অমিতাভ রেজা পরিচালিত আলোচিত চলচ্চিত্র আয়নাবাজি-তে অন্যের হয়ে ভাড়ায় জেল খাটার ঘটনা দেখানো হয়েছিল। বাস্তবেও প্রায় একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে ঢাকার আদালতে। অন্য এক আসামির পরিচয়ে আদালতে হাজির হয়ে ধরা পড়েছেন মনোয়ারা নামে এক নারী। বর্তমানে তিনি দুই দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) মনোয়ারাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্তের স্বার্থে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঢাকার চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতে ২৯ লাখ টাকার একটি চেক ডিজঅনার মামলায় প্রকৃত আসামি নাসরিন সিকদারের পরিবর্তে প্রক্সি হিসেবে হাজির হন মনোয়ারা। তবে বিচারকের জিজ্ঞাসাবাদেই তার পরিচয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।
শুনানির সময় বিচারক তানিয়া সুলতানা লিপি মনোয়ারাকে এজলাসের সামনে ডাকেন। তখন তার মুখে মাস্ক ছিল। বিচারক কয়েকবার মাস্ক খুলতে বললেও তিনি রাজি হননি। পরে পুলিশের এক নারী সদস্য তার মুখ থেকে মাস্ক খুলে দেন।
এরপর বিচারক তার স্বামীর নাম, বাবার নাম, মামলার টাকার পরিমাণসহ বিভিন্ন তথ্য জানতে চাইলে মনোয়ারা একের পর এক ভুল উত্তর দেন। তিনি বাবার নামের জায়গায় স্বামীর নাম এবং স্বামীর নামের জায়গায় বাবার নাম বলেন। মামলার অঙ্কও ভুলভাবে ৩০ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করেন।
বিচারক জাতীয় পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে মনোয়ারা জানান, সেটি আইনজীবীর চেম্বারে রাখা আছে। তাকে স্বাক্ষর করতে বললে তিনি স্বাক্ষর দিতে না পেরে টিপসই দেন। এ সময় তার পক্ষে থাকা আইনজীবী এজলাস ত্যাগ করলে বিচারক পুলিশকে তাকে কাঠগড়ায় আটকে রাখার নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, মনোয়ারা নিজের ছবি ব্যবহার করে নাসরিন সিকদারের নামে একটি জাতীয় পরিচয়পত্রও তৈরি করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আটকের পর সাংবাদিকদের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মনোয়ারা জানান, তার বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে। বর্তমানে তিনি ঢাকার সূত্রাপুরের কলতাবাজার এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকেন। বাসাবাড়িতে কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন আইনজীবীর চেম্বার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন।
তার দাবি, একজন আইনজীবী টাকা দেওয়ার কথা বলে তাকে আদালতে নিয়ে এসেছিলেন। তবে কত টাকা দেওয়া হবে, তা আগে জানানো হয়নি। তিনি বলেন, এটি ছিল তার প্রথম এমন অভিজ্ঞতা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মনোয়ারা বলেন, “আমি কাম করে খাই। আমার ছোট ছোট দুইটা বাচ্চা আছে বাসায়। আল্লাহর ওয়াস্তে আমারে ছাইড়া দেন।”
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বাদী নিবেদিতা আহমেদ তুলি ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশ্যে পারিবারিক সম্পর্কের সুবাদে নাসরিন সিকদারকে বিভিন্ন সময়ে মোট ২৯ লাখ টাকা দেন। সেই টাকার বিপরীতে দেওয়া একটি চেক ব্যাংকে জমা দিলে অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে তা ডিজঅনার হয়।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। নির্ধারিত শুনানির দিনে প্রকৃত আসামি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
পরে সেই আসামির পরিবর্তে আদালতে হাজির হয়ে শেষ পর্যন্ত নিজেই আইনের জালে আটকা পড়েন মনোয়ারা। এখন মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তিনি দুই দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬
অমিতাভ রেজা পরিচালিত আলোচিত চলচ্চিত্র আয়নাবাজি-তে অন্যের হয়ে ভাড়ায় জেল খাটার ঘটনা দেখানো হয়েছিল। বাস্তবেও প্রায় একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে ঢাকার আদালতে। অন্য এক আসামির পরিচয়ে আদালতে হাজির হয়ে ধরা পড়েছেন মনোয়ারা নামে এক নারী। বর্তমানে তিনি দুই দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) মনোয়ারাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্তের স্বার্থে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঢাকার চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতে ২৯ লাখ টাকার একটি চেক ডিজঅনার মামলায় প্রকৃত আসামি নাসরিন সিকদারের পরিবর্তে প্রক্সি হিসেবে হাজির হন মনোয়ারা। তবে বিচারকের জিজ্ঞাসাবাদেই তার পরিচয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।
শুনানির সময় বিচারক তানিয়া সুলতানা লিপি মনোয়ারাকে এজলাসের সামনে ডাকেন। তখন তার মুখে মাস্ক ছিল। বিচারক কয়েকবার মাস্ক খুলতে বললেও তিনি রাজি হননি। পরে পুলিশের এক নারী সদস্য তার মুখ থেকে মাস্ক খুলে দেন।
এরপর বিচারক তার স্বামীর নাম, বাবার নাম, মামলার টাকার পরিমাণসহ বিভিন্ন তথ্য জানতে চাইলে মনোয়ারা একের পর এক ভুল উত্তর দেন। তিনি বাবার নামের জায়গায় স্বামীর নাম এবং স্বামীর নামের জায়গায় বাবার নাম বলেন। মামলার অঙ্কও ভুলভাবে ৩০ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করেন।
বিচারক জাতীয় পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে মনোয়ারা জানান, সেটি আইনজীবীর চেম্বারে রাখা আছে। তাকে স্বাক্ষর করতে বললে তিনি স্বাক্ষর দিতে না পেরে টিপসই দেন। এ সময় তার পক্ষে থাকা আইনজীবী এজলাস ত্যাগ করলে বিচারক পুলিশকে তাকে কাঠগড়ায় আটকে রাখার নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, মনোয়ারা নিজের ছবি ব্যবহার করে নাসরিন সিকদারের নামে একটি জাতীয় পরিচয়পত্রও তৈরি করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আটকের পর সাংবাদিকদের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মনোয়ারা জানান, তার বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে। বর্তমানে তিনি ঢাকার সূত্রাপুরের কলতাবাজার এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকেন। বাসাবাড়িতে কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন আইনজীবীর চেম্বার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন।
তার দাবি, একজন আইনজীবী টাকা দেওয়ার কথা বলে তাকে আদালতে নিয়ে এসেছিলেন। তবে কত টাকা দেওয়া হবে, তা আগে জানানো হয়নি। তিনি বলেন, এটি ছিল তার প্রথম এমন অভিজ্ঞতা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মনোয়ারা বলেন, “আমি কাম করে খাই। আমার ছোট ছোট দুইটা বাচ্চা আছে বাসায়। আল্লাহর ওয়াস্তে আমারে ছাইড়া দেন।”
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বাদী নিবেদিতা আহমেদ তুলি ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশ্যে পারিবারিক সম্পর্কের সুবাদে নাসরিন সিকদারকে বিভিন্ন সময়ে মোট ২৯ লাখ টাকা দেন। সেই টাকার বিপরীতে দেওয়া একটি চেক ব্যাংকে জমা দিলে অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে তা ডিজঅনার হয়।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। নির্ধারিত শুনানির দিনে প্রকৃত আসামি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
পরে সেই আসামির পরিবর্তে আদালতে হাজির হয়ে শেষ পর্যন্ত নিজেই আইনের জালে আটকা পড়েন মনোয়ারা। এখন মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তিনি দুই দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন