জাতীয়

বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার আন্তর্জাতিক মানে নিতে সরকার সচেষ্ট: স্পিকার

বাংলাদেশের জনগণের বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

⎙ প্রিন্ট
বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার আন্তর্জাতিক মানে নিতে সরকার সচেষ্ট: স্পিকার
ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশের জনগণের বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে নিজ কার্যালয়ে জার্মানির একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও জার্মানির দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সংসদীয় কূটনীতি, নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। স্বাধীনতার সূচনালগ্ন থেকে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় জার্মানির সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। 

একই সঙ্গে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্য জার্মানি বলে উল্লেখ করেন স্পিকার। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাস নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ সহজ ছিল না। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জিত হলেও কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় দেশকে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিগত সরকারের সময়কার নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন স্পিকার।

তিনি অভিযোগ করেন, পরপর তিনটি নির্বাচনের মাধ্যমে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করেছিল। গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এগুলো স্পিকারের বক্তব্য ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন। নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গেও বৈঠকে আলোচনা হয়। স্পিকার বলেন, বর্তমান জাতীয় সংসদে জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছয়জন নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন। 

পাশাপাশি সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য রয়েছেন ৫০ জন। নারী সংসদ সদস্যদের শিক্ষা ও নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টিও প্রতিনিধিদলের সামনে তুলে ধরেন তিনি। বৈঠকে জার্মানি ও বাংলাদেশের মধ্যে সংসদীয় যোগাযোগ আরও জোরদার করার বিষয় গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে দুই দেশের সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতির পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ। 

পাশাপাশি বাংলাদেশে চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। জার্মানির ফেডারেল পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ বুন্দেস্ট্যাগের সদস্য নিকলাস কাপের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে গেরোল্ড ওটেন, জোহান সাথফ ও উলে শাউস অংশ নেন। বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জার্মান দূতাবাস ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

সাক্ষাৎকালে স্পিকার বাংলাদেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার বিষয়ে সরকারের প্রচেষ্টার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সংসদীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

 

 

সম্পর্কিত সংবাদ