ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

জাতীয় গ্রিডে আদানি পাওয়ারের ৯২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় গ্রিডে আদানি পাওয়ারের ৯২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

দেশের জাতীয় গ্রিডে ভারতের আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে প্রায় ৯২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত এই বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ায় চলমান গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুৎ ঘাটতি কমে লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

সোমবার রাত পৌনে ৮টার দিকে আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের দ্বিতীয় ইউনিট জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় শুরু করে। বর্তমানে ইউনিটটি প্রায় ৯২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ধাপে ধাপে উৎপাদন আরও বাড়ানো হবে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, আদানি প্ল্যান্ট থেকে সরবরাহ পাওয়া অতিরিক্ত বিদ্যুৎ দেশের সার্বিক উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করছে। এর ফলে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং লোডশেডিং কমাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শুধু আদানি পাওয়ার নয়, আজ থেকে আরও দুটি উৎস থেকেও জাতীয় গ্রিডে নতুন বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এসএস পাওয়ার এবং আরএনপিএল থেকে অতিরিক্ত ৬০০ মেগাওয়াট করে মোট ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরএনপিএল হচ্ছে বাংলাদেশের রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল) এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান নরিনকোর যৌথ উদ্যোগে গঠিত বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে গেলে জাতীয় গ্রিডে নতুন সক্ষমতা যুক্ত হবে।

বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার সন্ধ্যায় দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট। একই সময়ে আদানি প্ল্যান্টের বিদ্যুৎ ছাড়া সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল ১৪ হাজার ৭১২ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি ছিল, যা লোডশেডিংয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গৃহস্থালি, শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়ে যায়। ফলে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে জাতীয় গ্রিডে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। এই সময়ে আমদানিকৃত বা নতুন উৎসের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল থাকলে ঘাটতি সামাল দেওয়া সহজ হয়।

আদানি পাওয়ার থেকে সরবরাহ চালু হওয়ায় রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হতে পারে। পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকাতেও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জ্বালানি সরবরাহ, কেন্দ্রের কারিগরি সক্ষমতা এবং সঞ্চালন ব্যবস্থার ওপর বাস্তব পরিস্থিতি নির্ভর করবে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহ দেশের তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখার চেষ্টা চলছে। এজন্য দেশীয় কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি আমদানিকৃত বিদ্যুৎও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সব মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে নতুন করে প্রায় এক হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ ঘাটতি কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে সাধারণ গ্রাহক, শিল্প খাত এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বিষয় : জাতীয় গ্রিড

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


জাতীয় গ্রিডে আদানি পাওয়ারের ৯২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশের জাতীয় গ্রিডে ভারতের আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে প্রায় ৯২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত এই বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ায় চলমান গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুৎ ঘাটতি কমে লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

সোমবার রাত পৌনে ৮টার দিকে আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের দ্বিতীয় ইউনিট জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় শুরু করে। বর্তমানে ইউনিটটি প্রায় ৯২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ধাপে ধাপে উৎপাদন আরও বাড়ানো হবে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, আদানি প্ল্যান্ট থেকে সরবরাহ পাওয়া অতিরিক্ত বিদ্যুৎ দেশের সার্বিক উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করছে। এর ফলে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং লোডশেডিং কমাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শুধু আদানি পাওয়ার নয়, আজ থেকে আরও দুটি উৎস থেকেও জাতীয় গ্রিডে নতুন বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এসএস পাওয়ার এবং আরএনপিএল থেকে অতিরিক্ত ৬০০ মেগাওয়াট করে মোট ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরএনপিএল হচ্ছে বাংলাদেশের রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল) এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান নরিনকোর যৌথ উদ্যোগে গঠিত বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে গেলে জাতীয় গ্রিডে নতুন সক্ষমতা যুক্ত হবে।

বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার সন্ধ্যায় দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট। একই সময়ে আদানি প্ল্যান্টের বিদ্যুৎ ছাড়া সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল ১৪ হাজার ৭১২ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি ছিল, যা লোডশেডিংয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গৃহস্থালি, শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়ে যায়। ফলে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে জাতীয় গ্রিডে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। এই সময়ে আমদানিকৃত বা নতুন উৎসের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল থাকলে ঘাটতি সামাল দেওয়া সহজ হয়।

আদানি পাওয়ার থেকে সরবরাহ চালু হওয়ায় রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হতে পারে। পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকাতেও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জ্বালানি সরবরাহ, কেন্দ্রের কারিগরি সক্ষমতা এবং সঞ্চালন ব্যবস্থার ওপর বাস্তব পরিস্থিতি নির্ভর করবে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহ দেশের তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখার চেষ্টা চলছে। এজন্য দেশীয় কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি আমদানিকৃত বিদ্যুৎও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সব মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে নতুন করে প্রায় এক হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ ঘাটতি কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে সাধারণ গ্রাহক, শিল্প খাত এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ