পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবে এ পর্যন্ত চারজন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ আইটি হেল্পডেস্ক প্রকাশিত সর্বশেষ দৈনিক বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মৃত চারজনই পুরুষ এবং তারা সবাই পবিত্র নগরী মক্কায় ইন্তেকাল করেছেন।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত মদিনা, জেদ্দা কিংবা মিনায় কোনো বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। হজ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে সৌদি আরবে বাংলাদেশি যাত্রীদের অবস্থান, চিকিৎসা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বুলেটিন অনুযায়ী, ২৬ এপ্রিল (সৌদি সময়) পর্যন্ত মোট ৩৫ হাজার ৭৬৬ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৩ হাজার ২৮৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৩২ হাজার ৪৮২ জন।
চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত মোট ৮৯টি ফ্লাইটে বাংলাদেশি হজযাত্রীরা সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করেছে ৩৮টি ফ্লাইট, সৌদি এয়ারলাইন্স ৩৩টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ১৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।
যাত্রী পরিবহনের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি হজযাত্রী বহন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। রাষ্ট্রীয় এই সংস্থার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭৪৮ জন যাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। সৌদি এয়ারলাইন্স পরিবহন করেছে ১২ হাজার ৪৬৯ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স বহন করেছে ৭ হাজার ৫৪৯ জন হজযাত্রী।
হজযাত্রীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে সৌদি আরবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে স্থাপন করা হয়েছে একাধিক মেডিকেল সেন্টার। এসব কেন্দ্র থেকে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৫০টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া হজযাত্রীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, তথ্য সহায়তা এবং জরুরি যোগাযোগের জন্য পরিচালিত আইটি হেল্পডেস্ক থেকে ৬ হাজার ৯২২টি সেবা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি মুসল্লি হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যান। বয়সজনিত অসুস্থতা, শারীরিক জটিলতা, দীর্ঘ ভ্রমণ, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেক সময় হজযাত্রীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন। সে কারণে যাত্রীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা, নিয়মিত চিকিৎসা পরামর্শ গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ বছর হজ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। যাত্রীদের নিবন্ধন, অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য, চিকিৎসা সহায়তা, অভিযোগ গ্রহণ এবং জরুরি যোগাযোগে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
হজযাত্রীদের উদ্দেশে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, সৌদি আরবে পৌঁছে স্থানীয় নির্দেশনা মেনে চলতে হবে, পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে, অতিরিক্ত রোদ এড়িয়ে চলতে হবে এবং অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
এদিকে হজ ফ্লাইট কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আগামী দিনগুলোতে আরও কয়েক হাজার বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা ঘিরে মক্কা ও আশপাশের এলাকায় যাত্রী সংখ্যা আরও বাড়বে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজযাত্রীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। চলমান কার্যক্রমে যেকোনো তথ্য জানার জন্য হজ হেল্পডেস্ক চালু থাকবে।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবে এ পর্যন্ত চারজন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ আইটি হেল্পডেস্ক প্রকাশিত সর্বশেষ দৈনিক বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মৃত চারজনই পুরুষ এবং তারা সবাই পবিত্র নগরী মক্কায় ইন্তেকাল করেছেন।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত মদিনা, জেদ্দা কিংবা মিনায় কোনো বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। হজ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে সৌদি আরবে বাংলাদেশি যাত্রীদের অবস্থান, চিকিৎসা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বুলেটিন অনুযায়ী, ২৬ এপ্রিল (সৌদি সময়) পর্যন্ত মোট ৩৫ হাজার ৭৬৬ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৩ হাজার ২৮৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৩২ হাজার ৪৮২ জন।
চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত মোট ৮৯টি ফ্লাইটে বাংলাদেশি হজযাত্রীরা সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করেছে ৩৮টি ফ্লাইট, সৌদি এয়ারলাইন্স ৩৩টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ১৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।
যাত্রী পরিবহনের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি হজযাত্রী বহন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। রাষ্ট্রীয় এই সংস্থার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭৪৮ জন যাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। সৌদি এয়ারলাইন্স পরিবহন করেছে ১২ হাজার ৪৬৯ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স বহন করেছে ৭ হাজার ৫৪৯ জন হজযাত্রী।
হজযাত্রীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে সৌদি আরবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে স্থাপন করা হয়েছে একাধিক মেডিকেল সেন্টার। এসব কেন্দ্র থেকে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৫০টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া হজযাত্রীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, তথ্য সহায়তা এবং জরুরি যোগাযোগের জন্য পরিচালিত আইটি হেল্পডেস্ক থেকে ৬ হাজার ৯২২টি সেবা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি মুসল্লি হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যান। বয়সজনিত অসুস্থতা, শারীরিক জটিলতা, দীর্ঘ ভ্রমণ, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেক সময় হজযাত্রীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন। সে কারণে যাত্রীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা, নিয়মিত চিকিৎসা পরামর্শ গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ বছর হজ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। যাত্রীদের নিবন্ধন, অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য, চিকিৎসা সহায়তা, অভিযোগ গ্রহণ এবং জরুরি যোগাযোগে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
হজযাত্রীদের উদ্দেশে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, সৌদি আরবে পৌঁছে স্থানীয় নির্দেশনা মেনে চলতে হবে, পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে, অতিরিক্ত রোদ এড়িয়ে চলতে হবে এবং অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
এদিকে হজ ফ্লাইট কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আগামী দিনগুলোতে আরও কয়েক হাজার বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা ঘিরে মক্কা ও আশপাশের এলাকায় যাত্রী সংখ্যা আরও বাড়বে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজযাত্রীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। চলমান কার্যক্রমে যেকোনো তথ্য জানার জন্য হজ হেল্পডেস্ক চালু থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন