ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

রায়পুরের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড: পাশাপাশি চার কবরে মা ও তিন মেয়ের দাফন


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৬

রায়পুরের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড: পাশাপাশি চার কবরে মা ও তিন মেয়ের দাফন
ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত মা ও তিন মেয়ের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জানাজা শেষে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে তাদের চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে গ্রামের মেঘনা নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত কবরস্থানের পাশের মাঠে রাত ১০টার দিকে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে রাত ১১টার দিকে দাফন সম্পন্ন হয়।

এর আগে নিহতদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শেষবারের মতো একনজর দেখতে ভিড় করেন স্বজন, প্রতিবেশী ও বিভিন্ন এলাকার মানুষ। পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। পরে মরদেহগুলো সামাজিক কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হলে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে তাদের শেষ বিদায় জানানো হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, একই পরিবারের মা ও তিন মেয়ে হত্যার ঘটনা পুরো এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। খবর পাওয়ার পর থেকেই গ্রামজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। পরিবারটি আর্থিকভাবে অসচ্ছল হলেও সন্তানরা ছিল অত্যন্ত মেধাবী, ভদ্র ও বিনয়ী। এ কারণেই গ্রামের মানুষের কাছে তারা ছিল খুবই প্রিয়। শুধু গ্রামের মানুষই নয়, আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের লোকজনও নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ছুটে এসেছেন।

নিহত শাহীনুরের দেবর জামাল হোসেন জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে তার বড় ভাই কামাল হোসেন জীবিকার সন্ধানে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে গিয়ে ব্যবসা শুরু করেন এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সন্তানদের ভালো শিক্ষার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে সাত বছর আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কামাল হোসেনের মৃত্যু হলে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে। পরে বড় ছেলে সিফাতের আয় এবং স্বজন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় কোনোভাবে সংসার চলছিল।

জামাল হোসেন বলেন, এখন পরিবারের একমাত্র বেঁচে থাকা সন্তান সিফাতের ভবিষ্যৎ ও পড়াশোনা নিয়েই সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন আমরা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


রায়পুরের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড: পাশাপাশি চার কবরে মা ও তিন মেয়ের দাফন

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬

featured Image

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত মা ও তিন মেয়ের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জানাজা শেষে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে তাদের চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে গ্রামের মেঘনা নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত কবরস্থানের পাশের মাঠে রাত ১০টার দিকে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে রাত ১১টার দিকে দাফন সম্পন্ন হয়।

এর আগে নিহতদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শেষবারের মতো একনজর দেখতে ভিড় করেন স্বজন, প্রতিবেশী ও বিভিন্ন এলাকার মানুষ। পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। পরে মরদেহগুলো সামাজিক কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হলে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে তাদের শেষ বিদায় জানানো হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, একই পরিবারের মা ও তিন মেয়ে হত্যার ঘটনা পুরো এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। খবর পাওয়ার পর থেকেই গ্রামজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। পরিবারটি আর্থিকভাবে অসচ্ছল হলেও সন্তানরা ছিল অত্যন্ত মেধাবী, ভদ্র ও বিনয়ী। এ কারণেই গ্রামের মানুষের কাছে তারা ছিল খুবই প্রিয়। শুধু গ্রামের মানুষই নয়, আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের লোকজনও নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ছুটে এসেছেন।

নিহত শাহীনুরের দেবর জামাল হোসেন জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে তার বড় ভাই কামাল হোসেন জীবিকার সন্ধানে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে গিয়ে ব্যবসা শুরু করেন এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সন্তানদের ভালো শিক্ষার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে সাত বছর আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কামাল হোসেনের মৃত্যু হলে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে। পরে বড় ছেলে সিফাতের আয় এবং স্বজন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় কোনোভাবে সংসার চলছিল।

জামাল হোসেন বলেন, এখন পরিবারের একমাত্র বেঁচে থাকা সন্তান সিফাতের ভবিষ্যৎ ও পড়াশোনা নিয়েই সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন আমরা।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ