ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মিড-ডে মিলে নিম্নমানের খাবার, প্রশ্নের মুখে সরকারের বড় উদ্যোগ


রুশাইদ আহমেদ
রুশাইদ আহমেদ সাব-এডিটর
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬

মিড-ডে মিলে নিম্নমানের খাবার, প্রশ্নের মুখে সরকারের বড় উদ্যোগ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং ঝরে পড়া কমাতে সরকারের চালু করা ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচি নানা অনিয়মের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আধাপাকা কলা, পচা ডিম, বাসি পাউরুটি ও নিম্নমানের খাবার বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগের বাস্তবায়ন নিয়েও দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।

চট্টগ্রামসহ নানা অঞ্চলে মিলছে অভিযোগ

সম্প্রতি চট্টগ্রামের আনোয়ারার একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আধাপাকা ও কাঁচা কলা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বরগুনার তালতলীতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পচা ডিম বিতরণের ঘটনাও সামনে আসে।

এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, মাদারীপুর সদর এবং বরগুনার আমতলীর কয়েকটি বিদ্যালয়ে নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিছু শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।

ঠিকাদারদের ওপর দায় দেওয়ার চেষ্টা

এসব অভিযোগের বিপরীতে কার্যক্রমটির সঙ্গে যুক্ত কর্তাব্যক্তিরা সকল দায় ঠিকাদারদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছু অসাধু ঠিকাদারের কারণে ভালো এই উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসনের পর্যাপ্ত তদারকির অভাবও এসব অনিয়মের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের খাবারের মান নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। অসাধু সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং তদারকি আরও বাড়াতে হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, মিড-ডে মিলে কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনিয়ম ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো, দরপত্র প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা এবং সরবরাহকারীদের সঙ্গে বৈঠকের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা

Bangladesh Bureau of Educational Information and Statistics এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৬৫ হাজার ৫৬৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১ কোটি ৩৪ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি বিদ্যালয়ের ৩০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী বর্তমানে মিড-ডে মিল কর্মসূচির আওতায় রয়েছে।

এই কর্মসূচিতে সপ্তাহজুড়ে শিক্ষার্থীদের বানরুটি, সেদ্ধ ডিম, কলা, ইউএইচটি দুধ এবং ফর্টিফায়েড বিস্কুট দেওয়া হয়। তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ রয়েছে ১ হাজার ৯২ কোটি টাকা।

সরকার আগামী অর্থবছরে আরও ৩৪৮ উপজেলায় এই কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। এতে ব্যয় হতে পারে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, খাবারের মান নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ করলে তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। তবে কার্যকর নজরদারি ছাড়া এটি কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না।

বিষয় : প্রাথমিক

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


মিড-ডে মিলে নিম্নমানের খাবার, প্রশ্নের মুখে সরকারের বড় উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং ঝরে পড়া কমাতে সরকারের চালু করা ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচি নানা অনিয়মের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আধাপাকা কলা, পচা ডিম, বাসি পাউরুটি ও নিম্নমানের খাবার বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগের বাস্তবায়ন নিয়েও দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।

চট্টগ্রামসহ নানা অঞ্চলে মিলছে অভিযোগ

সম্প্রতি চট্টগ্রামের আনোয়ারার একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আধাপাকা ও কাঁচা কলা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বরগুনার তালতলীতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পচা ডিম বিতরণের ঘটনাও সামনে আসে।

এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, মাদারীপুর সদর এবং বরগুনার আমতলীর কয়েকটি বিদ্যালয়ে নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিছু শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।

ঠিকাদারদের ওপর দায় দেওয়ার চেষ্টা

এসব অভিযোগের বিপরীতে কার্যক্রমটির সঙ্গে যুক্ত কর্তাব্যক্তিরা সকল দায় ঠিকাদারদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছু অসাধু ঠিকাদারের কারণে ভালো এই উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসনের পর্যাপ্ত তদারকির অভাবও এসব অনিয়মের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের খাবারের মান নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। অসাধু সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং তদারকি আরও বাড়াতে হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, মিড-ডে মিলে কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনিয়ম ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো, দরপত্র প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা এবং সরবরাহকারীদের সঙ্গে বৈঠকের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা

Bangladesh Bureau of Educational Information and Statistics এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৬৫ হাজার ৫৬৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১ কোটি ৩৪ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি বিদ্যালয়ের ৩০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী বর্তমানে মিড-ডে মিল কর্মসূচির আওতায় রয়েছে।

এই কর্মসূচিতে সপ্তাহজুড়ে শিক্ষার্থীদের বানরুটি, সেদ্ধ ডিম, কলা, ইউএইচটি দুধ এবং ফর্টিফায়েড বিস্কুট দেওয়া হয়। তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ রয়েছে ১ হাজার ৯২ কোটি টাকা।

সরকার আগামী অর্থবছরে আরও ৩৪৮ উপজেলায় এই কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। এতে ব্যয় হতে পারে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, খাবারের মান নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ করলে তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। তবে কার্যকর নজরদারি ছাড়া এটি কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ