ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

পদ্মার চরে গুলি করে তুলে নেওয়া স্বপনের খোঁজ নেই ৪০ ঘণ্টা পরও


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬

পদ্মার চরে গুলি করে তুলে নেওয়া স্বপনের খোঁজ নেই ৪০ ঘণ্টা পরও
ছবিঃ সংগ্রহীত

রাজশাহীর পদ্মা নদীর চর আবারও রক্তাক্ত। বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের কালিদাসখালিতে গুলি করে স্বপন বেপারীকে স্পিডবোটে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ৪০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ স্বপন জীবিত নাকি নিহত হয়েছেন, সেটিও নিশ্চিত করতে পারছে না পুলিশ। তবে পরিবারের দাবি, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি আর বেঁচে নেই।

মঙ্গলবার (১৯ মে) গভীর রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দুইটি ট্রলারে করে আসা ১৫ থেকে ১৬ জন অস্ত্রধারী হঠাৎ করেই এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। এ সময় স্বপন বেপারী গুলিবিদ্ধ হন। পরে অস্ত্রের মুখে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। হামলায় জিয়াউল হক নামে আরও একজন আহত হন।

বুধবার (২১ মে) রাত ৮টা পর্যন্ত স্বপনের কোনো খোঁজ পায়নি পুলিশ। ঘটনায় কাউকে আটকও করা যায়নি।

স্বপনের মা রোকেয়া বেগম বলেন, গরমের কারণে বাড়ির সামনে বসেছিলেন তার ছেলে। এমন সময় দুটি নৌকা এসে ঘাটে ভেড়ে। নৌকায় থাকা লোকজন স্বপনকে জিজ্ঞেস করে, “তুই এখানে কেন?” জবাবে স্বপন বলেন, “এটা আমার বাড়ি, আমার বাপের বাড়ি।” কথা শেষ হতেই তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।

তিনি আরও বলেন, “আমি জানালা খুলে তাকাতেই ওরা হুমকি দিয়ে বলে, জানালা বন্ধ কর, না হলে তোকেও গুলি করব।”

স্বপনের বাবা সিদ্দিক বেপারী জানান, ঘটনার পর রাতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে তিনি অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে বাঘা থানায় মামলা করেন।

পুলিশ বলছে, পদ্মার চরাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার, বালুমহলের নিয়ন্ত্রণ, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “স্বপনের সন্ধানে অভিযান চলছে। তিনি জীবিত নাকি মৃত, সেটি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমরা বিভিন্ন দিক মাথায় রেখে তদন্ত করছি।”

স্থানীয় সূত্র জানায়, পদ্মার চরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ চলে আসছে। চাঁদাবাজি, বালুমহলের ভাগবাটোয়ারা, মাদক কারবার ও জবরদখলকে কেন্দ্র করে প্রায়ই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে চরাঞ্চল। এসব ঘটনায় বিভিন্ন সময় ১১টি সশস্ত্র বাহিনীর নাম উঠে এসেছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর পদ্মার চরে গোলাগুলিতে বাঘার নাজমুল ও আমান এবং কুষ্টিয়ার লিটন নিহত হন। পরে প্রশাসনের ‘অপারেশন ফাস্ট লাইট’ অভিযানে কয়েক দফায় ২০৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও কুষ্টিয়ার চরাঞ্চলে কাঁকন বাহিনীসহ অন্তত ১১টি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয়। এদের মধ্যে রয়েছে মণ্ডল বাহিনী, টুকু বাহিনী, সাঈদ বাহিনী, লালচাঁদ বাহিনী, রাখি বাহিনী, শরীফ কাইগি বাহিনী, রাজ্জাক বাহিনী, চল্লিশ বাহিনী, বাহান্ন বাহিনী, সুখচাঁদ বাহিনী ও নাহারুল বাহিনী।

এদিকে কাঁকন বাহিনীর সদস্য পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি দাবি করেছেন, বালুঘাটের নিয়ন্ত্রণ ও আয় ভাগাভাগি নিয়েই সাম্প্রতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্য, একটি বাহিনী ঘাটের দৈনিক আয়ের অর্ধেক দাবি করছিল। এ নিয়ে মাঝেমধ্যেই হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছিল।

সবশেষ চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি একই উপজেলার পলাশি ফতেপুর করালি নওশারার চরে নিজ বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন সোহেল রানা। আহত হন তার স্ত্রীও। একের পর এক রক্তাক্ত ঘটনায় পদ্মার চরাঞ্চলে এখন আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।




এস.আর 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


পদ্মার চরে গুলি করে তুলে নেওয়া স্বপনের খোঁজ নেই ৪০ ঘণ্টা পরও

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image

রাজশাহীর পদ্মা নদীর চর আবারও রক্তাক্ত। বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের কালিদাসখালিতে গুলি করে স্বপন বেপারীকে স্পিডবোটে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ৪০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ স্বপন জীবিত নাকি নিহত হয়েছেন, সেটিও নিশ্চিত করতে পারছে না পুলিশ। তবে পরিবারের দাবি, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি আর বেঁচে নেই।

মঙ্গলবার (১৯ মে) গভীর রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দুইটি ট্রলারে করে আসা ১৫ থেকে ১৬ জন অস্ত্রধারী হঠাৎ করেই এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। এ সময় স্বপন বেপারী গুলিবিদ্ধ হন। পরে অস্ত্রের মুখে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। হামলায় জিয়াউল হক নামে আরও একজন আহত হন।

বুধবার (২১ মে) রাত ৮টা পর্যন্ত স্বপনের কোনো খোঁজ পায়নি পুলিশ। ঘটনায় কাউকে আটকও করা যায়নি।

স্বপনের মা রোকেয়া বেগম বলেন, গরমের কারণে বাড়ির সামনে বসেছিলেন তার ছেলে। এমন সময় দুটি নৌকা এসে ঘাটে ভেড়ে। নৌকায় থাকা লোকজন স্বপনকে জিজ্ঞেস করে, “তুই এখানে কেন?” জবাবে স্বপন বলেন, “এটা আমার বাড়ি, আমার বাপের বাড়ি।” কথা শেষ হতেই তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।

তিনি আরও বলেন, “আমি জানালা খুলে তাকাতেই ওরা হুমকি দিয়ে বলে, জানালা বন্ধ কর, না হলে তোকেও গুলি করব।”

স্বপনের বাবা সিদ্দিক বেপারী জানান, ঘটনার পর রাতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে তিনি অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে বাঘা থানায় মামলা করেন।

পুলিশ বলছে, পদ্মার চরাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার, বালুমহলের নিয়ন্ত্রণ, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “স্বপনের সন্ধানে অভিযান চলছে। তিনি জীবিত নাকি মৃত, সেটি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমরা বিভিন্ন দিক মাথায় রেখে তদন্ত করছি।”

স্থানীয় সূত্র জানায়, পদ্মার চরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ চলে আসছে। চাঁদাবাজি, বালুমহলের ভাগবাটোয়ারা, মাদক কারবার ও জবরদখলকে কেন্দ্র করে প্রায়ই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে চরাঞ্চল। এসব ঘটনায় বিভিন্ন সময় ১১টি সশস্ত্র বাহিনীর নাম উঠে এসেছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর পদ্মার চরে গোলাগুলিতে বাঘার নাজমুল ও আমান এবং কুষ্টিয়ার লিটন নিহত হন। পরে প্রশাসনের ‘অপারেশন ফাস্ট লাইট’ অভিযানে কয়েক দফায় ২০৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও কুষ্টিয়ার চরাঞ্চলে কাঁকন বাহিনীসহ অন্তত ১১টি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয়। এদের মধ্যে রয়েছে মণ্ডল বাহিনী, টুকু বাহিনী, সাঈদ বাহিনী, লালচাঁদ বাহিনী, রাখি বাহিনী, শরীফ কাইগি বাহিনী, রাজ্জাক বাহিনী, চল্লিশ বাহিনী, বাহান্ন বাহিনী, সুখচাঁদ বাহিনী ও নাহারুল বাহিনী।

এদিকে কাঁকন বাহিনীর সদস্য পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি দাবি করেছেন, বালুঘাটের নিয়ন্ত্রণ ও আয় ভাগাভাগি নিয়েই সাম্প্রতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্য, একটি বাহিনী ঘাটের দৈনিক আয়ের অর্ধেক দাবি করছিল। এ নিয়ে মাঝেমধ্যেই হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছিল।

সবশেষ চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি একই উপজেলার পলাশি ফতেপুর করালি নওশারার চরে নিজ বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন সোহেল রানা। আহত হন তার স্ত্রীও। একের পর এক রক্তাক্ত ঘটনায় পদ্মার চরাঞ্চলে এখন আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।




এস.আর 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ