অপরাধ ও দুর্ণীতি

পরীক্ষার হলে বসেই স্থগিতের খবর! প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে রাজধানীজুড়ে বিক্ষোভ

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়নের পরীক্ষা স্থগিত, ঢাকায় সড়ক অবরোধ

⎙ প্রিন্ট
পরীক্ষার হলে বসেই স্থগিতের খবর! প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে রাজধানীজুড়ে বিক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার কারণে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগের পরীক্ষাটি বাতিল করে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। 
গত শনিবার ১০ অক্টোবর সকাল ১১টায় পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু শুরু হওয়ার ঠিক মুহূর্তের আগেই স্থগিতের ঘোষণাটি এসে পড়ে। এই ঘটনায় বেশ ক্ষুব্ধ হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে দেন চাকরিপ্রার্থীরা। 
প্রথম আলো, বাংলা ট্রিবিউন ও কালবেলার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, সাতমসজিদ সড়ক, মিরপুরের টেকনিক্যাল মোড় এবং মতিঝিলসহ নানা জায়গায় চাকরিপ্রার্থীরা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানান। জানা গেছে, বেলা সোয়া ১১টার দিকে সাতমসজিদ সড়কে এবং সাড়ে ১১টার দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। দুপুর ১২টার দিকে মিরপুর বাংলা কলেজের সামনেও পরীক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে বসেন। এর ফলে ওই রাস্তাগুলোতে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিকভাবে ব্যাহত হয়। রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে ১১তম গ্রেডের এই নিয়োগ পরীক্ষাটি হওয়ার কথা ছিল। 
এই পরীক্ষায় মোট শূন্যপদ রয়েছে ২৪২টি। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ হলো, পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্রের ছবি ছড়িয়ে পড়ে যায়। কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী জানিয়েছেন, পরীক্ষা হলে বসার পরেই তাঁরা স্থগিতের খবরটি পান। দূরদূরান্ত থেকে ঢাকায় আসা পরীক্ষার্থীরা আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। বগুড়া থেকে আসা চাকরিপ্রার্থী মো. শাহাদাত হোসেন কালবেলাকে জানান, তিনি রাতভর বাসে চড়ে ভ্রমণ করে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন। কেন্দ্রে খাতা দেওয়ার পর তাঁকে জানানো হয় যে পরীক্ষা আর হবে না। আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীরা প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং দ্রুত নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানান। তাঁদের একাংশ আবার আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত করেছেন। অধিদপ্তরের প্রশাসন উইংয়ের পরিচালক ডি এম আতিকুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নের কিছু অংশের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নের মিল পাওয়া গেছে। তবে প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান বলেছেন যে, পুলিশ বাহিনী এখন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলার কাজে ব্যস্ত রয়েছে। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যাতে বাইরের কেউ কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নতুন পরীক্ষার তারিখ নিয়ে এবং প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে কী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা জানার জন্য চাকরিপ্রার্থীরা এখন আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ