বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান সংঘাত, গভীরতর বিভাজন ও আস্থার সংকটের মধ্যে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সংলাপ এবং সর্বস্তরের মানুষের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রের পরিধি নির্বাচনের চেয়েও বিস্তৃত। মানবাধিকার সুরক্ষা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক জীবনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রতিদিনের চর্চার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র বিকশিত হয়।
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। বাণীতে গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষকে সম্পৃক্ত করা, ভিন্নমতের প্রতি মনোযোগ দেওয়া এবং সহযোগিতার মাধ্যমে মানুষের আস্থা পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, বিভাজন ক্রমেই গভীর হচ্ছে এবং সংঘাতের বিস্তার ঘটছে। একই সঙ্গে মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে। নাগরিক ও তাদের সরকারের মধ্যে যে সামাজিক চুক্তি রয়েছে, সেটিও দুর্বল হয়ে পড়ছে। এমন বাস্তবতায় গণতন্ত্রের মৌলিক মূল্যবোধের চর্চা অব্যাহত রাখা জরুরি বলে তার বাণীতে উঠে এসেছে।
গণতন্ত্রের ভিত্তি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি নির্বাচনের পাশাপাশি মানুষের অধিকার ও অংশগ্রহণের বিষয়টিকে সামনে আনেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নাগরিক ও রাজনৈতিক পরিসরে প্রত্যেক মানুষের অর্থবহ ভূমিকা নিশ্চিত করা গণতন্ত্রের দৈনন্দিন দায়িত্বের অংশ। এই প্রক্রিয়ায় মানবাধিকার এবং আইনের শাসনকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
মহাসচিব বলেন, সংলাপ, সহযোগিতা এবং ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র সমৃদ্ধ হয়। নাগরিক সমাজের মতামত ও অংশগ্রহণও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আলোচনা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া গণতান্ত্রিক চর্চাকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে।
এ বছরের আলোচনাভিত্তিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্বারোপের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণকে সমৃদ্ধ করতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে একত্র করা প্রয়োজন। বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির মানুষের অংশগ্রহণ আস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে আরও শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সংকট মোকাবিলায় সক্ষম সমাজ গঠনের পথ তৈরি করে।
বাণীতে নিজের দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন জাতিসংঘ মহাসচিব। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি মনে করিয়ে দেন, গণতন্ত্রকে কখনো নিশ্চিত বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিকে থাকবে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
তিনি বলেন, প্রতিবার বিভাজনের বদলে সংলাপ এবং মুখোমুখি সংঘাতের বদলে সহযোগিতার পথ বেছে নেওয়ার মাধ্যমে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় মানুষের এমন প্রতিটি সিদ্ধান্তের গুরুত্ব রয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের পাশাপাশি প্রতিদিনই প্রতিটি মানুষের কণ্ঠস্বরের গুরুত্ব নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার আহ্বান জানান মহাসচিব। গণতন্ত্র যেন প্রতিটি সমাজের প্রয়োজনীয় ও প্রাপ্য শান্তি, মর্যাদা এবং অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে পারে, সে লক্ষ্যেই সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন তিনি।
গণতন্ত্র শুধু নির্বাচন নয়, মানবাধিকার ও অংশগ্রহণের চর্চা: জাতিসংঘ








