ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ডিজিটাল পরিচয়পত্রে হকারদের বৈধতা, নির্ধারিত স্থানে বসার সুযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬

ডিজিটাল পরিচয়পত্রে হকারদের বৈধতা, নির্ধারিত স্থানে বসার সুযোগ

রাজধানীতে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের শৃঙ্খলার আওতায় আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। সংস্থাটি হকারদের জন্য ডিজিটাল পরিচয়পত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে, যার মাধ্যমে তাদের বৈধতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট স্থানে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে ডিএনসিসির নগর ভবনে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সংস্থাটির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ বিবেচনায় হকারদের বলপ্রয়োগের মাধ্যমে উচ্ছেদ না করে একটি বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, ডিজিটাল পরিচয়পত্রের মাধ্যমে প্রতিটি হকারের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা সুশৃঙ্খলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন এবং নগরীর যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। এই উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত ফুটপাত দখল ও বিশৃঙ্খলা কমবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

তবে এই ব্যবস্থা স্থায়ী নয় বলেও উল্লেখ করেন প্রশাসক। তিনি বলেন, হকারদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে ভবিষ্যতে হকার্স মার্কেট গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, পূর্বের মতো যত্রতত্র বসে ব্যবসা করার সুযোগ আর থাকবে না।

ডিএনসিসি প্রশাসক হকারদের নির্ধারিত নীতিমালা মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্থায়ীভাবে চকি বা কাঠামো স্থাপন করা যাবে না। বিশেষ ডিজাইনের ট্রলির মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে এবং সেই ট্রলিতেও নিবন্ধন কার্ড সংযুক্ত থাকবে। এছাড়া ব্যবসা পরিচালনার সময় সৃষ্ট বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। এসব নির্দেশনা অমান্য করলে ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি বাতিল করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ডিজিটাল পরিচয়পত্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, এ ব্যবস্থার ফলে হকারদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির সুযোগ কমে যাবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী চাঁদা দাবি করলে তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, চাঁদা নেওয়া এবং দেওয়া—উভয়ই অপরাধ, এবং এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকবে সিটি করপোরেশন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানীর ফুটপাত ও সড়কে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিত হকার কার্যক্রম নগর ব্যবস্থাপনায় বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ডিজিটাল পরিচয়পত্র প্রদান এবং নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণের উদ্যোগ নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে।

তবে এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত তদারকির ওপর। পাশাপাশি হকারদের পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা না গেলে এই ব্যবস্থা টেকসই হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয় : ডিজিটাল পরিচয়পত্র হকার

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ডিজিটাল পরিচয়পত্রে হকারদের বৈধতা, নির্ধারিত স্থানে বসার সুযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬

featured Image

রাজধানীতে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের শৃঙ্খলার আওতায় আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। সংস্থাটি হকারদের জন্য ডিজিটাল পরিচয়পত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে, যার মাধ্যমে তাদের বৈধতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট স্থানে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে ডিএনসিসির নগর ভবনে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সংস্থাটির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ বিবেচনায় হকারদের বলপ্রয়োগের মাধ্যমে উচ্ছেদ না করে একটি বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, ডিজিটাল পরিচয়পত্রের মাধ্যমে প্রতিটি হকারের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা সুশৃঙ্খলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন এবং নগরীর যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। এই উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত ফুটপাত দখল ও বিশৃঙ্খলা কমবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

তবে এই ব্যবস্থা স্থায়ী নয় বলেও উল্লেখ করেন প্রশাসক। তিনি বলেন, হকারদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে ভবিষ্যতে হকার্স মার্কেট গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, পূর্বের মতো যত্রতত্র বসে ব্যবসা করার সুযোগ আর থাকবে না।

ডিএনসিসি প্রশাসক হকারদের নির্ধারিত নীতিমালা মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্থায়ীভাবে চকি বা কাঠামো স্থাপন করা যাবে না। বিশেষ ডিজাইনের ট্রলির মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে এবং সেই ট্রলিতেও নিবন্ধন কার্ড সংযুক্ত থাকবে। এছাড়া ব্যবসা পরিচালনার সময় সৃষ্ট বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। এসব নির্দেশনা অমান্য করলে ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি বাতিল করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ডিজিটাল পরিচয়পত্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, এ ব্যবস্থার ফলে হকারদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির সুযোগ কমে যাবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী চাঁদা দাবি করলে তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, চাঁদা নেওয়া এবং দেওয়া—উভয়ই অপরাধ, এবং এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকবে সিটি করপোরেশন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানীর ফুটপাত ও সড়কে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিত হকার কার্যক্রম নগর ব্যবস্থাপনায় বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ডিজিটাল পরিচয়পত্র প্রদান এবং নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণের উদ্যোগ নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে।

তবে এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত তদারকির ওপর। পাশাপাশি হকারদের পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা না গেলে এই ব্যবস্থা টেকসই হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ