ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

তথ্যের অখণ্ডতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক যোগাযোগ জোরদারের আহ্বান বাংলাদেশের


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

তথ্যের অখণ্ডতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক যোগাযোগ জোরদারের আহ্বান বাংলাদেশের

তথ্যের অখণ্ডতা নিশ্চিত করা, ভ্রান্ত ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার রোধ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার (২৭ এপ্রিল) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত তথ্য কমিটির ৪৮তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে এ আহ্বান জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।

অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভ্রান্ত তথ্য, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, ঘৃণামূলক বক্তব্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার আন্তর্জাতিক সমাজে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব প্রবণতা সমাজে বিভাজন বাড়াচ্ছে এবং পারস্পরিক আস্থা ও সহাবস্থানকে দুর্বল করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূত নোমান চৌধুরী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল যুগে তথ্য প্রবাহ দ্রুততর হলেও এর সঠিকতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করে ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, আন্তঃদেশীয় ও অভ্যন্তরীণ ডিজিটাল বৈষম্য কমানো এখন সময়ের দাবি। বিশ্বের অনেক অঞ্চলে এখনো তথ্যপ্রাপ্তির সমান সুযোগ নেই, যা উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। তাই একটি সমান ও ন্যায্য তথ্য ব্যবস্থার কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদানের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দীর্ঘদিনের এবং নারী শান্তিরক্ষীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম নিয়ে অপপ্রচার মোকাবিলা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশগত দায়বদ্ধতা বৃদ্ধির ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও মনোযোগ প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকট এবং গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়সহ বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকটে ভ্রান্ত তথ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এসব সংকটের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য প্রচার এবং আন্তর্জাতিক সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভ্রান্তিকর তথ্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

তিনি জাতিসংঘের নীতিমালা ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী, দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তথ্যের নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হলে বৈশ্বিক আস্থা পুনর্গঠন সম্ভব হবে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একটি নিরাপদ, সঠিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক তথ্য ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়, যা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিষয় : বাংলাদেশ

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


তথ্যের অখণ্ডতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক যোগাযোগ জোরদারের আহ্বান বাংলাদেশের

প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

তথ্যের অখণ্ডতা নিশ্চিত করা, ভ্রান্ত ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার রোধ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার (২৭ এপ্রিল) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত তথ্য কমিটির ৪৮তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে এ আহ্বান জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।

অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভ্রান্ত তথ্য, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, ঘৃণামূলক বক্তব্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার আন্তর্জাতিক সমাজে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব প্রবণতা সমাজে বিভাজন বাড়াচ্ছে এবং পারস্পরিক আস্থা ও সহাবস্থানকে দুর্বল করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূত নোমান চৌধুরী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল যুগে তথ্য প্রবাহ দ্রুততর হলেও এর সঠিকতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করে ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, আন্তঃদেশীয় ও অভ্যন্তরীণ ডিজিটাল বৈষম্য কমানো এখন সময়ের দাবি। বিশ্বের অনেক অঞ্চলে এখনো তথ্যপ্রাপ্তির সমান সুযোগ নেই, যা উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। তাই একটি সমান ও ন্যায্য তথ্য ব্যবস্থার কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদানের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দীর্ঘদিনের এবং নারী শান্তিরক্ষীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম নিয়ে অপপ্রচার মোকাবিলা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশগত দায়বদ্ধতা বৃদ্ধির ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও মনোযোগ প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকট এবং গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়সহ বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকটে ভ্রান্ত তথ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এসব সংকটের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য প্রচার এবং আন্তর্জাতিক সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভ্রান্তিকর তথ্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

তিনি জাতিসংঘের নীতিমালা ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী, দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তথ্যের নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হলে বৈশ্বিক আস্থা পুনর্গঠন সম্ভব হবে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একটি নিরাপদ, সঠিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক তথ্য ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়, যা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ