ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

৫ ব্যাংকের আটকে থাকা অর্থে প্রভিশন ছাড়


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬

৫ ব্যাংকের আটকে থাকা অর্থে প্রভিশন ছাড়

দেশের একীভূত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকে আটকে থাকা বিপুল অঙ্কের অর্থের বিপরীতে প্রভিশন (নিরাপত্তা সঞ্চিতি) রাখার বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বিদ্যমান আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নির্দেশনায় বলা হয়, আটকে থাকা অর্থের বিপরীতে অতিরিক্ত প্রভিশন সংরক্ষণ করার প্রয়োজন নেই। ফলে ব্যাংকগুলোর তাৎক্ষণিক ব্যয় কমে আসবে এবং তাদের তারল্য ব্যবস্থাপনায় সাময়িক স্বস্তি ফিরে আসবে।

একীভূত হওয়া পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক। আর্থিক দুরবস্থার প্রেক্ষাপটে এসব ব্যাংককে একীভূত করে একটি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে, যাতে তাদের স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করা যায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এসব ব্যাংকের কাছে অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি আটকে রয়েছে। এর মধ্যে একটি ইসলামী ব্যাংকের একক হিসাবেই প্রায় ৮ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা আটকে ছিল। আংশিক অর্থ ফেরত এলেও এখনো উল্লেখযোগ্য অঙ্ক বকেয়া রয়েছে।

এর আগে ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট (বিএসডি) এবং ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস অ্যান্ড মার্কেটস (ডিএফআইএম) থেকে এই আটকে থাকা অর্থের বিপরীতে প্রভিশন রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ব্যাংক রেজুলেশন ডিপার্টমেন্ট (বিআরডি) এ বিষয়ে নতুন ব্যাখ্যা দেয়, যেখানে বলা হয়—এ ধরনের অর্থকে তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভাব্য ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করার প্রয়োজন নেই।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, আটকে থাকা এই অর্থ একটি নির্দিষ্ট পুনরুদ্ধার স্কিমের আওতায় রয়েছে। ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো হয় সরাসরি অর্থ ফেরত পাবে, অথবা দীর্ঘমেয়াদি আমানত (এফডিআর) কিংবা শেয়ারের মাধ্যমে সমপরিমাণ মূল্য পাবে। এ কারণে এটিকে পূর্ণাঙ্গ ক্ষতি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, নির্দিষ্ট সময় শেষে শেয়ার বরাদ্দ অথবা পাঁচ বছর পর মুনাফাসহ অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় প্রভিশন রাখার যৌক্তিকতা নেই বলেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্তে স্বল্পমেয়াদে ব্যাংকগুলোর মূলধন সংরক্ষণ এবং আর্থিক চাপ কমবে। তবে আটকে থাকা অর্থ দ্রুত উদ্ধার এবং পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার কার্যকর বাস্তবায়ন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

তারা বলছেন, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরত বা বিকল্প আর্থিক সমন্বয় বাস্তবায়ন করা না যায়, তাহলে ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিষয় : ব্যাংক

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


৫ ব্যাংকের আটকে থাকা অর্থে প্রভিশন ছাড়

প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬

featured Image

দেশের একীভূত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকে আটকে থাকা বিপুল অঙ্কের অর্থের বিপরীতে প্রভিশন (নিরাপত্তা সঞ্চিতি) রাখার বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বিদ্যমান আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নির্দেশনায় বলা হয়, আটকে থাকা অর্থের বিপরীতে অতিরিক্ত প্রভিশন সংরক্ষণ করার প্রয়োজন নেই। ফলে ব্যাংকগুলোর তাৎক্ষণিক ব্যয় কমে আসবে এবং তাদের তারল্য ব্যবস্থাপনায় সাময়িক স্বস্তি ফিরে আসবে।

একীভূত হওয়া পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক। আর্থিক দুরবস্থার প্রেক্ষাপটে এসব ব্যাংককে একীভূত করে একটি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে, যাতে তাদের স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করা যায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এসব ব্যাংকের কাছে অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি আটকে রয়েছে। এর মধ্যে একটি ইসলামী ব্যাংকের একক হিসাবেই প্রায় ৮ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা আটকে ছিল। আংশিক অর্থ ফেরত এলেও এখনো উল্লেখযোগ্য অঙ্ক বকেয়া রয়েছে।

এর আগে ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট (বিএসডি) এবং ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস অ্যান্ড মার্কেটস (ডিএফআইএম) থেকে এই আটকে থাকা অর্থের বিপরীতে প্রভিশন রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ব্যাংক রেজুলেশন ডিপার্টমেন্ট (বিআরডি) এ বিষয়ে নতুন ব্যাখ্যা দেয়, যেখানে বলা হয়—এ ধরনের অর্থকে তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভাব্য ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করার প্রয়োজন নেই।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, আটকে থাকা এই অর্থ একটি নির্দিষ্ট পুনরুদ্ধার স্কিমের আওতায় রয়েছে। ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো হয় সরাসরি অর্থ ফেরত পাবে, অথবা দীর্ঘমেয়াদি আমানত (এফডিআর) কিংবা শেয়ারের মাধ্যমে সমপরিমাণ মূল্য পাবে। এ কারণে এটিকে পূর্ণাঙ্গ ক্ষতি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, নির্দিষ্ট সময় শেষে শেয়ার বরাদ্দ অথবা পাঁচ বছর পর মুনাফাসহ অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় প্রভিশন রাখার যৌক্তিকতা নেই বলেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্তে স্বল্পমেয়াদে ব্যাংকগুলোর মূলধন সংরক্ষণ এবং আর্থিক চাপ কমবে। তবে আটকে থাকা অর্থ দ্রুত উদ্ধার এবং পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার কার্যকর বাস্তবায়ন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

তারা বলছেন, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরত বা বিকল্প আর্থিক সমন্বয় বাস্তবায়ন করা না যায়, তাহলে ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ