অপরাধ ও দুর্ণীতি

চাঁদাবাজির তালিকায় নারায়ণগঞ্জ শীর্ষে, ছিনতাইয়ে মোহাম্মদপুর এগিয়ে!

দেশজুড়ে ৩ হাজার ৫৮৬ জন চাঁদাবাজের তালিকা, কোন এলাকায় কতজন?

⎙ প্রিন্ট
চাঁদাবাজির তালিকায় নারায়ণগঞ্জ শীর্ষে, ছিনতাইয়ে মোহাম্মদপুর এগিয়ে!
চাঁদাবাজির তালিকায় নারায়ণগঞ্জ শীর্ষে, ছিনতাইয়ে মোহাম্মদপুর এগিয়ে!
দেশের নানা অঞ্চলে চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে যাদের নাম উঠে এসেছে, তাদের একটি সুবিস্তৃত তালিকা প্রস্তুত করেছে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী এসআরবি। 
গত শনিবার, ১০ অক্টোবর সকাল ১১টা ২০ মিনিটে প্রকাশিত দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ওই বাহিনীর নথিপত্র বিশ্লেষণ করে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে এসআরবির ১৫টি ব্যাটালিয়নের আওতায় মোট তিন হাজার ৫৮৬ জনকে চাঁদাবাজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। একই নথিতে দুই হাজার ২৫৮ জনকে দুর্ধর্ষ অপরাধী এবং আরও ৫৩৪ জনকে ছিনতাইকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চাঁদাবাজদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নাম স্থান পেয়েছে নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের। এর মধ্যে এসআরবি-১১ ব্যাটালিয়নের আওতায় রয়েছে ৫৬৫ জনের নাম। আর চট্টগ্রাম অঞ্চলের এসআরবি-৭ ব্যাটালিয়নের তালিকায় নাম রয়েছে ৫০৩ জনের। 
এই দুই অঞ্চলের তালিকা মিলিয়ে মোট এক হাজার ৬৮ জনের নাম রয়েছে, যা সারা দেশের চাঁদাবাজির তালিকার প্রায় ৩০ শতাংশ। অপরদিকে ছিনতাইকারীদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি নাম পাওয়া গেছে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও তার আশপাশের এলাকায়। এসআরবি-২ ব্যাটালিয়নের তালিকায় এই অঞ্চলের ১৩০ জনকে ছিনতাইকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া মিরপুর ও আশপাশের এলাকায় রয়েছে ১১২ জনের নাম। ঢাকা ও তার আশপাশের পাঁচটি ব্যাটালিয়নের তালিকায় মোট এক হাজার ২৫৪ জনকে চাঁদাবাজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসআরবির মহাপরিচালক মো. আহসান হাবিব পলাশ জানিয়েছেন, কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্যের ভিত্তিতেই এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। 
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে তালিকাটি হালনাগাদ করা হচ্ছে। এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে শিল্পাঞ্চলে চাঁদাবাজিবিরোধী অভিযান চালিয়ে ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
 তবে শুধু তালিকায় নাম থাকার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আদালতে অপরাধী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন। বাহিনীটি জানিয়েছে, তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি না করাই তাদের মূল লক্ষ্য। আগামী দিনগুলোতেও এলাকাভিত্তিক নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে এসআরবি।

সম্পর্কিত সংবাদ