জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈশ্বিক মঞ্চে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে অর্থায়ন সংকট মোকাবিলা এবং একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামো গড়ে তোলার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘ইকোসক ফাইন্যান্সিং ফর ডেভেলপমেন্ট ফোরাম ২০২৬’-এর সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ আহ্বান জানান সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।
তিনি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে চলমান বহুমাত্রিক সংকটের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত, উন্নয়ন সহায়তা হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা এবং জ্বালানি খাতের অনিশ্চয়তা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও নীতিগত পরিসর ক্রমেই সীমিত করে দিচ্ছে। এর ফলে এসডিজি বাস্তবায়নে বড় ধরনের অর্থায়ন ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা পূরণে সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ এখন অত্যন্ত জরুরি।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রক্রিয়াকে টেকসই ও মসৃণ করতে প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও এই রূপান্তর প্রক্রিয়া যেন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত না করে, সে জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পুনরুদ্ধারের অগ্রগতিও তুলে ধরেন। তার ভাষায়, বর্তমান সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, ব্যবসায়িক আস্থা পুনর্গঠন, ব্যাংকিং খাতকে শক্তিশালী করা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে।
সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী আরও বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ঋণের ব্যয় কমানো, অকার্যকর অবকাঠামোভিত্তিক ঋণ থেকে সরে আসা এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে উৎপাদনশীল ও কর্মসংস্থানমুখী খাতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বৃদ্ধি করা সময়ের দাবি।
তিনি একটি অধিক প্রতিনিধিত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কার্যকর তহবিল গঠন এবং অবৈধভাবে পাচার হওয়া সম্পদ যথাযথ মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়ার বিষয়েও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় হতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতিসংঘের এই ফোরামে বাংলাদেশের এমন অবস্থান বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর অভিন্ন দাবি তুলে ধরেছে এবং এসডিজি অর্থায়ন ও ন্যায্য অর্থনৈতিক কাঠামো গঠনের আলোচনায় নতুন গতি যোগ করতে পারে।

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈশ্বিক মঞ্চে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে অর্থায়ন সংকট মোকাবিলা এবং একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামো গড়ে তোলার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘ইকোসক ফাইন্যান্সিং ফর ডেভেলপমেন্ট ফোরাম ২০২৬’-এর সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ আহ্বান জানান সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।
তিনি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে চলমান বহুমাত্রিক সংকটের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত, উন্নয়ন সহায়তা হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা এবং জ্বালানি খাতের অনিশ্চয়তা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও নীতিগত পরিসর ক্রমেই সীমিত করে দিচ্ছে। এর ফলে এসডিজি বাস্তবায়নে বড় ধরনের অর্থায়ন ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা পূরণে সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ এখন অত্যন্ত জরুরি।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রক্রিয়াকে টেকসই ও মসৃণ করতে প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও এই রূপান্তর প্রক্রিয়া যেন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত না করে, সে জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পুনরুদ্ধারের অগ্রগতিও তুলে ধরেন। তার ভাষায়, বর্তমান সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, ব্যবসায়িক আস্থা পুনর্গঠন, ব্যাংকিং খাতকে শক্তিশালী করা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে।
সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী আরও বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ঋণের ব্যয় কমানো, অকার্যকর অবকাঠামোভিত্তিক ঋণ থেকে সরে আসা এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে উৎপাদনশীল ও কর্মসংস্থানমুখী খাতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বৃদ্ধি করা সময়ের দাবি।
তিনি একটি অধিক প্রতিনিধিত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কার্যকর তহবিল গঠন এবং অবৈধভাবে পাচার হওয়া সম্পদ যথাযথ মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়ার বিষয়েও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় হতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতিসংঘের এই ফোরামে বাংলাদেশের এমন অবস্থান বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর অভিন্ন দাবি তুলে ধরেছে এবং এসডিজি অর্থায়ন ও ন্যায্য অর্থনৈতিক কাঠামো গঠনের আলোচনায় নতুন গতি যোগ করতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন