অফিস, বাসা কিংবা পাবলিক প্লেসে বসার সময় এক পা আরেক পায়ের ওপর তুলে বসা অনেকেরই স্বাভাবিক অভ্যাস। আরামদায়ক এই ভঙ্গি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের ধারণা প্রচলিত রয়েছে। কারও মতে এতে রক্তচাপ বেড়ে যায়, কেউ মনে করেন ভেরিকোজ ভেইনের ঝুঁকি তৈরি হয়, আবার গর্ভাবস্থায় এটি ক্ষতিকর বলেও অনেকে আশঙ্কা করেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, এসব ধারণার অনেকটাই অতিরঞ্জিত এবং বৈজ্ঞানিকভাবে সম্পূর্ণ সমর্থিত নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পা ক্রস করে বসা নিজে থেকে কোনো বড় ধরনের শারীরিক ক্ষতির কারণ নয়। এটি শরীরের জন্য স্বাভাবিক একটি বসার ভঙ্গি, যা অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছেন। তবে সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন কেউ দীর্ঘ সময় ধরে একই ভঙ্গিতে বসে থাকেন এবং শরীরকে নাড়াচাড়া করেন না।
গর্ভাবস্থায় পা ক্রস করে বসা নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা যায়। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের ব্যাখ্যায় বলা হয়, সাধারণভাবে এ ভঙ্গি গর্ভস্থ শিশুর ওপর কোনো সরাসরি প্রভাব ফেলে না। এটি শিশুর বিকাশ বা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় একভাবে বসে থাকা পা ফোলা, গোড়ালিতে চাপ বা ক্র্যাম্পের মতো সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা এ সময়ে মাঝে মাঝে ভঙ্গি পরিবর্তন এবং দুই পা মাটিতে রেখে বসার পরামর্শ দেন।
রক্তচাপের ক্ষেত্রে পা ক্রস করে বসলে সাময়িক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে বলে কিছু গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে। বিশেষ করে হাঁটুর ওপর হাঁটু তুলে বসলে রক্তচাপ সামান্য বাড়তে পারে। তবে এটি স্থায়ী কোনো পরিবর্তন নয় এবং কিছু সময় পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এটি উচ্চ রক্তচাপের কারণ নয়। তবে যাদের আগে থেকেই হাই ব্লাড প্রেশারের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় একই অবস্থানে না বসার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ভেরিকোজ ভেইন বা পায়ের শিরা ফুলে যাওয়ার সমস্যার সঙ্গে পা ক্রস করে বসার সরাসরি সম্পর্ক নেই বলে চিকিৎসকদের অভিমত। এই রোগ মূলত শিরার ভাল্ব দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণে হয়, যেখানে রক্ত ঠিকভাবে হৃদয়ের দিকে ফিরে যেতে পারে না। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা, বয়স, হরমোনজনিত পরিবর্তন এবং বংশগত কারণই এর প্রধান ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসল সমস্যা পা ক্রস করে বসা নয়, বরং দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকা। আধুনিক জীবনযাত্রায় মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে কাজ করে, যা পিঠ, কোমর এবং পেশির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এক পাশে পা তুলে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে পেলভিস বা কোমরের অবস্থানে সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে, যা ধীরে ধীরে ব্যথা বা অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত শরীরচর্চা, মাঝে মাঝে দাঁড়িয়ে চলাফেরা করা এবং বসার ভঙ্গি পরিবর্তন করা স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করলে প্রতি কিছু সময় পর পর শরীর নাড়াচাড়া করা উচিত, যাতে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে।
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত হলো, পা ক্রস করে বসা কোনো ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়। এটি সাময়িকভাবে কিছু শারীরিক পরিবর্তন আনতে পারে, তবে বড় কোনো রোগের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই। স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয় মূলত দীর্ঘ সময় অচল বসে থাকার কারণে, কোনো নির্দিষ্ট বসার ভঙ্গির কারণে নয়।
#আর
বিষয় : পায়ের ওপর পা

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
অফিস, বাসা কিংবা পাবলিক প্লেসে বসার সময় এক পা আরেক পায়ের ওপর তুলে বসা অনেকেরই স্বাভাবিক অভ্যাস। আরামদায়ক এই ভঙ্গি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের ধারণা প্রচলিত রয়েছে। কারও মতে এতে রক্তচাপ বেড়ে যায়, কেউ মনে করেন ভেরিকোজ ভেইনের ঝুঁকি তৈরি হয়, আবার গর্ভাবস্থায় এটি ক্ষতিকর বলেও অনেকে আশঙ্কা করেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, এসব ধারণার অনেকটাই অতিরঞ্জিত এবং বৈজ্ঞানিকভাবে সম্পূর্ণ সমর্থিত নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পা ক্রস করে বসা নিজে থেকে কোনো বড় ধরনের শারীরিক ক্ষতির কারণ নয়। এটি শরীরের জন্য স্বাভাবিক একটি বসার ভঙ্গি, যা অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছেন। তবে সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন কেউ দীর্ঘ সময় ধরে একই ভঙ্গিতে বসে থাকেন এবং শরীরকে নাড়াচাড়া করেন না।
গর্ভাবস্থায় পা ক্রস করে বসা নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা যায়। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের ব্যাখ্যায় বলা হয়, সাধারণভাবে এ ভঙ্গি গর্ভস্থ শিশুর ওপর কোনো সরাসরি প্রভাব ফেলে না। এটি শিশুর বিকাশ বা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় একভাবে বসে থাকা পা ফোলা, গোড়ালিতে চাপ বা ক্র্যাম্পের মতো সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা এ সময়ে মাঝে মাঝে ভঙ্গি পরিবর্তন এবং দুই পা মাটিতে রেখে বসার পরামর্শ দেন।
রক্তচাপের ক্ষেত্রে পা ক্রস করে বসলে সাময়িক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে বলে কিছু গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে। বিশেষ করে হাঁটুর ওপর হাঁটু তুলে বসলে রক্তচাপ সামান্য বাড়তে পারে। তবে এটি স্থায়ী কোনো পরিবর্তন নয় এবং কিছু সময় পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এটি উচ্চ রক্তচাপের কারণ নয়। তবে যাদের আগে থেকেই হাই ব্লাড প্রেশারের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় একই অবস্থানে না বসার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ভেরিকোজ ভেইন বা পায়ের শিরা ফুলে যাওয়ার সমস্যার সঙ্গে পা ক্রস করে বসার সরাসরি সম্পর্ক নেই বলে চিকিৎসকদের অভিমত। এই রোগ মূলত শিরার ভাল্ব দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণে হয়, যেখানে রক্ত ঠিকভাবে হৃদয়ের দিকে ফিরে যেতে পারে না। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা, বয়স, হরমোনজনিত পরিবর্তন এবং বংশগত কারণই এর প্রধান ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসল সমস্যা পা ক্রস করে বসা নয়, বরং দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকা। আধুনিক জীবনযাত্রায় মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে কাজ করে, যা পিঠ, কোমর এবং পেশির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এক পাশে পা তুলে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে পেলভিস বা কোমরের অবস্থানে সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে, যা ধীরে ধীরে ব্যথা বা অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত শরীরচর্চা, মাঝে মাঝে দাঁড়িয়ে চলাফেরা করা এবং বসার ভঙ্গি পরিবর্তন করা স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করলে প্রতি কিছু সময় পর পর শরীর নাড়াচাড়া করা উচিত, যাতে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে।
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত হলো, পা ক্রস করে বসা কোনো ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়। এটি সাময়িকভাবে কিছু শারীরিক পরিবর্তন আনতে পারে, তবে বড় কোনো রোগের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই। স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয় মূলত দীর্ঘ সময় অচল বসে থাকার কারণে, কোনো নির্দিষ্ট বসার ভঙ্গির কারণে নয়।
#আর

আপনার মতামত লিখুন