দীর্ঘ ৭-৮ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রমে ঝোপঝাড় ও জঙ্গল পরিষ্কার করে সবুজ বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন একদল উদ্যমী মানুষ। গড়ে তুলেছিলেন সারিবদ্ধ দৃষ্টিনন্দন নার্সারি। কিন্তু হঠাৎ করেই উচ্ছেদের খড়্গ নেমে এসেছে ঢাকার উত্তরা দিয়াবাড়ীর ১৮ নম্বর সেক্টরের ১০ নম্বর ব্রিজ থেকে ৪ নম্বর ব্রিজ এলাকা পর্যন্ত গড়ে ওঠা নার্সারি পল্লীতে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) থেকে কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই হঠাৎ মৌখিকভাবে এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়ায় কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কায় দিশেহারা প্রায় ১৫-১৬ জন নার্সারি ব্যবসায়ী। একই সঙ্গে কাজ হারানোর আতঙ্কে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন সেখানে কর্মরত অর্ধশতাধিক শ্রমিক ও তাদের পরিবার।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ১৮ নম্বর সেক্টরের ১০ নম্বর ব্রিজ থেকে ৪ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন সড়ক এলাকায় গড়ে ওঠা এসব নার্সারি থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার গাছের চারা রাজধানীসহ সারা দেশে সরবরাহ করা হয়। হঠাৎ করে ব্যবসায়ীদের এখান থেকে সরে যেতে বলায় কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ ও লাখ লাখ জীবন্ত চারাগাছ বিনষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
নার্সারি ব্যবসায়ীরা জানান, জঙ্গল পরিষ্কার করে তারা দীর্ঘ দিন ধরে এখানে ব্যবসা প্রসারিত করে আসছেন। দেশের সবুজায়নে তারা বড় ভূমিকা রাখছেন। ব্যবসায়ীদের আকুল আবেদন—সরকার যেখানে সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদার করছে, সেখানে তাদের এভাবে উচ্ছেদ করা অযৌক্তিক। যদি সিটি করপোরেশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের সরিয়ে দিতেই চায়, তবে তাদের জন্য বিকল্প নির্ধারিত কোনো জায়গা বরাদ্দ দিয়ে যেন পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে এখানে। হঠাৎ এসে মুখে মুখে বলে দিল চলে যেতে। আমরা লাখ লাখ টাকার গাছ নিয়ে কোথায় যাব? সরকারের কাছে দাবি, আমাদের আগে নির্দিষ্ট কোনো জায়গা দেওয়া হোক, তারপর যেন উঠিয়ে দেওয়া হয়।"এদিকে নার্সারির ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করা প্রায় ৫০-৬০ জন শ্রমিক পড়েছেন চরম বিপাকে।
এক শ্রমিক আক্ষেপ করে বলেন, "আমরা দিনরাত পরিশ্রম করে এই জায়গা সুন্দর করেছি। আমাদের মালিকরা যদি এখানে ব্যবসা না করতে পারে, তবে আমরা কোথায় কাজ করব? পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে চলব, সেই চিন্তায় রাতে ঘুম আসছে না। সরকার যেন আমাদের পেটে লাথি না মারে।"পরিবেশবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলাতে যেখানে সারা দেশে গাছ লাগানোর তাগিদ দেওয়া হচ্ছে, সেখানে হাজার হাজার চারা উৎপাদনকারী এই কেন্দ্রটি হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। শহরের ভারসাম্য রক্ষা এবং শতাধিক পরিবারের রুটি-রুজির কথা বিবেচনা করে সিটি করপোরেশন ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরে কোটি টাকার নার্সারি উচ্ছেদের পাঁয়তারা
দীর্ঘ ৭-৮ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রমে ঝোপঝাড় ও জঙ্গল পরিষ্কার করে সবুজ বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন একদল উদ্যমী মানুষ। গড়ে তুলেছিলেন সারিবদ্ধ দৃষ্টিনন্দন নার্সারি। কিন্তু হঠাৎ করেই উচ্ছেদের খড়্গ নেমে এসেছে ঢাকার উত্তরা দিয়াবাড়ীর ১৮ নম্বর সেক্টরের ১০ নম্বর ব্রিজ থেকে ৪ নম্বর ব্রিজ এলাকা পর্যন্ত গড়ে ওঠা নার্সারি পল্লীতে।








