পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় নিয়মবহির্ভূতভাবে একটি পারিবারিক কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে টেস্ট রিলিফ (টিআর) প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার কর্মসূচির আওতায় দেবীগঞ্জ উপজেলায় মোট ৯৭টি টিআর প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এসব প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৭ লাখ ৫৭ হাজার ৯১৪ টাকা। এর মধ্যে টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের বটতলী পঞ্জিয়া পাড়া এলাকার একটি কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
গত ৩০ নভেম্বর পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ত্রাণ শাখা থেকে প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রকল্প কমিটির সভাপতি হবিবর রহমান বলেন, “এটি আমাদের পারিবারিক কবরস্থান নয়। এখানে কয়েকজনকে দাফন করা হয়েছে। আমার বাবা প্রায় ১২-১৩ বছর আগে মারা যান, তখন থেকেই এটি কবরস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।”
তবে বুধবার (২২ এপ্রিল) সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ১২ শতাংশ জমির ওপর মাত্র একটি কবর রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, জায়গাটি মূলত পারিবারিক কবরস্থান হিসেবেই পরিচিত। কবরস্থানের তিন পাশে আগেই সীমানা প্রাচীর নির্মিত থাকলেও এক পাশে প্রাচীর নেই, যেটি নির্মাণের জন্যই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যমান প্রাচীরগুলোও কয়েক বছর আগেই তৈরি করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রায় ৮-১০ বছর আগে হবিবরের বাবা মারা গেলে এখানে দাফন করা হয়। এরপর আর কেউ এখানে দাফন হয়নি। আমরা এটিকে পারিবারিক কবরস্থান হিসেবেই জানি। এটি কোনো সাধারণ জনগণের ব্যবহৃত কবরস্থান নয়।”
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প অনুমোদনের চার মাস পার হলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি। তবে এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রথম কিস্তির অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচি বাস্তবায়ন নির্দেশিকা-২০২১’ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ নেই। নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, টিআর প্রকল্পের অর্থ শুধুমাত্র জনকল্যাণমূলক ও সর্বজনীন প্রতিষ্ঠানে ব্যয় করা যাবে।
এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায় বলেন, “প্রকল্পগুলো ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রস্তাব এসেছে। আমাদের কাছে এটি পারিবারিক কবরস্থান বলে কেউ জানায়নি। নীতিমালা অনুযায়ী প্রস্তাব পাওয়ায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।”
অন্যদিকে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় স্বচ্ছতা ও নীতিমালা অনুসরণের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় নিয়মবহির্ভূতভাবে একটি পারিবারিক কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে টেস্ট রিলিফ (টিআর) প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার কর্মসূচির আওতায় দেবীগঞ্জ উপজেলায় মোট ৯৭টি টিআর প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এসব প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৭ লাখ ৫৭ হাজার ৯১৪ টাকা। এর মধ্যে টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের বটতলী পঞ্জিয়া পাড়া এলাকার একটি কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
গত ৩০ নভেম্বর পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ত্রাণ শাখা থেকে প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রকল্প কমিটির সভাপতি হবিবর রহমান বলেন, “এটি আমাদের পারিবারিক কবরস্থান নয়। এখানে কয়েকজনকে দাফন করা হয়েছে। আমার বাবা প্রায় ১২-১৩ বছর আগে মারা যান, তখন থেকেই এটি কবরস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।”
তবে বুধবার (২২ এপ্রিল) সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ১২ শতাংশ জমির ওপর মাত্র একটি কবর রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, জায়গাটি মূলত পারিবারিক কবরস্থান হিসেবেই পরিচিত। কবরস্থানের তিন পাশে আগেই সীমানা প্রাচীর নির্মিত থাকলেও এক পাশে প্রাচীর নেই, যেটি নির্মাণের জন্যই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যমান প্রাচীরগুলোও কয়েক বছর আগেই তৈরি করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রায় ৮-১০ বছর আগে হবিবরের বাবা মারা গেলে এখানে দাফন করা হয়। এরপর আর কেউ এখানে দাফন হয়নি। আমরা এটিকে পারিবারিক কবরস্থান হিসেবেই জানি। এটি কোনো সাধারণ জনগণের ব্যবহৃত কবরস্থান নয়।”
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প অনুমোদনের চার মাস পার হলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি। তবে এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রথম কিস্তির অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচি বাস্তবায়ন নির্দেশিকা-২০২১’ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ নেই। নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, টিআর প্রকল্পের অর্থ শুধুমাত্র জনকল্যাণমূলক ও সর্বজনীন প্রতিষ্ঠানে ব্যয় করা যাবে।
এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায় বলেন, “প্রকল্পগুলো ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রস্তাব এসেছে। আমাদের কাছে এটি পারিবারিক কবরস্থান বলে কেউ জানায়নি। নীতিমালা অনুযায়ী প্রস্তাব পাওয়ায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।”
অন্যদিকে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় স্বচ্ছতা ও নীতিমালা অনুসরণের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন