সারাদেশ

এনসিটি চুক্তি বাতিল না হলে ১৯ অক্টোবর আমরণ অনশনের ঘোষণা শ্রমিকদের

⎙ প্রিন্ট
এনসিটি চুক্তি বাতিল না হলে ১৯ অক্টোবর আমরণ অনশনের ঘোষণা শ্রমিকদের


চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বা এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রতীকী গণঅনশন কর্মসূচি শেষে আগামী ১৯ অক্টোবর থেকে আমরণ অনশনে বসার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন।

তিনি জানান, সরকারকে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে কার্যকর আলোচনা শুরু না হলে ১৯ অক্টোবর থেকে একই স্থানে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করা হবে।

এর আগে সোমবার বেলা ১১টার পর বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা প্রতীকী গণঅনশন শুরু করেন।

কর্মসূচিতে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র এবং বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা অংশ নেন।

আন্দোলনকারীদের দাবি, দুবাইভিত্তিক DP World-এর সঙ্গে করা এনসিটি পরিচালন চুক্তি বাতিল করতে হবে।

পাশাপাশি বন্দর শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

শ্রমিকনেতাদের অভিযোগ, চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো সম্পর্কে তাঁরা বিস্তারিত জানতে পারেননি।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, আলোচনার জন্য সরকারকে সময় দেওয়া হলেও এখনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শ্রমিকেরা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চান। তবে দাবি উপেক্ষিত হলে আন্দোলন আরও কঠোর করা হবে।

গত ৮ অক্টোবর ঢাকায় এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মনিরুজ্জামান এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান ঈসা কাজিম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

সরকারের অবস্থান অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপারেটরের মাধ্যমে টার্মিনালের দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং পণ্য পরিবহন কার্যক্রম উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে শ্রমিক সংগঠনগুলো চাকরির নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন তুলে চুক্তির বিরোধিতা করছে।

এখন ১৮ অক্টোবরের মধ্যে সরকার আলোচনার উদ্যোগ নেয় কি না, সেটিই আন্দোলনের পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের ভূমিকা বিবেচনায় এই বিরোধ দীর্ঘায়িত হলে অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ