সিঙ্গাপুরে একটি ভেন্ডিং মেশিন থেকে স্ট্র চেটে আবার সেটি মেশিনে ফেরত রাখার ঘটনায় এক ১৮ বছর বয়সী ফরাসি কিশোরের বিরুদ্ধে ‘পাবলিক নিউসেন্স’ (জনস্বার্থে বিঘ্ন সৃষ্টি) ও ‘মিসচিফ’ (ইচ্ছাকৃত ক্ষতিসাধন)-এর অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ঘটনাটি জনমনে অসন্তোষ ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি করায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই কিশোর সিঙ্গাপুরে শিক্ষার্থী হিসেবে অবস্থান করছেন। গত ১২ মার্চ তিনি একটি কমলার জুস বিক্রির ভেন্ডিং মেশিন ব্যবহার করার সময় একটি স্ট্র বের করেন এবং সেটি চেটে পুনরায় মেশিনের ভেতরে রেখে দেন। পরে তিনি পুরো ঘটনাটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে আপলোড করেন। কর্তৃপক্ষের মতে, তিনি জেনেশুনেই এমন কাজ করেছেন যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরক্তি ও অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।
ঘটনার পর ভেন্ডিং মেশিন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতির মুখে পড়ে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদেরকে মেশিনে থাকা প্রায় ৫০০টি স্ট্র পরিবর্তন করতে হয়েছে, যা অতিরিক্ত খরচ ও কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায়। এ কারণে তার বিরুদ্ধে ‘মিসচিফ’ অভিযোগ আনা হয়েছে, যেখানে বলা হয় তিনি জানতেন তার আচরণে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও কার্যগত ক্ষতি হতে পারে।
সিঙ্গাপুরের আইন অনুযায়ী, ‘পাবলিক নিউসেন্স’ অপরাধে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। অন্যদিকে ‘মিসচিফ’ অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রয়েছে। ফলে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কিশোরটি গুরুতর শাস্তির মুখে পড়তে পারেন।
ঘটনাটি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ভিডিওটি দ্রুত আলোচনার জন্ম দেয়। অনেক ব্যবহারকারী এটিকে দায়িত্বহীন আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জনস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সিঙ্গাপুরের মতো কঠোর পরিচ্ছন্নতা ও আইনশৃঙ্খলার জন্য পরিচিত দেশে এমন ঘটনা বিশেষভাবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযোগটি গত শুক্রবার জেলা আদালতে দায়ের করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২২ মে। এ সময় আদালত প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমের দিক নির্ধারণ করবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সিঙ্গাপুরে জনস্বাস্থ্য ও শৃঙ্খলা রক্ষায় এমন ছোট মনে হলেও আচরণকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়। বিশেষ করে খাদ্য বা পানীয় সরঞ্জামের সঙ্গে সম্পর্কিত যেকোনো অসতর্কতা বা ইচ্ছাকৃত ক্ষতিকর আচরণ কঠোর আইনি পদক্ষেপের আওতায় পড়ে।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়েছে যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভিউ’ বা ‘কনটেন্ট’ তৈরির উদ্দেশ্যে করা অসতর্ক বা দায়িত্বহীন কাজ অনেক সময় গুরুতর আইনি জটিলতায় রূপ নিতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সতর্ক করেছে।
মামলার পরবর্তী শুনানির পরই কিশোরটির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে বলে আদালত সূত্র জানিয়েছে।
বিষয় : ভেন্ডিং মেশিন

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
সিঙ্গাপুরে একটি ভেন্ডিং মেশিন থেকে স্ট্র চেটে আবার সেটি মেশিনে ফেরত রাখার ঘটনায় এক ১৮ বছর বয়সী ফরাসি কিশোরের বিরুদ্ধে ‘পাবলিক নিউসেন্স’ (জনস্বার্থে বিঘ্ন সৃষ্টি) ও ‘মিসচিফ’ (ইচ্ছাকৃত ক্ষতিসাধন)-এর অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ঘটনাটি জনমনে অসন্তোষ ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি করায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই কিশোর সিঙ্গাপুরে শিক্ষার্থী হিসেবে অবস্থান করছেন। গত ১২ মার্চ তিনি একটি কমলার জুস বিক্রির ভেন্ডিং মেশিন ব্যবহার করার সময় একটি স্ট্র বের করেন এবং সেটি চেটে পুনরায় মেশিনের ভেতরে রেখে দেন। পরে তিনি পুরো ঘটনাটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে আপলোড করেন। কর্তৃপক্ষের মতে, তিনি জেনেশুনেই এমন কাজ করেছেন যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরক্তি ও অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।
ঘটনার পর ভেন্ডিং মেশিন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতির মুখে পড়ে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদেরকে মেশিনে থাকা প্রায় ৫০০টি স্ট্র পরিবর্তন করতে হয়েছে, যা অতিরিক্ত খরচ ও কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায়। এ কারণে তার বিরুদ্ধে ‘মিসচিফ’ অভিযোগ আনা হয়েছে, যেখানে বলা হয় তিনি জানতেন তার আচরণে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও কার্যগত ক্ষতি হতে পারে।
সিঙ্গাপুরের আইন অনুযায়ী, ‘পাবলিক নিউসেন্স’ অপরাধে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। অন্যদিকে ‘মিসচিফ’ অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রয়েছে। ফলে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কিশোরটি গুরুতর শাস্তির মুখে পড়তে পারেন।
ঘটনাটি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ভিডিওটি দ্রুত আলোচনার জন্ম দেয়। অনেক ব্যবহারকারী এটিকে দায়িত্বহীন আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জনস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সিঙ্গাপুরের মতো কঠোর পরিচ্ছন্নতা ও আইনশৃঙ্খলার জন্য পরিচিত দেশে এমন ঘটনা বিশেষভাবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযোগটি গত শুক্রবার জেলা আদালতে দায়ের করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২২ মে। এ সময় আদালত প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমের দিক নির্ধারণ করবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সিঙ্গাপুরে জনস্বাস্থ্য ও শৃঙ্খলা রক্ষায় এমন ছোট মনে হলেও আচরণকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়। বিশেষ করে খাদ্য বা পানীয় সরঞ্জামের সঙ্গে সম্পর্কিত যেকোনো অসতর্কতা বা ইচ্ছাকৃত ক্ষতিকর আচরণ কঠোর আইনি পদক্ষেপের আওতায় পড়ে।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়েছে যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভিউ’ বা ‘কনটেন্ট’ তৈরির উদ্দেশ্যে করা অসতর্ক বা দায়িত্বহীন কাজ অনেক সময় গুরুতর আইনি জটিলতায় রূপ নিতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সতর্ক করেছে।
মামলার পরবর্তী শুনানির পরই কিশোরটির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে বলে আদালত সূত্র জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন