শিশুদের ঘাড়, বগল বা শরীরের ভাঁজযুক্ত অংশে অনেক সময় কালো ছোপ বা দাগ দেখা যায়, যা অনেক অভিভাবক সাধারণ ময়লা বা পরিচ্ছন্নতার অভাব বলে মনে করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণা সঠিক নয়। ত্বকের এ ধরনের পরিবর্তন অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করতে পারে।
শিশু এন্ডোক্রিনোলজিস্টদের মতে, বিশেষ করে স্থূল বা অতিরিক্ত ওজনযুক্ত শিশুদের ক্ষেত্রে ঘাড়ের পেছনে বা শরীরের ভাঁজে মখমলের মতো কালচে দাগ দেখা গেলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই অবস্থাকে ‘অ্যাকানথোসিস নিগ্রিক্যানস’ বলা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কোনো সাধারণ ত্বকের সমস্যা নয়, বরং শরীরের ভেতরের বিপাকীয় সমস্যার বহিঃপ্রকাশ। সাধারণত ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সঙ্গে এই উপসর্গের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
ইনসুলিন হলো অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত একটি হরমোন, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু যখন শরীরের কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি সঠিকভাবে সাড়া দিতে ব্যর্থ হয়, তখন তাকে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বলা হয়। এই অবস্থায় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় এবং শরীর অতিরিক্ত ইনসুলিন উৎপাদনে বাধ্য হয়।
চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের ক্ষেত্রে এই অবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত। কারণ এটি ভবিষ্যতে টাইপ–২ ডায়াবেটিসসহ একাধিক বিপাকীয় রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ না থাকলেও ত্বকের এই পরিবর্তন রোগ শনাক্তের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে।
শিশু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অ্যাকানথোসিস নিগ্রিক্যানস নিজে কোনো সংক্রামক বা প্রাণঘাতী রোগ নয়। তবে এটি শরীরের ভেতরের বড় কোনো সমস্যার বাহ্যিক লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়। তাই দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এই অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। প্রথমত, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। অতিরিক্ত চিনি, জাঙ্ক ফুড এবং অস্বাস্থ্যকর চর্বি কমিয়ে প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হবে। এতে রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা হয়।
দ্বিতীয়ত, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের খেলাধুলা, হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরে গ্লুকোজের ব্যবহার বাড়ে, যা ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত করে।
তৃতীয়ত, অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। চিকিৎসকদের মতে, ওজন কমাতে পারলে অনেক ক্ষেত্রেই ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি হ্রাস পায়।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, শিশুদের ত্বকে এমন পরিবর্তন দেখা দিলে তা ঘষাঘষি করে পরিষ্কার করার চেষ্টা না করে বরং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ অনেক সময় সাধারণ মনে হওয়া লক্ষণই বড় কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে।
বিষয় : শিশু ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
শিশুদের ঘাড়, বগল বা শরীরের ভাঁজযুক্ত অংশে অনেক সময় কালো ছোপ বা দাগ দেখা যায়, যা অনেক অভিভাবক সাধারণ ময়লা বা পরিচ্ছন্নতার অভাব বলে মনে করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণা সঠিক নয়। ত্বকের এ ধরনের পরিবর্তন অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করতে পারে।
শিশু এন্ডোক্রিনোলজিস্টদের মতে, বিশেষ করে স্থূল বা অতিরিক্ত ওজনযুক্ত শিশুদের ক্ষেত্রে ঘাড়ের পেছনে বা শরীরের ভাঁজে মখমলের মতো কালচে দাগ দেখা গেলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই অবস্থাকে ‘অ্যাকানথোসিস নিগ্রিক্যানস’ বলা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কোনো সাধারণ ত্বকের সমস্যা নয়, বরং শরীরের ভেতরের বিপাকীয় সমস্যার বহিঃপ্রকাশ। সাধারণত ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সঙ্গে এই উপসর্গের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
ইনসুলিন হলো অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত একটি হরমোন, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু যখন শরীরের কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি সঠিকভাবে সাড়া দিতে ব্যর্থ হয়, তখন তাকে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বলা হয়। এই অবস্থায় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় এবং শরীর অতিরিক্ত ইনসুলিন উৎপাদনে বাধ্য হয়।
চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের ক্ষেত্রে এই অবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত। কারণ এটি ভবিষ্যতে টাইপ–২ ডায়াবেটিসসহ একাধিক বিপাকীয় রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ না থাকলেও ত্বকের এই পরিবর্তন রোগ শনাক্তের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে।
শিশু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অ্যাকানথোসিস নিগ্রিক্যানস নিজে কোনো সংক্রামক বা প্রাণঘাতী রোগ নয়। তবে এটি শরীরের ভেতরের বড় কোনো সমস্যার বাহ্যিক লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়। তাই দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এই অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। প্রথমত, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। অতিরিক্ত চিনি, জাঙ্ক ফুড এবং অস্বাস্থ্যকর চর্বি কমিয়ে প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হবে। এতে রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা হয়।
দ্বিতীয়ত, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের খেলাধুলা, হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরে গ্লুকোজের ব্যবহার বাড়ে, যা ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত করে।
তৃতীয়ত, অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। চিকিৎসকদের মতে, ওজন কমাতে পারলে অনেক ক্ষেত্রেই ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি হ্রাস পায়।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, শিশুদের ত্বকে এমন পরিবর্তন দেখা দিলে তা ঘষাঘষি করে পরিষ্কার করার চেষ্টা না করে বরং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ অনেক সময় সাধারণ মনে হওয়া লক্ষণই বড় কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন