয়ে গেলে শুধু জনদুর্ভোগই নয়, সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এদিকে পুরোনো সেতুর বিকল্প হিসেবে দুধকুমার নদের দক্ষিণ পাশে ১৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৪৫ মিটার দীর্ঘ নতুন সোনাহাট সেতুর নির্মাণকাজ চলছে। দুই বছরের মধ্যে প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আট বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ এখনো শেষ হয়নি। এতে স্থানীয়দের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে। তারা দ্রুত নতুন সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।

সোনাহাট সেতু এলাকার ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ও নুর ইসলাম বলেন, পাথরবোঝাই ট্রাক সেতু পার হওয়ার সময় পুরো সেতু কেঁপে ওঠে। সেতুটি এতটাই সরু যে, একটি ট্রাক চলাচলের সময় অন্য কোনো যানবাহনের যাওয়ার সুযোগ থাকে না। ফলে প্রায়ই দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।

সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী আবু হেনা মাসুম বলেন, প্রায়ই সেতুর পাটাতন ভেঙে যায় এবং সড়ক বিভাগ তা মেরামত করে। কিন্তু স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ হলে স্থলবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং সরকারও বিপুল রাজস্ব হারাবে।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ জানান, সেতুটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত মালবোঝাই যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুড়িগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংস্কার শেষ হলে যত দ্রুত সম্ভব যান চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। পাশাপাশি বিকল্প নতুন সেতুর নির্মাণকাজও চলমান রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


কুড়িগ্রামে ১৪০ বছরের সেতুর পাটাতন ভেঙে বন্ধ ভারী যান চলাচল

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ঐতিহাসিক সোনাহাট সেতুর স্টিলের পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় সাময়িকভাবে সব ধরনের ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিসহ পণ্য পরিবহন কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ১৪০ বছর পুরোনো এই সেতুটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) সকালে একটি বালুবাহী ড্রাম ট্রাক সেতু পার হওয়ার সময় হঠাৎ স্টিলের পাটাতন ভেঙে যায়। এতে ট্রাকটি সেতুর ওপর আটকে পড়ে এবং উভয় প্রান্তে পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুদিন ধরেই সেতুর বিভিন্ন স্থানে স্টিলের পাটাতন ক্ষতিগ্রস্ত এবং লোহার প্লেট খুলে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন শত শত যানবাহন ঝুঁকি নিয়েই এই সেতু ব্যবহার করছে।

ঐতিহাসিক এই সেতুটি ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৮৭ সালে লালমনিরহাট থেকে ভারতের গৌহাটি পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে দুধকুমার নদের ওপর নির্মিত হয়। প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট দীর্ঘ সেতুটি মুক্তিযুদ্ধের সময় আংশিকভাবে ধ্বংস হয়। পরে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে এটি সংস্কার করে সড়ক যোগাযোগের উপযোগী করা হয়। বর্তমানে সেতুটি ভূরুঙ্গামারীর দক্ষিণাঞ্চলের তিনটি ইউনিয়ন এবং কচাকাটা ও মাদারগঞ্জ এলাকার মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগমাধ্যম।

নির্মাণের সময় সেতুটির আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছিল ১০০ বছর। সেই মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় চার দশক আগে। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, সেতুটি অচল হয়ে গেলে শুধু জনদুর্ভোগই নয়, সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এদিকে পুরোনো সেতুর বিকল্প হিসেবে দুধকুমার নদের দক্ষিণ পাশে ১৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৪৫ মিটার দীর্ঘ নতুন সোনাহাট সেতুর নির্মাণকাজ চলছে। দুই বছরের মধ্যে প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আট বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ এখনো শেষ হয়নি। এতে স্থানীয়দের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে। তারা দ্রুত নতুন সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।

সোনাহাট সেতু এলাকার ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ও নুর ইসলাম বলেন, পাথরবোঝাই ট্রাক সেতু পার হওয়ার সময় পুরো সেতু কেঁপে ওঠে। সেতুটি এতটাই সরু যে, একটি ট্রাক চলাচলের সময় অন্য কোনো যানবাহনের যাওয়ার সুযোগ থাকে না। ফলে প্রায়ই দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।

সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী আবু হেনা মাসুম বলেন, প্রায়ই সেতুর পাটাতন ভেঙে যায় এবং সড়ক বিভাগ তা মেরামত করে। কিন্তু স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ হলে স্থলবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং সরকারও বিপুল রাজস্ব হারাবে।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ জানান, সেতুটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত মালবোঝাই যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুড়িগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংস্কার শেষ হলে যত দ্রুত সম্ভব যান চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। পাশাপাশি বিকল্প নতুন সেতুর নির্মাণকাজও চলমান রয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ