ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শেরপুরে চাঁদাবাজী মামলার আসামী হাজতবাস হওয়ায় বাদীর বসত-বাড়ীতে হামলা ও ভাংচুর


, শেরপুর (জেলা) প্রতিনিধি:
, শেরপুর (জেলা) প্রতিনিধি:
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

শেরপুরে চাঁদাবাজী মামলার আসামী হাজতবাস হওয়ায় বাদীর বসত-বাড়ীতে হামলা ও ভাংচুর
ছবি : প্রতিনিধি

শেরপুর জেলা সদর উপজেলার বেতমারী ঘুঘুরাকান্দি ইউনিয়নের ঘুঘুরাকান্দি নিছামপুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত পুরোনো বিরোধকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির মামলা, গ্রেপ্তার এবং পরবর্তীতে বাদীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্র ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ওই গ্রামের মৃত আঃ মোতালেবের ছেলে মোঃ আঃ রশীদের সঙ্গে একই এলাকার কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে ২ একর ১৩ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। আঃ রশীদ দাবি করেন, বিআরএস খতিয়ানভুক্ত দাগ নং ১৮১০, ৪২২২ ও ৪২৩০ এর ওই জমি তারা প্রায় ৭০ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন। তবে সম্প্রতি প্রতিপক্ষরা ওই জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে এবং সন্ত্রাসী কায়দায় নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগে বলা হয়, জমি দখলের সময় বাধা দিলে আঃ রশীদের পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তার স্ত্রী মোছাঃ নাছিমা এবং ছেলে আহত হন। একইসঙ্গে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় শেরপুরের বিজ্ঞ সিআর আমলী আদালতে মামলা দায়ের করা হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

মামলার ২ নম্বর আসামি মোঃ মোজাম্মেল আদালতের নির্দেশে হাজতবাসে গেলে অভিযোগ অনুযায়ী অন্য আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরে তারা আদালত চত্বরে বাদীপক্ষের লোকজনের ওপর চড়াও হয়ে হামলা চালায় বলে দাবি করা হয়। এর কিছুদিন পরই তারা আঃ রশীদের বসতবাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর চালায় এবং ব্যাপক তাণ্ডব করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলাকারীরা শুধু বাড়িঘর ভাঙচুর করেই থেমে থাকেনি, বরং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এমনকি প্রতিবন্ধী এক কন্যাসন্তান মায়মুনাকে আঘাত করে হত্যা করে ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

ঘটনার পর এলাকাবাসী বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করলে শেরপুর সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


শেরপুরে চাঁদাবাজী মামলার আসামী হাজতবাস হওয়ায় বাদীর বসত-বাড়ীতে হামলা ও ভাংচুর

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

শেরপুর জেলা সদর উপজেলার বেতমারী ঘুঘুরাকান্দি ইউনিয়নের ঘুঘুরাকান্দি নিছামপুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত পুরোনো বিরোধকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির মামলা, গ্রেপ্তার এবং পরবর্তীতে বাদীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্র ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ওই গ্রামের মৃত আঃ মোতালেবের ছেলে মোঃ আঃ রশীদের সঙ্গে একই এলাকার কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে ২ একর ১৩ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। আঃ রশীদ দাবি করেন, বিআরএস খতিয়ানভুক্ত দাগ নং ১৮১০, ৪২২২ ও ৪২৩০ এর ওই জমি তারা প্রায় ৭০ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন। তবে সম্প্রতি প্রতিপক্ষরা ওই জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে এবং সন্ত্রাসী কায়দায় নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগে বলা হয়, জমি দখলের সময় বাধা দিলে আঃ রশীদের পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তার স্ত্রী মোছাঃ নাছিমা এবং ছেলে আহত হন। একইসঙ্গে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় শেরপুরের বিজ্ঞ সিআর আমলী আদালতে মামলা দায়ের করা হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

মামলার ২ নম্বর আসামি মোঃ মোজাম্মেল আদালতের নির্দেশে হাজতবাসে গেলে অভিযোগ অনুযায়ী অন্য আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরে তারা আদালত চত্বরে বাদীপক্ষের লোকজনের ওপর চড়াও হয়ে হামলা চালায় বলে দাবি করা হয়। এর কিছুদিন পরই তারা আঃ রশীদের বসতবাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর চালায় এবং ব্যাপক তাণ্ডব করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলাকারীরা শুধু বাড়িঘর ভাঙচুর করেই থেমে থাকেনি, বরং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এমনকি প্রতিবন্ধী এক কন্যাসন্তান মায়মুনাকে আঘাত করে হত্যা করে ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

ঘটনার পর এলাকাবাসী বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করলে শেরপুর সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ