অর্থনীতি

আইএমএফের পূর্বাভাসে প্রবৃদ্ধি ৩.২, মূল্যস্ফীতি ১০.৯ শতাংশের শঙ্কা

⎙ প্রিন্ট
আইএমএফের পূর্বাভাসে প্রবৃদ্ধি ৩.২, মূল্যস্ফীতি ১০.৯ শতাংশের শঙ্কা

বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগজনক পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ। সংস্থাটির সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ২ শতাংশে নামতে পারে। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হয়েছে। পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে এটি হবে প্রায় ১৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ গড় মূল্যস্ফীতি। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে অর্থনীতিবিদেরা সতর্ক করেছেন, দুর্বল বিনিয়োগ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদি সংকটে ফেলতে পারে।

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আরও কমে ২ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে। সংস্থাটি ২০৩১ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম থাকার আশঙ্কা করেছে। অন্যদিকে সরকারের কৌশলগত পরিকল্পনায় ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য রয়েছে। বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ৪ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। ফলে তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাসই সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার নিচে। জ্বালানিসংকট, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ কমে যাওয়াকে অর্থনৈতিক স্থবিরতার গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সাবেক বিশ্বব্যাংক অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেছেন, ব্যাংকিং খাত, জ্বালানি এবং ব্যবসা পরিচালনার নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়িত না হলে পরিস্থিতির উন্নতি কঠিন হবে। সিপিডির বিশিষ্ট ফেলো ফাহমিদা খাতুন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর। তবে আইএমএফের পূর্বাভাস নিশ্চিত ভবিষ্যৎ ফলাফল নয়; অর্থনৈতিক নীতি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং সংস্কারের অগ্রগতির ভিত্তিতে তা পরিবর্তিত হতে পারে। সরকারের সামনে এখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো বড় চ্যালেঞ্জ। 

সম্পর্কিত সংবাদ