সরকারি জমি ও চা বাগান ব্যবস্থাপনায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, রাষ্ট্রের এক ইঞ্চি জমির রাজস্বও ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না। তার ভাষায়, সরকারি জমি পুনরুদ্ধার এবং রাজস্ব আদায় বাড়ানো বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
এই বক্তব্য তিনি বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত একটি অবহিতকরণ সভায় দেন। সভার বিষয় ছিল চা বাগান ব্যবস্থাপনা এবং গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প-৩-এর অগ্রগতি। এতে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন জানান, দেশে বিদ্যমান চা বাগানগুলোর জমির সঠিক হিসাব দ্রুত নির্ধারণ করা জরুরি। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, ১৬৬টি চা বাগানের অধীনে থাকা মোট প্রায় ২ লাখ ৮২ হাজার একর জমির মধ্যে কোন অংশ চাষযোগ্য, কোনটি অনুপযোগী এবং কোনটি ব্যবহৃত বা অব্যবহৃত, তার পৃথক ও নির্ভুল তথ্য প্রস্তুত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যেসব চা বাগান থেকে রাজস্ব আদায় হয়নি, সেগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করতে হবে। কোন প্রতিষ্ঠান বা মালিকানা কী কারণে রাজস্ব পরিশোধ করেনি, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত বকেয়া আদায়ের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ দখলে থাকা সরকারি জমি চিহ্নিত করে তা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
সভায় হবিগঞ্জ জেলা-এর চা বাগান ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আবুল হাসেম। এতে জেলার চা বাগানগুলোর বর্তমান অবস্থা ও জমির ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।
গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প-৩ নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। প্রায় ৭৬৩ কোটি টাকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০ হাজার ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় সমতল, উপকূলীয় ও পার্বত্য অঞ্চলের জন্য আলাদা আবাসন মডেল তৈরি করা হবে বলে জানানো হয়। প্রতিমন্ত্রী প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন, যাতে প্রকৃত ভূমিহীনরা কোনোভাবেই বঞ্চিত না হন।
তবে সভায় দেওয়া বক্তব্যে “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায়” উল্লেখ করা হয়, যা প্রশাসনিক বাস্তবতার সঙ্গে অসঙ্গত। কারণ তারেক রহমান মূলত রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা হিসেবে পরিচিত, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়। এটি সম্ভবত বক্তব্য উপস্থাপনায় ভুল বা প্রাসঙ্গিকতা ব্যাখ্যার ঘাটতি হতে পারে।
সভায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী, যুগ্মসচিব জহিরুল ইসলাম, উপসচিব মো. শফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬
সরকারি জমি ও চা বাগান ব্যবস্থাপনায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, রাষ্ট্রের এক ইঞ্চি জমির রাজস্বও ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না। তার ভাষায়, সরকারি জমি পুনরুদ্ধার এবং রাজস্ব আদায় বাড়ানো বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
এই বক্তব্য তিনি বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত একটি অবহিতকরণ সভায় দেন। সভার বিষয় ছিল চা বাগান ব্যবস্থাপনা এবং গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প-৩-এর অগ্রগতি। এতে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন জানান, দেশে বিদ্যমান চা বাগানগুলোর জমির সঠিক হিসাব দ্রুত নির্ধারণ করা জরুরি। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, ১৬৬টি চা বাগানের অধীনে থাকা মোট প্রায় ২ লাখ ৮২ হাজার একর জমির মধ্যে কোন অংশ চাষযোগ্য, কোনটি অনুপযোগী এবং কোনটি ব্যবহৃত বা অব্যবহৃত, তার পৃথক ও নির্ভুল তথ্য প্রস্তুত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যেসব চা বাগান থেকে রাজস্ব আদায় হয়নি, সেগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করতে হবে। কোন প্রতিষ্ঠান বা মালিকানা কী কারণে রাজস্ব পরিশোধ করেনি, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত বকেয়া আদায়ের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ দখলে থাকা সরকারি জমি চিহ্নিত করে তা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
সভায় হবিগঞ্জ জেলা-এর চা বাগান ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আবুল হাসেম। এতে জেলার চা বাগানগুলোর বর্তমান অবস্থা ও জমির ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।
গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প-৩ নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। প্রায় ৭৬৩ কোটি টাকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০ হাজার ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় সমতল, উপকূলীয় ও পার্বত্য অঞ্চলের জন্য আলাদা আবাসন মডেল তৈরি করা হবে বলে জানানো হয়। প্রতিমন্ত্রী প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন, যাতে প্রকৃত ভূমিহীনরা কোনোভাবেই বঞ্চিত না হন।
তবে সভায় দেওয়া বক্তব্যে “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায়” উল্লেখ করা হয়, যা প্রশাসনিক বাস্তবতার সঙ্গে অসঙ্গত। কারণ তারেক রহমান মূলত রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা হিসেবে পরিচিত, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়। এটি সম্ভবত বক্তব্য উপস্থাপনায় ভুল বা প্রাসঙ্গিকতা ব্যাখ্যার ঘাটতি হতে পারে।
সভায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী, যুগ্মসচিব জহিরুল ইসলাম, উপসচিব মো. শফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন