রাজনীতি

গণভোটের রায় উপেক্ষা করে সংবিধান বদলালে রাজপথে আন্দোলনে নামবে জামায়াত

সংবিধান সংস্কার নিয়ে সরকারের সঙ্গে সংঘাতের পথে জামায়াত, রাজপথে আন্দোলনের প্রস্তুতি!

⎙ প্রিন্ট
গণভোটের রায় উপেক্ষা করে সংবিধান বদলালে রাজপথে আন্দোলনে নামবে জামায়াত
ছবি সংগৃহীত
গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কার কার্যকর না করে যদি প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে সেই উদ্যোগ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা এমন মত পোষণ করছেন যে, সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার কারণে সরকারের সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা থাকলেও গণভোটে জনগণ যে অনুমোদন দিয়েছে, সেটিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ সরকারের নেই।
 গত ৯ অক্টোবর প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিভিন্ন বক্তব্যের ভিত্তিতে দলটির এই অবস্থান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। জামায়াতের দলীয় অবস্থান অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধন করা এবং সংবিধান সংস্কার করা একই বিষয় নয়, বরং এ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। জুলাই সনদের মাধ্যমে যে সমস্ত সাংবিধানিক পরিবর্তনের প্রস্তাব সামনে আনা হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত নেওয়া হয়েছিল বলে দলটি মনে করে। জামায়াতের নেতারা অভিযোগ করে বলছেন, বিএনপি সরকার গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন না করে বরং সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই কারণেই সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে নিজেদের প্রতিনিধি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের আশঙ্কা হলো, যদি তারা ওই কমিটিতে অংশগ্রহণ করে, তাহলে তাতে সরকারের চলমান সংশোধন প্রক্রিয়াকে এক ধরনের রাজনৈতিক বৈধতা প্রদান করা হতে পারে। 
দলটির নেতারা আরও জানিয়েছেন, সাংবিধানিক সংস্কারের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সংসদের ভেতরে ও বাইরে পাশাপাশি রাজপথেও তাদের কর্মসূচি আরও জোরদার করা হবে। তবে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে সংবিধান সংশোধন করার সাংবিধানিক ক্ষমতা সরকারের রয়েছে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
অন্যদিকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন কী পদ্ধতিতে হবে, সেই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। এই বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জামায়াতের পরবর্তী কর্মসূচি এবং সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থানই আগামীতে এই চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণ করবে।

সম্পর্কিত সংবাদ