ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে চীনা তেল কোম্পানিগুলোর ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে কঠোর সমালোচনা করেছে বেইজিং। একই সঙ্গে চীন স্পষ্ট জানিয়েছে, একতরফা নিষেধাজ্ঞা তারা মেনে নেবে না এবং নিজেদের কোম্পানিগুলোর বৈধ স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এক ব্রিফিংয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আইনে ভিত্তিহীন একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে চীন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে নিষেধাজ্ঞার অপব্যবহার ও বৈষম্যমূলক নীতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট চীনা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষায় বেইজিং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
এর আগে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ইরানের তেল বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে ওয়াশিংটন। এতে চীনের বড় রিফাইনারি প্রতিষ্ঠান হেংলি পেট্রোকেমিক্যালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেন সীমিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি চীনের শানডং অঞ্চলের বেশ কয়েকটি স্বতন্ত্র বা তথাকথিত ‘টিপট’ রিফাইনারিসহ প্রায় ৪০টি প্রতিষ্ঠানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, ইরানের ‘অবৈধ তেল বাণিজ্য’ বন্ধে বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিভিন্ন তৃতীয় দেশের মাধ্যমে ইরানের তেল আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করছে।
নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার পরপরই বাজারে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব দেখা যায়। সোমবার হেংলি পেট্রোকেমিক্যালের শেয়ারের দাম প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায় বলে জানা গেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের অনেক স্বতন্ত্র রিফাইনারি প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনামূলকভাবে কম সংযুক্ত। ফলে সরাসরি নিষেধাজ্ঞার পূর্ণ প্রভাব তারা কিছুটা এড়াতে সক্ষম হতে পারে। তবুও আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং লেনদেন, জাহাজ পরিবহন ও বীমা খাতে এ ধরনের পদক্ষেপ ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
জ্বালানি বাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ইরান থেকে রপ্তানিকৃত তেলের ৮০ শতাংশের বেশি কিনেছে চীন। ফলে তেহরান-বেইজিং জ্বালানি সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। এই বাস্তবতায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা চলমান থাকায় নতুন এই নিষেধাজ্ঞা দুই দেশের সম্পর্কে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াশিংটনের চাপনীতি অব্যাহত থাকলে চীন বিকল্প অর্থনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থার দিকে আরও ঝুঁকতে পারে। অন্যদিকে ইরানও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় এশীয় বাজারের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে পারে। সব মিলিয়ে বিষয়টি শুধু একটি নিষেধাজ্ঞার ঘটনা নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য ও জ্বালানি রাজনীতির নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত বহন করছে।
বিষয় : ইরান

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে চীনা তেল কোম্পানিগুলোর ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে কঠোর সমালোচনা করেছে বেইজিং। একই সঙ্গে চীন স্পষ্ট জানিয়েছে, একতরফা নিষেধাজ্ঞা তারা মেনে নেবে না এবং নিজেদের কোম্পানিগুলোর বৈধ স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এক ব্রিফিংয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আইনে ভিত্তিহীন একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে চীন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে নিষেধাজ্ঞার অপব্যবহার ও বৈষম্যমূলক নীতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট চীনা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষায় বেইজিং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
এর আগে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ইরানের তেল বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে ওয়াশিংটন। এতে চীনের বড় রিফাইনারি প্রতিষ্ঠান হেংলি পেট্রোকেমিক্যালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেন সীমিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি চীনের শানডং অঞ্চলের বেশ কয়েকটি স্বতন্ত্র বা তথাকথিত ‘টিপট’ রিফাইনারিসহ প্রায় ৪০টি প্রতিষ্ঠানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, ইরানের ‘অবৈধ তেল বাণিজ্য’ বন্ধে বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিভিন্ন তৃতীয় দেশের মাধ্যমে ইরানের তেল আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করছে।
নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার পরপরই বাজারে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব দেখা যায়। সোমবার হেংলি পেট্রোকেমিক্যালের শেয়ারের দাম প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায় বলে জানা গেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের অনেক স্বতন্ত্র রিফাইনারি প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনামূলকভাবে কম সংযুক্ত। ফলে সরাসরি নিষেধাজ্ঞার পূর্ণ প্রভাব তারা কিছুটা এড়াতে সক্ষম হতে পারে। তবুও আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং লেনদেন, জাহাজ পরিবহন ও বীমা খাতে এ ধরনের পদক্ষেপ ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
জ্বালানি বাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ইরান থেকে রপ্তানিকৃত তেলের ৮০ শতাংশের বেশি কিনেছে চীন। ফলে তেহরান-বেইজিং জ্বালানি সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। এই বাস্তবতায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা চলমান থাকায় নতুন এই নিষেধাজ্ঞা দুই দেশের সম্পর্কে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াশিংটনের চাপনীতি অব্যাহত থাকলে চীন বিকল্প অর্থনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থার দিকে আরও ঝুঁকতে পারে। অন্যদিকে ইরানও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় এশীয় বাজারের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে পারে। সব মিলিয়ে বিষয়টি শুধু একটি নিষেধাজ্ঞার ঘটনা নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য ও জ্বালানি রাজনীতির নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত বহন করছে।

আপনার মতামত লিখুন