ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বাহিনীর কর্মকর্তা, নাবিক ও অসামরিক সদস্যদের মধ্যে মোট ১৪ জনকে বীরত্বপূর্ণ ও সেবামূলক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন পদকে ভূষিত করা হয়। এর মধ্যে চারজনকে দেওয়া হয় ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক’, চারজনকে ‘কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক’, তিনজনকে ‘প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড পদক’ এবং তিনজনকে ‘প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক’। উপকূলীয় নিরাপত্তা, মাদকবিরোধী অভিযান, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং দুর্যোগকালীন উদ্ধার কার্যক্রমে অসামান্য অবদান রাখায় তাদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ভিত্তি স্থাপিত হয় ১৯৯৪ সালে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের সময় উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র বাহিনী গঠনের আইনি কাঠামো প্রণয়নের মাধ্যমে। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বাহিনীর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় এবং একই বছরের ১৯ ডিসেম্বর পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম শুরু করে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিন দশকের বেশি সময় ধরে কোস্ট গার্ড দেশের উপকূলীয় ও নদীঘেঁষা অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে বাহিনীটি চারটি জোনের অধীনে ৬৩টি স্টেশন ও আউটপোস্ট, ২৮টি জাহাজ এবং ১৩৮টি দ্রুতগামী বোটের মাধ্যমে দেশের ২১টি উপকূলীয় জেলায় দায়িত্ব পালন করছে। বিস্তীর্ণ সমুদ্রসীমা ও উপকূলীয় অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধ এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

কোস্ট গার্ডের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, বন্দর নিরাপত্তা, সুন্দরবনসহ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল রক্ষা, মাদক ও চোরাচালান দমন, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং দস্যুতা নির্মূল। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায়ও বাহিনীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা এবং নদীভাঙনের মতো সংকটময় পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগণের পাশে দাঁড়ানো কোস্ট গার্ডের নিয়মিত দায়িত্বে পরিণত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের দীর্ঘ উপকূলীয় অঞ্চল ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ডের ভূমিকা দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাহিনীটি ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

উপকূলীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সামুদ্রিক সম্পদের সুরক্ষায় কোস্ট গার্ডের অবদান বাংলাদেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করেছে। তিন দশকের যাত্রায় বাহিনীটি এখন দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিষয় : কোস্ট গার্ড

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বাহিনীর কর্মকর্তা, নাবিক ও অসামরিক সদস্যদের মধ্যে মোট ১৪ জনকে বীরত্বপূর্ণ ও সেবামূলক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন পদকে ভূষিত করা হয়। এর মধ্যে চারজনকে দেওয়া হয় ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক’, চারজনকে ‘কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক’, তিনজনকে ‘প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড পদক’ এবং তিনজনকে ‘প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক’। উপকূলীয় নিরাপত্তা, মাদকবিরোধী অভিযান, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং দুর্যোগকালীন উদ্ধার কার্যক্রমে অসামান্য অবদান রাখায় তাদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ভিত্তি স্থাপিত হয় ১৯৯৪ সালে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের সময় উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র বাহিনী গঠনের আইনি কাঠামো প্রণয়নের মাধ্যমে। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বাহিনীর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় এবং একই বছরের ১৯ ডিসেম্বর পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম শুরু করে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিন দশকের বেশি সময় ধরে কোস্ট গার্ড দেশের উপকূলীয় ও নদীঘেঁষা অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে বাহিনীটি চারটি জোনের অধীনে ৬৩টি স্টেশন ও আউটপোস্ট, ২৮টি জাহাজ এবং ১৩৮টি দ্রুতগামী বোটের মাধ্যমে দেশের ২১টি উপকূলীয় জেলায় দায়িত্ব পালন করছে। বিস্তীর্ণ সমুদ্রসীমা ও উপকূলীয় অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধ এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

কোস্ট গার্ডের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, বন্দর নিরাপত্তা, সুন্দরবনসহ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল রক্ষা, মাদক ও চোরাচালান দমন, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং দস্যুতা নির্মূল। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায়ও বাহিনীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা এবং নদীভাঙনের মতো সংকটময় পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগণের পাশে দাঁড়ানো কোস্ট গার্ডের নিয়মিত দায়িত্বে পরিণত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের দীর্ঘ উপকূলীয় অঞ্চল ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ডের ভূমিকা দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাহিনীটি ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

উপকূলীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সামুদ্রিক সম্পদের সুরক্ষায় কোস্ট গার্ডের অবদান বাংলাদেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করেছে। তিন দশকের যাত্রায় বাহিনীটি এখন দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ