রাজধানী ঢাকার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেককে কেন্দ্র করে এখন যে বিতর্ক চলছে, তার মধ্যেই শুক্রবার জুমার নামাজ শেষ হওয়ার পর একদল মুসল্লি বিক্ষোভ করেছেন।
মসজিদের উত্তর গেটের সামনে তাঁরা বিক্ষোভ করেন এবং অভিযোগ তোলেন যে খতিবের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর দুপুরের দিকে হওয়া ওই বিক্ষোভের একপর্যায়ে জামায়াতে ইসলামী এবং দলটির প্রতিষ্ঠাতা আবুল আ'লা মওদূদীকে লক্ষ্য করে নানা ধরনের স্লোগান দেওয়া হয়।
এর ফলে কিছুক্ষণের জন্য ওই এলাকায় বেশ উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঠিক সেই সময়েই মসজিদের আশপাশের এলাকায় বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গী দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীরাও একটি মিছিল করছিলেন। বিক্ষোভে যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের কয়েকজনের অভিযোগ হলো, একটি রাজনৈতিক মহল জাতীয় মসজিদের খতিবকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাঁদের দাবি অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও খতিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তবে এই ধরনের অভিযোগের সপক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায় এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কিছু কিছু মানুষ জামায়াত ও শিবিরবিরোধী স্লোগানও দিয়েছেন। এই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়। পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুল আলম জানিয়েছেন, একই এলাকায় বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচি থাকার কারণেই সাময়িকভাবে ভিন্ন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ঘটনাস্থলে জামায়াতে ইসলামীর কোনো কর্মসূচি ছিল না বলে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়েছে। বাংলা ট্রিবিউন জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে দলীয় একটি সূত্রের দাবি, সেখানে তাদের কোনো কর্মসূচি ছিল না। জাতীয় মসজিদের খতিবকে ঘিরে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে বিষয়টি আবারও নতুন করে আলোচনায় চলে এসেছে।
মসজিদের ধর্মীয় কার্যক্রম, খতিবের দায়িত্ব এবং রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই করে দেখতে হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বায়তুল মোকাররমে খতিব ইস্যুতে বিক্ষোভ, জামায়াতবিরোধী স্লোগানে উত্তেজনা








