রাজধানীর অন্যতম প্রবেশদ্বার যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শুরুর অংশটি এখন সাধারণ যাত্রী ও চালকদের জন্য এক আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই এলাকায় একটি নির্দিষ্ট চক্র নিয়মিতভাবে বাস, পিকআপ, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল এবং ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে প্রকাশ্যে ছিনতাই ও চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। রাতের অন্ধকার নামলেই এই চক্রের তৎপরতা বহুগুণ বেড়ে যায়। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই অপরাধের সাথে স্থানীয় পুলিশের একাংশের পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ তুলছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভোগান্তির সিগন্যাল, ছিনতাইয়ের মোক্ষম সুযোগ:
সরেজমিনে অনুসন্ধান ও স্থানীয় চালকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, যাত্রাবাড়ী থেকে ঢাকা-চট্টগ্রামমুখী সড়কে রাতের বেলা প্রায়ই অস্বাভাবিক যানজট বা সিগন্যাল তৈরি হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি সিগন্যালেই গাড়িগুলোকে ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর্যন্ত স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আর এই দীর্ঘ সিগন্যালই ছিনতাইকারীদের জন্য মোক্ষম সুযোগ এনে দেয়। গাড়িগুলো যখন জ্যামে আটকে থাকে, তখন চক্রের সদস্যরা আচমকা হানা দেয়। ট্রাক, পিকআপের ডালা বেয়ে উঠে বা চলন্ত মোটরসাইকেল ও গাড়ির গতি রোধ করে মোবাইল, মানিব্যাগসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে মুহূর্তে হাওয়া হয়ে যায়।
সড়কে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের অভিযোগ, এসব বিষয়ে পুলিশকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার মিলছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যাত্রাবাড়ী মোড়ের এক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, "ছিনতাইকারীদের এই চক্রটি এতটাই বেপরোয়া যে এদের চেনে না এমন লোক এই এলাকায় কমই আছে। মাঝেমধ্যে পুলিশ এদের ধরে থানায় নিয়ে যায় ঠিকই, কিন্তু অলৌকিক কোনো ইশারায় বা রহস্যজনক কারণে কিছু সময় পরই আবার থানা থেকে এদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর তারা এসে দ্বিগুণ উৎসাহে অপরাধে জড়ায়। পুলিশ যদি আন্তরিক হতো, তবে এই জনবহুল মোড়ে প্রতিদিন এমন ঘটনা ঘটতে পারত না।"
দায় এড়ানোর চেষ্টা প্রশাসনের:
যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম একটি মোড়ে কীভাবে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ছিনতাই চলছে—তা জানতে প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি। উপরন্তু, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা এই দায় ট্রাফিক বিভাগের ওপর, আর ট্রাফিক বিভাগ আইনশৃঙ্খলার দায় থানা পুলিশের ওপর চাপিয়ে একে অপরকে দোষারোপ করতেই ব্যস্ত। প্রশাসনের এই পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়িতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ।
সমাধান কোথায়?
ভুক্তভোগী যাত্রী ও পরিবহন চালকদের প্রশ্ন—জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব যাদের, তারা যদি একে অপরকে দোষারোপ করে দায়িত্ব এড়াতে চান, তবে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? এর শেষ কোথায় এবং সমাধানই বা কী?
সচেতন মহল মনে করছেন, যাত্রাবাড়ী এলাকার এই দীর্ঘদিনের অপরাধ সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে কেবল নিচু স্তরের দু-একজন অপরাধীকে ধরা যথেষ্ট নয়। এর পেছনে থাকা মূল হোতা এবং প্রশাসনের ভেতরে থাকা কালো ভেড়াদের চিহ্নিত করতে হবে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে এই বিষয়ে কঠোর নজরদারি ও ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা উচিত, যাতে এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটি সাধারণ মানুষের জন্য আবারও নিরাপদ হয়ে ওঠে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬
রাজধানীর অন্যতম প্রবেশদ্বার যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শুরুর অংশটি এখন সাধারণ যাত্রী ও চালকদের জন্য এক আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই এলাকায় একটি নির্দিষ্ট চক্র নিয়মিতভাবে বাস, পিকআপ, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল এবং ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে প্রকাশ্যে ছিনতাই ও চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। রাতের অন্ধকার নামলেই এই চক্রের তৎপরতা বহুগুণ বেড়ে যায়। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই অপরাধের সাথে স্থানীয় পুলিশের একাংশের পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ তুলছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভোগান্তির সিগন্যাল, ছিনতাইয়ের মোক্ষম সুযোগ:
সরেজমিনে অনুসন্ধান ও স্থানীয় চালকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, যাত্রাবাড়ী থেকে ঢাকা-চট্টগ্রামমুখী সড়কে রাতের বেলা প্রায়ই অস্বাভাবিক যানজট বা সিগন্যাল তৈরি হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি সিগন্যালেই গাড়িগুলোকে ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর্যন্ত স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আর এই দীর্ঘ সিগন্যালই ছিনতাইকারীদের জন্য মোক্ষম সুযোগ এনে দেয়। গাড়িগুলো যখন জ্যামে আটকে থাকে, তখন চক্রের সদস্যরা আচমকা হানা দেয়। ট্রাক, পিকআপের ডালা বেয়ে উঠে বা চলন্ত মোটরসাইকেল ও গাড়ির গতি রোধ করে মোবাইল, মানিব্যাগসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে মুহূর্তে হাওয়া হয়ে যায়।
সড়কে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের অভিযোগ, এসব বিষয়ে পুলিশকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার মিলছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যাত্রাবাড়ী মোড়ের এক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, "ছিনতাইকারীদের এই চক্রটি এতটাই বেপরোয়া যে এদের চেনে না এমন লোক এই এলাকায় কমই আছে। মাঝেমধ্যে পুলিশ এদের ধরে থানায় নিয়ে যায় ঠিকই, কিন্তু অলৌকিক কোনো ইশারায় বা রহস্যজনক কারণে কিছু সময় পরই আবার থানা থেকে এদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর তারা এসে দ্বিগুণ উৎসাহে অপরাধে জড়ায়। পুলিশ যদি আন্তরিক হতো, তবে এই জনবহুল মোড়ে প্রতিদিন এমন ঘটনা ঘটতে পারত না।"
দায় এড়ানোর চেষ্টা প্রশাসনের:
যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম একটি মোড়ে কীভাবে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ছিনতাই চলছে—তা জানতে প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি। উপরন্তু, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা এই দায় ট্রাফিক বিভাগের ওপর, আর ট্রাফিক বিভাগ আইনশৃঙ্খলার দায় থানা পুলিশের ওপর চাপিয়ে একে অপরকে দোষারোপ করতেই ব্যস্ত। প্রশাসনের এই পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়িতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ।
সমাধান কোথায়?
ভুক্তভোগী যাত্রী ও পরিবহন চালকদের প্রশ্ন—জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব যাদের, তারা যদি একে অপরকে দোষারোপ করে দায়িত্ব এড়াতে চান, তবে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? এর শেষ কোথায় এবং সমাধানই বা কী?
সচেতন মহল মনে করছেন, যাত্রাবাড়ী এলাকার এই দীর্ঘদিনের অপরাধ সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে কেবল নিচু স্তরের দু-একজন অপরাধীকে ধরা যথেষ্ট নয়। এর পেছনে থাকা মূল হোতা এবং প্রশাসনের ভেতরে থাকা কালো ভেড়াদের চিহ্নিত করতে হবে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে এই বিষয়ে কঠোর নজরদারি ও ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা উচিত, যাতে এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটি সাধারণ মানুষের জন্য আবারও নিরাপদ হয়ে ওঠে।

আপনার মতামত লিখুন