জেনারেশন ৯৪ ঘিরে অসন্তোষ, মাহমুদ ও শিপুর বিরুদ্ধে অ্যাডমিনদের প্রতিবাদ
এসএসসি ১৯৯৪ ব্যাচের বন্ধুদের নিয়ে গড়ে ওঠা অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক প্ল্যাটফর্ম ‘জেনারেশন ৯৪’—বন্ধুদের ভালোবাসা, ত্যাগ, পরিশ্রম ও পারস্পরিক সহযোগিতায় ধীরে ধীরে একটি শক্তিশালী বন্ধুত্বের প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়। বহু সদস্যের সময়, শ্রম, আন্তরিকতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ‘জেনারেশন ৯৪’ এসএসসি ১৯৯৪ ব্যাচের বন্ধুদের মধ্যে অন্যতম পরিচিত ও জনপ্রিয় গ্রুপ হিসেবে জায়গা করে নেয়। এই গ্রুপকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল বন্ধুত্ব, মিলনমেলা, সামাজিক যোগাযোগ, পারস্পরিক সহায়তা এবং নানা মানবিক উদ্যোগ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বন্ধুদের এক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার ক্ষেত্রেও গ্রুপটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে সদস্যদের দাবি।তবে সেই জনপ্রিয় গ্রুপটিকেই ঘিরে এখন তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ। গ্রুপটির একাধিক অ্যাডমিন একত্রিত হয়ে গ্রুপ পরিচালনা, একক সিদ্ধান্ত, স্বেচ্ছাচারিতা এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট অ্যাডমিনদের দাবি, গ্রুপের ক্রিয়েটর মাহমুদ বিন সামাদ ও তাঁর স্ত্রী শিপুর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেই তারা সম্মিলিত অবস্থান নিয়েছেন।শুক্রবার রাজধানীর উত্তরার টাইম ফোর সাইন রেস্টুরেন্টে গ্রুপটির একাধিক অ্যাডমিন ও সক্রিয় সদস্য একত্রিত হন। সেখানে তারা ‘জেনারেশন ৯৪’-এর বর্তমান পরিস্থিতি, পরিচালন কাঠামো, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্য, এটি শুধু একটি সাধারণ আড্ডা ছিল না; বরং দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও অভিযোগের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।সংশ্লিষ্টদের দাবি, ‘জেনারেশন ৯৪’ কোনো একক ব্যক্তির প্রচেষ্টায় তৈরি হয়নি। বরং অসংখ্য বন্ধুর ভালোবাসা, ত্যাগ, সময়, শ্রম ও পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে এটি আজকের অবস্থানে এসেছে। তাই গ্রুপটি কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের একক নিয়ন্ত্রণাধীন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হোক—এটি তারা মেনে নিতে চান না।তাদের অভিযোগ, সময়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্য অ্যাডমিনদের মতামত উপেক্ষা করা, পরিচালনায় একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়।এ ছাড়া মাহমুদ বিন সামাদ ও শিপুর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন একাধিক অ্যাডমিন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা পূর্ণাঙ্গ আর্থিক নথি বা তদন্ত প্রতিবেদন এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।অ্যাডমিনদের দাবি, তারা এর আগেও বিভিন্নভাবে বিষয়গুলো নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মাহমুদ বিন সামাদ ও শিপুর বিরুদ্ধে গ্রুপ পরিচালনা ও আর্থিক বিষয় নিয়ে একাধিক পোস্ট ও মন্তব্য প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট অনেক সদস্য ও অ্যাডমিন।বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা গ্রুপের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অ্যাডমিনদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং পরিচালনায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।তাদের ভাষ্য, বর্তমান বিরোধের মূল জায়গা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নয়; বরং গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং আর্থিক স্বচ্ছতা।সংশ্লিষ্টরা চান, দীর্ঘদিনের শ্রম ও ভালোবাসায় গড়ে ওঠা ‘জেনারেশন ৯৪’ যেন আবারও বন্ধুত্ব, ঐক্য, আস্থা ও পারস্পরিক সম্মানের জায়গায় ফিরে আসে।