যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা অচল হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আলোচনা ভেঙে যাওয়া, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়া এবং সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, সপ্তাহান্তে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার যুদ্ধবিরতি আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় রোববার থেকেই বাজারে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা সরবরাহ ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক পর্যায়ে ২ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। পরে কিছুটা কমলেও সোমবার এশিয়ার বাজারে তা আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও ৯৬ ডলারের ওপরে উঠে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পরও স্থায়ী সমাধানের রূপরেখা না আসায় বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা এখন আলোচনার চেয়ে বাস্তব সরবরাহ পরিস্থিতির দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন।
তেলের দাম বাড়ার বড় কারণ হয়ে উঠেছে Strait of Hormuz–এ জাহাজ চলাচল হ্রাস। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে বাণিজ্যিক জাহাজের সংখ্যা কমে গেছে।
সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার মাত্র ১৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে। অথচ সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন শতাধিক জাহাজ নিয়মিত এই রুট ব্যবহার করত। এতে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ বেড়েছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো উত্তেজনা দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, তাহলে তেলের দাম আরও দ্রুত বাড়তে পারে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi রাশিয়ার Saint Petersburg সফরে গেছেন। সেখানে তিনি Vladimir Putinসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর পথ খুঁজতেই এই সফর গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আলোচনার স্থবিরতার মধ্যেও এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধাক্কা দেখা যায়নি। Nikkei 225 এবং KOSPI সূচক ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় লেনদেন শুরু করে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত হলে শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এ পরিস্থিতি বিশেষ উদ্বেগের। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। এতে জ্বালানি ভর্তুকি ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অচলাবস্থা শুধু কূটনৈতিক সংকট নয়, তা এখন বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের বড় ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। এখন নজর কূটনৈতিক অগ্রগতির দিকে, কারণ আলোচনায় অগ্রগতি না এলে বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
বিষয় : ইরান যুক্তরাষ্ট্র

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা অচল হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আলোচনা ভেঙে যাওয়া, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়া এবং সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, সপ্তাহান্তে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার যুদ্ধবিরতি আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় রোববার থেকেই বাজারে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা সরবরাহ ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক পর্যায়ে ২ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। পরে কিছুটা কমলেও সোমবার এশিয়ার বাজারে তা আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও ৯৬ ডলারের ওপরে উঠে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পরও স্থায়ী সমাধানের রূপরেখা না আসায় বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা এখন আলোচনার চেয়ে বাস্তব সরবরাহ পরিস্থিতির দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন।
তেলের দাম বাড়ার বড় কারণ হয়ে উঠেছে Strait of Hormuz–এ জাহাজ চলাচল হ্রাস। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে বাণিজ্যিক জাহাজের সংখ্যা কমে গেছে।
সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার মাত্র ১৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে। অথচ সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন শতাধিক জাহাজ নিয়মিত এই রুট ব্যবহার করত। এতে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ বেড়েছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো উত্তেজনা দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, তাহলে তেলের দাম আরও দ্রুত বাড়তে পারে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi রাশিয়ার Saint Petersburg সফরে গেছেন। সেখানে তিনি Vladimir Putinসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর পথ খুঁজতেই এই সফর গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আলোচনার স্থবিরতার মধ্যেও এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধাক্কা দেখা যায়নি। Nikkei 225 এবং KOSPI সূচক ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় লেনদেন শুরু করে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত হলে শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এ পরিস্থিতি বিশেষ উদ্বেগের। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। এতে জ্বালানি ভর্তুকি ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অচলাবস্থা শুধু কূটনৈতিক সংকট নয়, তা এখন বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের বড় ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। এখন নজর কূটনৈতিক অগ্রগতির দিকে, কারণ আলোচনায় অগ্রগতি না এলে বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

আপনার মতামত লিখুন