অপরাধ ও দুর্ণীতি

উখিয়ায় মাদক বিরোধী ফেইসবুকে পোস্ট দেওয়ার জের ধরে অপহরণ ও পৈশাচিক নির্যাতন

জুলাই যোদ্ধা শেখ সাঈদীর উপর চিহ্নিত মাদক কারবারিদের হামলা

প্রিন্ট
উখিয়ায় মাদক বিরোধী ফেইসবুকে পোস্ট দেওয়ার জের ধরে অপহরণ ও পৈশাচিক নির্যাতন
ছবি সংগৃহীত
⌖ উখিয়া
মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলার অপরাধে একজন সচেতন নাগরিককে মারধর—এ কেমন নৈরাজ্য?উখিয়ায় মাদক বিরোধী ফেইসবুকে পোস্ট দেওয়ার জের ধরে এ‌বং মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় জুলাই যোদ্ধা শেখ সাঈদীকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ‘গরু চোর’ সাজিয়ে প্রকাশ্যে মারধর করেছে মাদকের সাথে জড়িত অপরাধী চক্র। তাকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন সোনার পাড়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে জুলাই যোদ্ধাসহ বিক্ষুব্ধ জনতা।এদিকে গতরাত  দশটার সময় উখিয়ার কোর্ট বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াত- শিবির ও জুলাই যোদ্ধাসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। রাতেই উখিয়া থানায় মামলা দায়ের করে। পুলিশ গত রাতে অভিযান চালালেও আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি।এদিকে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উখিয়া উপজেলা সভাপতি রিদুয়ানুল হক জিসান বলেন, প্রশাসনের কাছে আমাদের সরাসরি প্রশ্ন—মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলাই যদি একজন নাগরিকের অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে উখিয়ায় মাদকবিরোধী অবস্থান নেবে কে? মাদক কারবারিরা কি এতটাই বেপরোয়া হয়ে গেছে যে, প্রকাশ্য দিবালোকে একজন সচেতন নাগরিককে অপমান ও মারধর করার সাহস পায়? তিনি আরো বলেন এ ধরনের ঘটনা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর হামলা নয়; এটি সামাজিক ন্যায়বিচার, নাগরিক নিরাপত্তা এবং মাদকবিরোধী আন্দোলনের ওপর সরাসরি আঘাত। আমরা কোনো প্রতিশোধ বা বেআইনি পদক্ষেপ চাই না—আমরা চাই কঠোর ও নিরপেক্ষ আইনগত ব্যবস্থা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত, গ্রেফতার এবং আইনের আওতায় আনতে হবে।যুব জামায়াতের উখিয়া উপজেলা সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন ওসি সাহেব মাদক বিরোধী মিছিল মিটিং করে, অথচ মাদক কারবারিদের গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে আজ তারা বেপরোয়া এবং আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।বিক্ষোভ পরবর্তী পথসভায় শিবির ও জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেন অবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেফতার করা না হলে তারা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। উখিয়া শিবির সভাপতি মুমিনুল হক ছোটন বলেন আমি প্রতিবাদ জানাতে চাই না, যদি প্রশাসন অবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়,তবে আমরা সকল জনশক্তিকে সাথে নিয়ে রক্তের বদলা নিতে বাধ্য হব।ভিকটিম সাঈদীর বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো:গতকাল বিকেলে আসরের নামাজ পড়ে বের হলাম, বাড়ি থেকে রাস্তা ৩মি. এর পথ, বের হয়ে একটু হেঁটে গাড়ির জন্য যাব ঐ অবস্থায় একজন গিয়ে পেছন দিকে ধরে রাখলো। কথা নাই কিচ্ছু নাই হুট করে ধরলো। ক্ষানিকটা নিজের মধ্যে ভয় কাজ করা শুরু হল। পরে দেখি আরেকজন গিয়ে হাতে হাতুড়ি নিয়ে সোজা গিয়ে মাথায় আঘাত , পরে আরেকজন গিয়ে তলপেট বরাবর আঘাত। একজনে ধরে রাখলো ২ জন তাদের ইচ্ছে মতো আঘাত করে যাচ্ছে। একপর্যায়ে ওরা ৩জনে আমাকে রাস্তা থেকে ধরে টেনে মারতে মারতে নিয়ে যায় ওদের বাসায়। ওখানে নিয়ে গিয়ে আর ৪ জন আসে মোট ৭ জন পরে আরও ১ জন দফায় দফায় হাতুড়ি এবং গাছ দিয়ে আঘাত করে। পরে ঘটনাস্থলে আমার বয়োবৃদ্ধ বাবা মারা উপস্থিত হলে তাদেরকে আক্রমণ করে। তারমধ্যে ৫/৬ জন নিয়মিত আমার উপর আঘাত চালিয়ে যেতে থাকে। তাদের মুখে একটাই ভাষা শুধু বলে চাকরি এবার ফিরিয়ে দে। আমি সার্বজনীন মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলছি, স্পেসিফিক কোন নাম বা চিহ্ন রেখে কথা বলি নাই। কিন্তু তাদের কথা হল আমিই তাদের মেয়ের জামাইর এপিবিএন এর চাকরি খেয়ে দিলাম। এভাবেই মারধর চলতে থাকে প্রায় ৫০মি. মত। একপর্যায়ে বাড়ির মহিলা একটা গরু আনলো। ঐ গরুর রশিটা আমার কোমরে বেধে দিল। আমি ততক্ষণে আমার মৃত্যু নিশ্চিত জেনে নিলাম। একপর্যায়ে গরুকে ডানে টানে আবার বামে টানে , ততক্ষণে কোমরের রশির টান আমার মৃত্যু হয়ে যাচ্ছে। একপর্যায়ে মহিলা টা বললো ভিডিও কর গরু চুর বলে ফেইসবুকে ছেড়ে দে।পরক্ষণেই ওরা আমার মাথার চুল এবং দাড়ি গুলো কেটে দিল! এরপরে কোনমতেই ওরা আবারও মারার জন্য গাছ আনতে গেলে একপর্যায়ে রশি খুলে কোনমতেই জীবন রক্ষার জন্য চাচার ভাষায় আশ্রয় নিলাম। ওখানেও হামলা করে ২জন।ওদের কথা হল মাদকের বিরুদ্ধে বললেই ওদের বিরুদ্ধে বলা। ইনশাআল্লাহ সুস্থ হয়ে ফিরে পূনরায় মাদকের বিরুদ্ধে একটা অবস্থান তৈরী করবো ইনশাআল্লাহ। যদি তা করতে গিয়ে জীবন ও দিতে হয় তবু্ও দিব। তারপর ও একটা মাদকমুক্ত তরুণ প্রজন্ম উপহার দিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।আজকে এ ঘটনার জের ধরে সোনার পাড়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ও জুলাই যোদ্ধা শেখ সাঈদীর উপর চিহ্নিত  মাদক কারবারি ছিদ্দিক ও ইউসুফ জালাল গং কতৃক হামলার প্রতিবাদে ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিশাল মানববন্ধন বক্তব্য রাখছেন সোনার পাড়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মোহাম্মদ শিবলী নোমানসহ শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা ।

সম্পর্কিত সংবাদ