ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ঘুষের টাকাও গেল, হারালেন ন্যায্য অধিকারও



ঘুষের টাকাও গেল, হারালেন ন্যায্য অধিকারও
ছবি : প্রতিনিধি

রাঙ্গাবালীর ছোট বাইশদিয়া ইউনিয়নের নয়া ভাংগুনি গ্রামের এক অসহায় পরিবার পৈতৃক ভিটায় জরাজীর্ণ ঘর সংস্কার করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. আনছার উদ্দিনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ করে বাস্তবতার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী শাহিনুর বেগম জানান, তার বাবা মৃত সোনা খান জীবিত থাকাকালে তাকে নাসির শিকদারের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে নিজ বাড়িতেই ঘরজামাই হিসেবে রেখেছিলেন। পিতার মৃত্যুর পরও তারা দীর্ঘদিন ওই বাড়িতে বসবাস করেন। পরে জীবিকার তাগিদে কিছু সময়ের জন্য ঢাকায় চলে গেলে তাদের বসতঘরটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে।

প্রায় তিন মাস আগে স্থায়ীভাবে গ্রামে ফিরে এসে পুরনো ঘরটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন শাহিনুর ও তার স্বামী। এ সময় প্রতিবেশী সালেহা বেগম কাজে বাধা দেন। একপর্যায়ে সালেহা বেগম গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর আদালত বিরোধীয় জমির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য রাঙ্গাবালী উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারকে নির্দেশ দেন।

অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত শেষে সার্ভেয়ার মো. আনছার উদ্দিন আদালতে যে প্রতিবেদন জমা দেন, তাতে উল্লেখ করা হয় যে বিরোধীয় জমি দীর্ঘদিন ধরে বাদী সালেহা বেগম পুকুর ও বাগান করে ভোগদখল করে আসছেন।

তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এবং সরেজমিনে অনুসন্ধান করে ওই প্রতিবেদনের সঙ্গে বাস্তবতার মিল পাওয়া যায়নি। বিরোধীয় জমিতে এখনও শাহিনুর বেগমের পুরনো বসতঘর রয়েছে। এছাড়া বাড়ির চারপাশে বহু পুরনো গাছপালাও দেখা যায়, যা স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী শাহিনুরের বাবা সোনা খান রোপণ করেছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এটি শাহিনুর বেগমের পৈতৃক ভিটা। তিনি ও তার স্বামী দীর্ঘদিন এখানে বসবাস করেছেন। কেবল আর্থিক সংকটের কারণে কিছু সময়ের জন্য ঢাকায় অবস্থান করেছিলেন।

এমনকি বাদী সালেহা বেগমও সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন যে ভিটাটি শাহিনুরের বাবার এবং শাহিনুররা সেখানে বসবাস করতেন। তবে বিএস রেকর্ডে ভুল থাকার অভিযোগ তুলে তিনি দেওয়ানি আদালতে পৃথক একটি মামলা করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।

ভুক্তভোগী শাহিনুর বেগম ও তার স্বামী নাসির শিকদারের অভিযোগ, তদন্তের সময় সার্ভেয়ার আনছার উদ্দিন তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন।

তাদের ভাষ্য, “সার্ভেয়ার আমাদের বলেন, পক্ষে রিপোর্ট পেতে হলে ২০ হাজার টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে বিপক্ষে রিপোর্ট যাবে। আমরা ধারদেনা করে টাকা দিলেও পরে দেখি আদালতে আমাদের বিরুদ্ধেই রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে।”

তারা আরও অভিযোগ করেন, পরে ভূমি অফিসে গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে সার্ভেয়ার তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং অফিস থেকে বের করে দেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য মো. আনছার উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে সরাসরি সাক্ষাতে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে প্রতিবেদনের অসঙ্গতি নিয়ে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

একটি জরাজীর্ণ বসতঘর সংস্কারকে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা এমন অভিযোগ এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শাহিনুর বেগমের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।



এস.আর 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ঘুষের টাকাও গেল, হারালেন ন্যায্য অধিকারও

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬

featured Image

রাঙ্গাবালীর ছোট বাইশদিয়া ইউনিয়নের নয়া ভাংগুনি গ্রামের এক অসহায় পরিবার পৈতৃক ভিটায় জরাজীর্ণ ঘর সংস্কার করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. আনছার উদ্দিনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ করে বাস্তবতার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী শাহিনুর বেগম জানান, তার বাবা মৃত সোনা খান জীবিত থাকাকালে তাকে নাসির শিকদারের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে নিজ বাড়িতেই ঘরজামাই হিসেবে রেখেছিলেন। পিতার মৃত্যুর পরও তারা দীর্ঘদিন ওই বাড়িতে বসবাস করেন। পরে জীবিকার তাগিদে কিছু সময়ের জন্য ঢাকায় চলে গেলে তাদের বসতঘরটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে।

প্রায় তিন মাস আগে স্থায়ীভাবে গ্রামে ফিরে এসে পুরনো ঘরটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন শাহিনুর ও তার স্বামী। এ সময় প্রতিবেশী সালেহা বেগম কাজে বাধা দেন। একপর্যায়ে সালেহা বেগম গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর আদালত বিরোধীয় জমির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য রাঙ্গাবালী উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারকে নির্দেশ দেন।

অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত শেষে সার্ভেয়ার মো. আনছার উদ্দিন আদালতে যে প্রতিবেদন জমা দেন, তাতে উল্লেখ করা হয় যে বিরোধীয় জমি দীর্ঘদিন ধরে বাদী সালেহা বেগম পুকুর ও বাগান করে ভোগদখল করে আসছেন।

তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এবং সরেজমিনে অনুসন্ধান করে ওই প্রতিবেদনের সঙ্গে বাস্তবতার মিল পাওয়া যায়নি। বিরোধীয় জমিতে এখনও শাহিনুর বেগমের পুরনো বসতঘর রয়েছে। এছাড়া বাড়ির চারপাশে বহু পুরনো গাছপালাও দেখা যায়, যা স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী শাহিনুরের বাবা সোনা খান রোপণ করেছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এটি শাহিনুর বেগমের পৈতৃক ভিটা। তিনি ও তার স্বামী দীর্ঘদিন এখানে বসবাস করেছেন। কেবল আর্থিক সংকটের কারণে কিছু সময়ের জন্য ঢাকায় অবস্থান করেছিলেন।

এমনকি বাদী সালেহা বেগমও সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন যে ভিটাটি শাহিনুরের বাবার এবং শাহিনুররা সেখানে বসবাস করতেন। তবে বিএস রেকর্ডে ভুল থাকার অভিযোগ তুলে তিনি দেওয়ানি আদালতে পৃথক একটি মামলা করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।

ভুক্তভোগী শাহিনুর বেগম ও তার স্বামী নাসির শিকদারের অভিযোগ, তদন্তের সময় সার্ভেয়ার আনছার উদ্দিন তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন।

তাদের ভাষ্য, “সার্ভেয়ার আমাদের বলেন, পক্ষে রিপোর্ট পেতে হলে ২০ হাজার টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে বিপক্ষে রিপোর্ট যাবে। আমরা ধারদেনা করে টাকা দিলেও পরে দেখি আদালতে আমাদের বিরুদ্ধেই রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে।”

তারা আরও অভিযোগ করেন, পরে ভূমি অফিসে গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে সার্ভেয়ার তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং অফিস থেকে বের করে দেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য মো. আনছার উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে সরাসরি সাক্ষাতে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে প্রতিবেদনের অসঙ্গতি নিয়ে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

একটি জরাজীর্ণ বসতঘর সংস্কারকে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা এমন অভিযোগ এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শাহিনুর বেগমের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।



এস.আর 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ