ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বাহুবলে পূর্ব জয়পুরে অস্ত্রসজ্জিত হামলা-ভাঙচুর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট; থানায় মামলা



বাহুবলে পূর্ব জয়পুরে অস্ত্রসজ্জিত হামলা-ভাঙচুর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট; থানায় মামলা
ছবি : প্রতীকী

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা-এর পূর্ব জয়পুর গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে সংঘবদ্ধ, অস্ত্রসজ্জিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের এক গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। এতে এক বৃদ্ধ দম্পতিসহ পরিবারের একাধিক সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে টেনু মিয়া (৭০) গুরুতরভাবে জখম হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, তার হাত ও কোমরের হাড় ভেঙে গেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি সংঘবদ্ধ দল স্থানীয় “এক্টিভ বয়েজ ক্লাব”-এর নাম ব্যবহার করে খদভানু (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, ক্লাবটির সভাপতি শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক কাদিরের নেতৃত্বে ২৬ থেকে ৩০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর শুরু করে।

এ সময় খদভানু ও তার স্বামী টেনু মিয়া বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা তাদের ওপর চড়াও হয়। লাঠি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে তাদের গুরুতর আহত করা হয়। বিশেষ করে টেনু মিয়ার ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়, যার ফলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে এবং হাড় ভেঙে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা খদভানুকে টেনে-হিঁচড়ে ঘরের বাইরে এনে মারধর করে এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। তার চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অনার্সে অধ্যয়নরত তার মেয়ে মুক্তা আক্তার ঘটনাস্থলে ছুটে এলে তাকেও মারধর করা হয় এবং শ্লীলতাহানির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

হামলাকারীরা শুধু শারীরিক হামলাতেই থেমে থাকেনি; তারা বাড়ির দরজা-জানালা, আসবাবপত্র ও রান্নাঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। পরে তারা ঘরের ড্রয়ার ভেঙে নগদ এক লাখ দশ হাজার টাকা এবং প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় চার লাখ ষাট হাজার টাকা বলে অভিযোগে জানানো হয়েছে।

ঘটনার সময় ভুক্তভোগীদের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার আগে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়। তারা ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশ, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া এবং এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ঘটনার পর রাতভর হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়ির আশপাশে অবস্থান করে বলে জানানো হয়েছে, যার কারণে ভুক্তভোগী পরিবার আতঙ্কে ঘরবন্দী হয়ে পড়ে এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেনি।

পরদিন ভোরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আহতরা বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ গিয়ে চিকিৎসা নেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী খদভানু বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১৪ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে বাহুবল মডেল থানা-এ একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৭, ৩৮০, ৩৫৪, ৪২৭, ৫০৬ ও ১১৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অভিযুক্তরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তাদের হুমকি দিয়ে আসছিল এবং ঘটনার পরও মামলা না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে তারা এখনও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ বিষয়ে বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


বাহুবলে পূর্ব জয়পুরে অস্ত্রসজ্জিত হামলা-ভাঙচুর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট; থানায় মামলা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা-এর পূর্ব জয়পুর গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে সংঘবদ্ধ, অস্ত্রসজ্জিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের এক গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। এতে এক বৃদ্ধ দম্পতিসহ পরিবারের একাধিক সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে টেনু মিয়া (৭০) গুরুতরভাবে জখম হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, তার হাত ও কোমরের হাড় ভেঙে গেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি সংঘবদ্ধ দল স্থানীয় “এক্টিভ বয়েজ ক্লাব”-এর নাম ব্যবহার করে খদভানু (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, ক্লাবটির সভাপতি শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক কাদিরের নেতৃত্বে ২৬ থেকে ৩০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর শুরু করে।

এ সময় খদভানু ও তার স্বামী টেনু মিয়া বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা তাদের ওপর চড়াও হয়। লাঠি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে তাদের গুরুতর আহত করা হয়। বিশেষ করে টেনু মিয়ার ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়, যার ফলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে এবং হাড় ভেঙে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা খদভানুকে টেনে-হিঁচড়ে ঘরের বাইরে এনে মারধর করে এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। তার চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অনার্সে অধ্যয়নরত তার মেয়ে মুক্তা আক্তার ঘটনাস্থলে ছুটে এলে তাকেও মারধর করা হয় এবং শ্লীলতাহানির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

হামলাকারীরা শুধু শারীরিক হামলাতেই থেমে থাকেনি; তারা বাড়ির দরজা-জানালা, আসবাবপত্র ও রান্নাঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। পরে তারা ঘরের ড্রয়ার ভেঙে নগদ এক লাখ দশ হাজার টাকা এবং প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় চার লাখ ষাট হাজার টাকা বলে অভিযোগে জানানো হয়েছে।

ঘটনার সময় ভুক্তভোগীদের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার আগে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়। তারা ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশ, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া এবং এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ঘটনার পর রাতভর হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়ির আশপাশে অবস্থান করে বলে জানানো হয়েছে, যার কারণে ভুক্তভোগী পরিবার আতঙ্কে ঘরবন্দী হয়ে পড়ে এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেনি।

পরদিন ভোরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আহতরা বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ গিয়ে চিকিৎসা নেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী খদভানু বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১৪ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে বাহুবল মডেল থানা-এ একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৭, ৩৮০, ৩৫৪, ৪২৭, ৫০৬ ও ১১৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অভিযুক্তরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তাদের হুমকি দিয়ে আসছিল এবং ঘটনার পরও মামলা না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে তারা এখনও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ বিষয়ে বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ