ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র উত্থান, অনুসারীতে বিজেপিকেও ছাড়াল নতুন অনলাইন আন্দোলন


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬

‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র উত্থান, অনুসারীতে বিজেপিকেও ছাড়াল নতুন অনলাইন আন্দোলন

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত–এর এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) অল্প সময়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহেরও কম সময়ে ইনস্টাগ্রামে সংগঠনটির অনুসারী সংখ্যা দেড় কোটির বেশি ছাড়িয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি–র দল ভারতীয় জনতা পার্টি–র অনুসারীর সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে বিজেপির ইনস্টাগ্রাম অনুসারী প্রায় ৯০ লাখ।

মোবাইল ফোনের ওপর আঁকা তেলাপোকার প্রতীককে লোগো হিসেবে ব্যবহার করা সিজেপি নিজেদের ‘অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে জানান, বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্য থেকেই এই নামের ধারণা এসেছে। তার দাবি, বিচারপতি বেকার তরুণদের তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। যদিও পরে বিচারপতি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, মন্তব্যটি তরুণদের উদ্দেশে নয়, বরং ভুয়া ও জাল ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশে করা হয়েছিল।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে বসবাসরত দিপকে বলেন, ভারতের তরুণদের সমস্যা মূলধারার রাজনৈতিক আলোচনায় উপেক্ষিত হচ্ছে। কর্মসংস্থান সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা নিয়ে তরুণদের উদ্বেগ বাড়লেও রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রতিনিধিত্ব করছে না বলেই মনে করেন তিনি।

সিজেপির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে সদস্যদের তৈরি বিভিন্ন গ্রাফিক্স ও ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে। সেখানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সংসদ ও মন্ত্রিসভার অর্ধেক আসন নারীদের জন্য সংরক্ষণ, প্রশ্নফাঁসের কারণে বাতিল হওয়া মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা–সহ নানা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত ডেলয়েট গ্লোবালের এক জরিপেও ভারতের তরুণদের মধ্যে বাড়তে থাকা হতাশার চিত্র উঠে এসেছে। জরিপে বলা হয়, ১৯৯৫ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া জেন-জি প্রজন্ম কর্মসংস্থানের অভাব ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ব্যাপক চাপে রয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে প্রায় ১৪২ কোটি মানুষের মধ্যে ৬৫ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর বেকারত্বের হার ছিল ৩ দশমিক ১ শতাংশ। তবে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ছিল ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। শহরাঞ্চলে যুব বেকারত্বের হার ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং গ্রামাঞ্চলে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ।

তবে দিপকে সিজেপিকে বাংলাদেশ বা নেপালের জেন-জি নেতৃত্বাধীন সরকারবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, সংগঠনটি আপাতত রাজনৈতিক দল গঠনের পথে যাচ্ছে না। বরং এটি তরুণদের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশের একটি অনলাইনভিত্তিক আন্দোলন হিসেবেই এগোতে চায়।

তিনি বলেন, আন্দোলনটি ভবিষ্যতে ভারতের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সবকিছুই সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হবে।

দিপকের দাবি, গুগল ফর্মের মাধ্যমে ইতোমধ্যে চার লাখের বেশি মানুষ সিজেপির সদস্য হওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। এদের ৭০ শতাংশের বেশি সদস্যের বয়স ১৯ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। সংগঠনটির সদস্য হওয়ার জন্য চারটি শর্তও নির্ধারণ করা হয়েছে—বেকার হতে হবে, অলস হতে হবে, সবসময় অনলাইনে থাকতে হবে এবং ‘পেশাদারভাবে ক্ষোভ প্রকাশ’ করতে জানতে হবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক এই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক উদ্যোগ ভারতের তরুণদের হতাশা ও বিচ্ছিন্নতার অনুভূতিকেই নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র উত্থান, অনুসারীতে বিজেপিকেও ছাড়াল নতুন অনলাইন আন্দোলন

প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

featured Image

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত–এর এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) অল্প সময়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহেরও কম সময়ে ইনস্টাগ্রামে সংগঠনটির অনুসারী সংখ্যা দেড় কোটির বেশি ছাড়িয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি–র দল ভারতীয় জনতা পার্টি–র অনুসারীর সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে বিজেপির ইনস্টাগ্রাম অনুসারী প্রায় ৯০ লাখ।

মোবাইল ফোনের ওপর আঁকা তেলাপোকার প্রতীককে লোগো হিসেবে ব্যবহার করা সিজেপি নিজেদের ‘অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে জানান, বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্য থেকেই এই নামের ধারণা এসেছে। তার দাবি, বিচারপতি বেকার তরুণদের তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। যদিও পরে বিচারপতি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, মন্তব্যটি তরুণদের উদ্দেশে নয়, বরং ভুয়া ও জাল ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশে করা হয়েছিল।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে বসবাসরত দিপকে বলেন, ভারতের তরুণদের সমস্যা মূলধারার রাজনৈতিক আলোচনায় উপেক্ষিত হচ্ছে। কর্মসংস্থান সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা নিয়ে তরুণদের উদ্বেগ বাড়লেও রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রতিনিধিত্ব করছে না বলেই মনে করেন তিনি।

সিজেপির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে সদস্যদের তৈরি বিভিন্ন গ্রাফিক্স ও ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে। সেখানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সংসদ ও মন্ত্রিসভার অর্ধেক আসন নারীদের জন্য সংরক্ষণ, প্রশ্নফাঁসের কারণে বাতিল হওয়া মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা–সহ নানা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত ডেলয়েট গ্লোবালের এক জরিপেও ভারতের তরুণদের মধ্যে বাড়তে থাকা হতাশার চিত্র উঠে এসেছে। জরিপে বলা হয়, ১৯৯৫ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া জেন-জি প্রজন্ম কর্মসংস্থানের অভাব ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ব্যাপক চাপে রয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে প্রায় ১৪২ কোটি মানুষের মধ্যে ৬৫ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর বেকারত্বের হার ছিল ৩ দশমিক ১ শতাংশ। তবে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ছিল ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। শহরাঞ্চলে যুব বেকারত্বের হার ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং গ্রামাঞ্চলে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ।

তবে দিপকে সিজেপিকে বাংলাদেশ বা নেপালের জেন-জি নেতৃত্বাধীন সরকারবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, সংগঠনটি আপাতত রাজনৈতিক দল গঠনের পথে যাচ্ছে না। বরং এটি তরুণদের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশের একটি অনলাইনভিত্তিক আন্দোলন হিসেবেই এগোতে চায়।

তিনি বলেন, আন্দোলনটি ভবিষ্যতে ভারতের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সবকিছুই সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হবে।

দিপকের দাবি, গুগল ফর্মের মাধ্যমে ইতোমধ্যে চার লাখের বেশি মানুষ সিজেপির সদস্য হওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। এদের ৭০ শতাংশের বেশি সদস্যের বয়স ১৯ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। সংগঠনটির সদস্য হওয়ার জন্য চারটি শর্তও নির্ধারণ করা হয়েছে—বেকার হতে হবে, অলস হতে হবে, সবসময় অনলাইনে থাকতে হবে এবং ‘পেশাদারভাবে ক্ষোভ প্রকাশ’ করতে জানতে হবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক এই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক উদ্যোগ ভারতের তরুণদের হতাশা ও বিচ্ছিন্নতার অনুভূতিকেই নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ