যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ রয়েছেন দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী। তারা ট্যাম্পায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ফ্লোরিডা-এর শিক্ষার্থী। নিখোঁজ দুজন হলেন জামিল লিমন ও নাহিদা এস বৃষ্টি। গত ১৬ এপ্রিল সর্বশেষ তাদের দেখা গেছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ বিভাগ। এরপর থেকে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর বয়সই ২৭ বছর। জামিল লিমন বিশ্ববিদ্যালয়টির ভূগোল, পরিবেশ ও নীতি বিভাগে পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন। অন্যদিকে নাহিদা এস বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ডক্টরাল গবেষণা করছেন। দুজনই উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ জানিয়েছে, ১৬ এপ্রিল সকাল প্রায় ৯টার দিকে ট্যাম্পায় বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন শিক্ষার্থী আবাসন এলাকায় সর্বশেষ জামিলকে দেখা যায়। একই দিন সকাল প্রায় ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে নাহিদাকে শেষবার দেখা যায়। এরপর তাদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার কয়েকদিন পর এক পারিবারিক বন্ধু কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। গত ১৭ এপ্রিল বিকেল প্রায় ৫টার দিকে তিনি নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর পৃথকভাবে দুজনের নিখোঁজ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে তাদের নাম অঙ্গরাজ্য ও জাতীয় পর্যায়ের নিখোঁজ ব্যক্তিদের ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে দুই শিক্ষার্থীকে খুঁজে বের করতে স্থানীয় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের দপ্তর তদন্ত চালাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ বিভাগও সমন্বিতভাবে অনুসন্ধান কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টম এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই-এর হেফাজতে নেই। ফলে তাদের আটক বা অভিবাসন-সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ার সম্ভাবনা আপাতত নাকচ করা হয়েছে। এ তথ্য সামনে আসার পর ঘটনাটি ঘিরে রহস্য আরও গভীর হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুই শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সহপাঠী ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ছবি ছড়িয়ে দিয়ে খোঁজ চাওয়া হচ্ছে। বন্ধু ও পরিচিতজনেরা দ্রুত তাদের সন্ধান পাওয়ার আশা প্রকাশ করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা বিরল হলেও এমন পরিস্থিতিতে সময়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিখোঁজ হওয়ার পর যত দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, মোবাইল ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং করা যায়, তত দ্রুত অগ্রগতি সম্ভব হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা নিয়মিত যোগাযোগে ছিলেন। হঠাৎ করে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুরু থেকেই উদ্বেগ তৈরি হয়। বাংলাদেশ থেকেও স্বজনরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জামিল লিমন ও নাহিদা এস বৃষ্টির অবস্থান সম্পর্কে কারও কাছে তথ্য থাকলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ বিভাগকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা আশা করছেন, জনসাধারণের সহায়তায় শিগগিরই নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সন্ধান পাওয়া যাবে।
#আর
বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ নিখোঁজ শিক্ষার্থী

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ রয়েছেন দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী। তারা ট্যাম্পায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ফ্লোরিডা-এর শিক্ষার্থী। নিখোঁজ দুজন হলেন জামিল লিমন ও নাহিদা এস বৃষ্টি। গত ১৬ এপ্রিল সর্বশেষ তাদের দেখা গেছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ বিভাগ। এরপর থেকে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর বয়সই ২৭ বছর। জামিল লিমন বিশ্ববিদ্যালয়টির ভূগোল, পরিবেশ ও নীতি বিভাগে পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন। অন্যদিকে নাহিদা এস বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ডক্টরাল গবেষণা করছেন। দুজনই উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ জানিয়েছে, ১৬ এপ্রিল সকাল প্রায় ৯টার দিকে ট্যাম্পায় বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন শিক্ষার্থী আবাসন এলাকায় সর্বশেষ জামিলকে দেখা যায়। একই দিন সকাল প্রায় ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে নাহিদাকে শেষবার দেখা যায়। এরপর তাদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার কয়েকদিন পর এক পারিবারিক বন্ধু কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। গত ১৭ এপ্রিল বিকেল প্রায় ৫টার দিকে তিনি নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর পৃথকভাবে দুজনের নিখোঁজ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে তাদের নাম অঙ্গরাজ্য ও জাতীয় পর্যায়ের নিখোঁজ ব্যক্তিদের ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে দুই শিক্ষার্থীকে খুঁজে বের করতে স্থানীয় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের দপ্তর তদন্ত চালাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ বিভাগও সমন্বিতভাবে অনুসন্ধান কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টম এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই-এর হেফাজতে নেই। ফলে তাদের আটক বা অভিবাসন-সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ার সম্ভাবনা আপাতত নাকচ করা হয়েছে। এ তথ্য সামনে আসার পর ঘটনাটি ঘিরে রহস্য আরও গভীর হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুই শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সহপাঠী ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ছবি ছড়িয়ে দিয়ে খোঁজ চাওয়া হচ্ছে। বন্ধু ও পরিচিতজনেরা দ্রুত তাদের সন্ধান পাওয়ার আশা প্রকাশ করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা বিরল হলেও এমন পরিস্থিতিতে সময়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিখোঁজ হওয়ার পর যত দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, মোবাইল ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং করা যায়, তত দ্রুত অগ্রগতি সম্ভব হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা নিয়মিত যোগাযোগে ছিলেন। হঠাৎ করে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুরু থেকেই উদ্বেগ তৈরি হয়। বাংলাদেশ থেকেও স্বজনরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জামিল লিমন ও নাহিদা এস বৃষ্টির অবস্থান সম্পর্কে কারও কাছে তথ্য থাকলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ বিভাগকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা আশা করছেন, জনসাধারণের সহায়তায় শিগগিরই নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সন্ধান পাওয়া যাবে।
#আর

আপনার মতামত লিখুন