ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ইরান-ওমান নতুন সমঝোতা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ইরান-ওমান নতুন সমঝোতা

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন সমঝোতার কথা জানিয়েছে ইরান ও ওমান। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত এই জলপথে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে দুই দেশ বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাম্প্রতিক ওমান সফরের পর এ বার্তা সামনে আসে।

ওমান সফর শেষে আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ইরান ও ওমানের পারস্পরিক আলোচনা অত্যন্ত জরুরি। কারণ এই প্রণালির দুই তীরবর্তী রাষ্ট্র হিসেবে উভয় দেশের স্বার্থ সরাসরি এর সঙ্গে জড়িত। পাশাপাশি সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্যও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এখন বৈশ্বিক গুরুত্ব পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় যৌথ উদ্যোগই বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে বলে মনে করছে তেহরান ও মাসকাট।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ওমান এই সমঝোতা শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয় নয়; বরং এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথ নিয়ে যেকোনো অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।

এদিকে ওমান সফর শেষে আরাগচি ইসলামাবাদে ফিরে সেখান থেকে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে যান। সেখানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা, হরমুজ সংকট এবং আঞ্চলিক যুদ্ধাবস্থা নিয়ে আলোচনাই ওই বৈঠকের মূল বিষয় হবে।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন প্রস্তাবও দিয়েছে ইরান। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তেহরান প্রথম ধাপে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা, যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা এবং অর্থনৈতিক অবরোধ শিথিল করার বিষয়ে অগ্রগতি চায়। এরপর দ্বিতীয় ধাপে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ইরানের অভ্যন্তরে পারমাণবিক ইস্যুতে কতটুকু ছাড় দেওয়া হবে, তা নিয়ে নেতৃত্বের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছাতে চায় দেশটি।

মার্কিন প্রশাসন প্রস্তাবটি পেয়েছে বলে জানা গেলেও ওয়াশিংটন এ বিষয়ে কী অবস্থান নেবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে কূটনৈতিক অচলাবস্থা পুরোপুরি কাটেনি। তবে ওমানের মধ্যস্থতা এবং ইরান-ওমান নতুন সমঝোতা সংকট নিরসনের পথে ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল দ্রুত পুনরুদ্ধার না হয়, তাহলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। এতে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হবে। তাই আঞ্চলিক পক্ষগুলোর পাশাপাশি বড় শক্তিগুলোকেও দ্রুত কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিষয় : ইরান হরমুজ প্রণালী ওমান

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ইরান-ওমান নতুন সমঝোতা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন সমঝোতার কথা জানিয়েছে ইরান ও ওমান। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত এই জলপথে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে দুই দেশ বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাম্প্রতিক ওমান সফরের পর এ বার্তা সামনে আসে।

ওমান সফর শেষে আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ইরান ও ওমানের পারস্পরিক আলোচনা অত্যন্ত জরুরি। কারণ এই প্রণালির দুই তীরবর্তী রাষ্ট্র হিসেবে উভয় দেশের স্বার্থ সরাসরি এর সঙ্গে জড়িত। পাশাপাশি সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্যও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এখন বৈশ্বিক গুরুত্ব পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় যৌথ উদ্যোগই বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে বলে মনে করছে তেহরান ও মাসকাট।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ওমান এই সমঝোতা শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয় নয়; বরং এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথ নিয়ে যেকোনো অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।

এদিকে ওমান সফর শেষে আরাগচি ইসলামাবাদে ফিরে সেখান থেকে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে যান। সেখানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা, হরমুজ সংকট এবং আঞ্চলিক যুদ্ধাবস্থা নিয়ে আলোচনাই ওই বৈঠকের মূল বিষয় হবে।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন প্রস্তাবও দিয়েছে ইরান। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তেহরান প্রথম ধাপে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা, যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা এবং অর্থনৈতিক অবরোধ শিথিল করার বিষয়ে অগ্রগতি চায়। এরপর দ্বিতীয় ধাপে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ইরানের অভ্যন্তরে পারমাণবিক ইস্যুতে কতটুকু ছাড় দেওয়া হবে, তা নিয়ে নেতৃত্বের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছাতে চায় দেশটি।

মার্কিন প্রশাসন প্রস্তাবটি পেয়েছে বলে জানা গেলেও ওয়াশিংটন এ বিষয়ে কী অবস্থান নেবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে কূটনৈতিক অচলাবস্থা পুরোপুরি কাটেনি। তবে ওমানের মধ্যস্থতা এবং ইরান-ওমান নতুন সমঝোতা সংকট নিরসনের পথে ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল দ্রুত পুনরুদ্ধার না হয়, তাহলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। এতে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হবে। তাই আঞ্চলিক পক্ষগুলোর পাশাপাশি বড় শক্তিগুলোকেও দ্রুত কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ