চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলন নতুন মোড় নিয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ভবনের ফটকে তালা লাগিয়ে দেন।
একই সঙ্গে ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার খবর পাওয়া গেছে।
আজকের পত্রিকার সন্ধ্যা ৭টা ৫২ মিনিটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপাচার্যকে ভবনের ভেতরে রেখেই শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নবনিযুক্ত উপাচার্য তাঁদের আন্দোলন উপেক্ষা করে তালা ভেঙে প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করেছেন।
তাঁরা নতুন উপাচার্যের নিয়োগ প্রত্যাখ্যান করে আগের উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছেন।
গত ২১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
নিয়োগের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন।
দীর্ঘ আন্দোলনের কারণে নতুন উপাচার্য এতদিন সরাসরি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি অনলাইনে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
সোমবার সকালে উপাচার্য প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁকে ভবন ছেড়ে যাওয়ার জন্য সময় বেঁধে দেন।
নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর ভবনের ফটকে তালা লাগানো হয়।
এদিকে চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি এবং স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন পূর্ণ কর্মবিরতির পাশাপাশি সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
তিন সংগঠনের যৌথ বিবৃতিতে নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে।
চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসে হামলার অভিযোগ তুলে ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন।
আন্দোলনকারীদের একটি অংশ ওই হামলায় স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেছে।
তবে স্থানীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের বাইরে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
পুলিশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
নতুন উপাচার্যের পদত্যাগ কিংবা নিয়োগসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন ছাড়া আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানিয়েছেন কয়েকজন আন্দোলনকারী।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের পক্ষ থেকে সংকট নিরসনে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।








